বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশিত : ৭:০০ অপরাহ্ন বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
অনলাইন ডেস্ক: শ্বশুরবাড়িতে ঠাঁই না পেয়ে দুই শিশু সন্তানকে নিয়ে স্বামীর কবরের পাশে অবস্থান নিয়েছেন গৃহবধূ মোছা. সোনিয়া আক্তার (২৭)। গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার মধ্যপাড়া ইউনিয়নের উত্তর লস্করচালা গ্রামের এ দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ার পর স্থানীয় মানুষের মধ্যে নানা আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোনিয়া আক্তারের স্বামী সুজন মাহমুদ (৩৬) ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত হয়ে গত ২ এপ্রিল মারা যান। সোনিয়া আক্তারের অভিযোগ, শ্বশুরবাড়িতে আর্থিক সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যথাযথ চিকিৎসার অভাবে তার স্বামী ধুঁকে ধুঁকে মারা গেছেন। তার স্বামী স্থানীয় একটি গার্মেন্টে চাকরি করতেন। স্বামীর মৃত্যুর শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই তিনি জানতে পারেন, শ্বশুরবাড়িতে তার এবং সন্তানদের জন্য আর কোনো জায়গা নেই। সোনিয়ার দাবি, শ্বশুর কফিল উদ্দিন ও শাশুড়ি শিরীন বেগম ও পরিবারের অন্য সদস্যরা তাদের মেনে নিতে রাজি নন।
স্বামী হারানোর শোকের মধ্যেই দুই সন্তানকে নিয়ে দিশাহারা হয়ে পড়েন সোনিয়া। তার অসহায় অবস্থা দেখে স্থানীয় বাসিন্দা সাইফুল ইসলামের পরিবার মানবিক কারণে গত ২ এপ্রিল থেকে ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত আশ্রয় দেন। কিন্তু পরে নানা জটিলতার কারণে সেই আশ্রয়ও টেকেনি। সন্তানদের নিয়ে কোথাও ঠাঁই না পেয়ে রাতে বিভিন্ন জনের বাড়িতে অবস্থান করে গত তিন দিন ধরে দিনের বেশিরভাগ সময়ই স্বামীর কবরের পাশে অবস্থান করেন সোনিয়া। গতকাল স্বামীর কবরের পাশে কথা হয় সোনিয়া আক্তারের সঙ্গে। পাশে বসে ছিল ৯ বছরের কন্যা সাজিয়া মাহমুদ সোয়াদ, কোলে দেড় বছর বয়সি শিশুপুত্র সাইফান মাহমুদ। সোনিয়া আক্তার বলেন, ‘আমার অবুঝ দুটি শিশু সন্তানের অধিকার বুঝিয়ে দেওয়া হোক। আমি আমার সন্তানদের নিয়ে স্বামীর ভিটায় থাকতে চাই। স্বামীর বাইক বিক্রি করে এবং মানুষের কাছ থেকে সাহায্য চেয়ে এনে আমি স্বামীর চিকিৎসা করিয়েছি। তবুও তাকে বাঁচাতে পারলাম না।’ দুই সন্তানসহ অন্যের আশ্রয়ে থাকলেও এখন সেটিও নেই। আশ্রয়দাতার বিরুদ্ধে কালিয়াকৈর থানায় অভিযোগ দিলে সেখান থেকেও উচ্ছেদ করা হয়। তিনি বলেন, ‘আমি এখন কোথায় যাব? আমার তো যাওয়ার কোনো জায়গা নেই।’ এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ১১ বছর আগে সোনিয়া আক্তারকে পছন্দ করেন গার্মেন্টকর্মী সুজন মাহমুদ। পরে পারিবারিকভাবে বিয়ে হলেও তাদের এ বিয়ে সুজনের পরিবার মেনে নেননি। এদিকে সোনিয়ার বাবা কালিয়াকৈর পৌরসভার লালটেকি এলাকার বাসিন্দা শাহাবুদ্দিনও ইতোমধ্যে মারা গেছেন। নিহত সুজনের বাবা কফিল উদ্দিন ও তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলতে উত্তর লস্করচালা গ্রামের বাড়িতে গিয়ে কারও সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। প্রতিবেশীরা জানান, ঘটনার পর থেকে নিহত সুজনের বাবা কফিল উদ্দিন বাড়িতে থাকেন না।
স্থানীয় মধ্যপাড়া ইউনিয়নের মহিলা মেম্বার শাহিদা সুলতানা বলেন, ‘স্ত্রী তার শ্বশুর বাড়ির, সন্তানরা তাদের দাদার বাড়ির অধিকার ফিরে পাক সেটা আমিও চাই। আমরা এই সমস্যা দ্রুত সমাধান করে দেওয়ার চেষ্টা করছি। এজন্যে উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত আছে।’
কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, দুই পক্ষকে নিয়েই মীমাংসা করার চেষ্টা করছি, যদি মীমাংসা না হয় তাহলে আদালতের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন