বন্ধুত্ব I TARUNNO BD 24

0
755

বন্ধুত্ব

সুজাতা দাস (কোলকাতা)

রঙ্গনা-আজকের যুগের মহিলা-বিবাহিত স্বামী দুই সন্তান নিয়ে সুখের সংসার-
স্বামী প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী-পুত্র কন্যাও নিজ নিজ জায়গায় আজ প্রতিষ্ঠিত-স্বাচ্ছন্দ ও সাবলীল ভাবে এগিয়ে চলা সংসারের মধ্যে থেকেও- রঙ্গনার কী একটা নেই বা পেলাম না নিয়েই চলছিল-
একসময়ের বিরাট সংসার আজ কমতে কমতে ছোট্ট একটা পরিধিতে এসে ঠেকেছে-সেই কলরব আজ আর দেখা যায় না বা শুনতে পাওয়া যায় না-তাই হয়তো একাকিত্বে ভোগেন সবসময়-
আর এই একাকিত্ব কাটাতেই একসময় হাতে তুলে নেন স্মার্ট ফোন-
টুকটাক ফোন তো সবসময়ই করতেন একেতাঁকে-সেটাও একসময় আর ভালো লাগেনা রঙ্গনার-কারন এখন সকলেই অনেক ব্যস্ত-
প্রত্যেকেই কিছুনা কিছু কাজে ব্যস্ত থাকেন- রঙ্গনার বাপের বাড়ির প্রায় সকলেই চাকরি করেন-তাই সেভাবে কেউই সময় দিতে পারেন না রঙ্গনাকে-
একদিন হঠাত্ তার বাড়িতে এলো- খুব ছোট বেলার এক বন্ধু-অনেক দিন বাদে রঙ্গনার খুব ভালো কাটলো সারাটা দিন-মনের জমে থাকা গল্প সব একদিনেই শেষ করতে চায় হয়তো রঙ্গনা-যদি আর না আসে বন্ধুটি-
গল্প আড্ডার ফাঁকে ফাঁকে খাওয়া- ছোট্ট বেলার নানা খুনসুটি আর নানা বন্ধুর কথা-ছোটবেলায় কাটানো সময়ের স্মৃতি রোমন্থন এর মাঝে-কেমন করে যেন নিজের একাকিত্বের কথাও চলে এলো-
হাতে অফুরান সময় কাটানোর হদিস দিলেন সেই বান্ধবী-খুলে দিলেন ফেসবুক একাউন্ট্-কী ভাবে কী করতে হবে শিখিয়েও দিলেন সেই বন্ধুটি রঙ্গনাকে-যাবার সময় আবার আসার প্রতিশ্রুতি আর ফোনে সব বলে-শেখানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে ফিরে গেলেন-
শুরু হলো রঙ্গনার জীবনের নতুন অধ্যায়-এক অচেনা জগৎ একটু একটু করে অজানা জগতে প্রবেশ-কেমন যেন এক ভালোলাগা-ঘিরে থাকলো সবসময়-
সারাদিন তো চলতেই থাকলো- পারলে ঘুমের মাঝেও উঠে বসে একবার এফ বি চেক্ করতে ইচ্ছে করতো রঙ্গনার-
মাঝে মাঝে স্বামীর কাছেও বকা খেতে হয়েছে এর জন্য-
তবুও এই নেশা কাটাতে পারলো না-
নতুন নতুন বন্ধু- তাঁদের নতুন নতুন কথা একটা আনন্দে ভাসতে লাগলো রঙ্গনার মনকে-
সকালে উঠেই সকলকে সুপ্রভাত আর রাতে শুভ রাত্রি জানাতে ভুল হতো না কখনও-
তবে ভুল হয়ে যেত রান্না করার সময় অর্ধেক দিন রান্নাতে ডবল লবন- বা লবন না দেওয়া-হামেশাই ভাত পুরে যাওয়া ভুলে যাওয়ার কারনে-
স্বামী সর্বানন্দ কখনও রাগ করেননি খালি হেসে বলতেন-ফোনের সাথে সাথে এগুলোতেও মন দাও রঙ্গনা-
রঙ্গনার নতুন জগৎ ভুলিয়ে দিল সমস্ত যন্ত্রণা-সংসারের কাজের ফাঁকে ফাঁকে বন্ধুদের সাথে কথা বলতো রঙ্গনা-
দেখে দেখে বন্ধুদের রিকোয়েস্ট পাঠাত আবার দেখে দেখেই একসেপ্ট করত রঙ্গনা-
এই রকম ভাবেই একদিন দেখলো এক ভদ্রলোক রিকোয়েস্ট পাঠিয়েছেন-খানিকক্ষণ তাকিয়ে রইলো ছবিটার দিকে-চেনা কী?নিজেকেই প্রশ্ন-রঙ্গনার-
সরে এলো সেখান থেকে-সারাটা দিন কেমন যেন কাটলো-কিছুতেই মাথা থেকে সরাতে পারলো না-কাজের ফাঁকে ফাঁকে মনে করতে চেষ্টা করলো কোথায় দেখেছে-কেন এতো চেনা লাগছে!!!
বিকেলে আবার এফ বি খুলে বসলো-ফ্রেন্ড লিস্টে গিয়ে দেখতে থাকলো রঙ্গনা-
চেনা বড্ড চেনা- ভাবতে ভাবতে দেখলো কিছুতেই নৌকা থেকে নামতে পারছে না রঙ্গনা-সবাই নেমে গেছে নৌকোটা দুলতে দুলতে ঘাট ছেড়ে পিছোতে শুরু করলো-হঠাত্ একটা হাত এগিয়ে এসে শক্ত করে ধরলো রঙ্গনার-আর টেনে নামিয়ে আনছে নৌকা থেকে-
আমি আছি রঙ্গনা -তোমার চিন্তা কী!!!কথাটা শুনে তাকাতেই অবাক হলো রঙ্গনা-সমরেশ বাসু!!!
ধরফর করে উঠে বসলো রঙ্গনা-অসময়ে কী ভাবে ঘুমিয়ে পরেছিল ভাবতেই অবাক হলো-
আরও অবাক হলো স্বপ্নের কথাটা মনে পরাতে-মুখ দিয়ে বেরিয়ে এলো আশ্চর্য!!!!!
খানিকক্ষণ চুপ করে বসে রইলো রঙ্গনা বিছানার উপরে-মনে মনে ভাবলো একজন অচেনা মানুষ কিভাবে স্বপ্নে আসে!!!যে আমার ফ্রেন্ড লিস্টে নেই-
অনেক ভাবনাকে পার করে আজ একসেপ্ট করলো-সমরেশ বাসু কে-টুকটাক কথার ফাঁকে কেমন করে যেন খুব ভালো বন্ধুত্বও হয়ে গেল ঐ মানুষটার সাথে-যদিও দুজনে বিপরীত চরিত্রের তবুও বন্ধুত্বটা টিকে গেল-
মাঝে মাঝে অবাক হয় রঙ্গনা-রাগও করে তবুও একটা মিষ্টি অনুভূতি ঘিরে থাকে যেন সবসময় রঙ্গনাকে-
আজ সে আর একাকিত্বে ভোগে না-তার মনের ভিতরে না বলে জমে যাওয়া কথা গুলো-আর জমে নেই-
ব্যথা গুলোও কেমন করে যেন কবিতা হয়ে ভাসিয়ে নেয় রঙ্গনাকে-শুধু একটাই কথা ভাবে এখন-একেই কী বন্ধুত্ব বলে?-
আমার মনে হয় আমরা এতটাই ছুটছি নিজেদের প্রতিষ্ঠিত দেখবার জন্য- আমাদের বিপরীতে থাকা মানুষের একাকিত্ব টাকে ফিরে দেখছিনা-ভাবছি না,তারও কিছু ভালোলাগা মন্দলাগা- কিছু চাওয়া পাওয়া থাকতে পারে-তার প্রিয় মানুষটিকে ঘিরে-
আমার মনে হয়-এই অনেক না পাওয়া থেকেই হয়তো মন চলে যায়-সমরেশ বাসুর মতো বন্ধুদের দিকে- না চাইতেও-
এই ভাবেই হয়তো সৃষ্টি হয় পরকীয়ার-
সমাপ্ত

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে