বৃহত্তর নোয়াখালীর ঐতিহ্যঃ জ্বীনের মসজিদ।

0
351

অ অা আবীর আকাশ: জ্বীনের মসজিদ! নামটা শুনলেই মনে হবে এই মসজিদ বুঝি জ্বীনদের।।কিন্তু বৃহত্তর নোয়াখালীর লক্ষীপুরের রায়পুরে অবস্থিত জ্বীনের মসজিদটির নামকরণটা করা হয়েছে অন্য কারণে। মসজিদটি এলাকায় ‘মৌলভী আবদুল্লাহ সাহেবের মসজিদ’ বলে পরিচিতি হলেও এর সামনে সিঁড়ির কাছে লাগানো শিলালিপিতে একে ‘মসজিদ-ই-জামে আবদুল্লাহ’ বলা হয়েছে।

মূলত দিল্লী জামে মসজিদের নমুনায় প্রায় ২০০ বছর পূর্বে নির্মিত এই মসজিদটির নির্মান কাজ খুব দ্রুতই শেষ হয়,যেটি ছিল সে সময়ের জন্য কৌতূহল উদ্দীপক। অতি স্বল্প সময়ে এ মসজিদটি নির্মাণ কাজ শেষ হয় বলে মানুষের মুখে মুখে রটে যায় জ্বীনেরাই মসজিদটি নির্মানে কাজ করেছে।

লোকমুখে প্রচলিত আছে, মৌলভী আবদুল্লাহর কতিপয় জ্বীন শিষ্যরা রাতে মসজিদটির গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো সম্পন্ন করত। তাই এই ঐতিহাসিক মসজিদটি জ্বীনের মসজিদ নামে ব্যাপক পরিচিত। মসজিদের তলদেশে স্থাপিত পুকুরগুলোতে জ্বীনেরা গোসল করত বলেও প্রচলিত আছে। এলাকাবাসী জেনে আসছেন স্বল্প সময়ে গঠিত এ মসজিদটি নির্মাণ কাজে জ্বীনেরা সার্বিক সহযোগিতা করে গড়ে তোলে এবং নিয়মিত এবাদত করত বলে মসজিদটির নাম জ্বীনের মসজিদ নামে সুপরিচিত।

এই মসজিদটি স্বপ্নদ্রষ্টা ছিলেন মৌলভী আবদুল্লাহ।১৮২৮ সালে রায়পুরের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন মৌলভী আবদুল্লাহ। ছোট কাল থেকেই তার মধ্যে আধ্যাত্বিকতা লক্ষ্য করা যায়। ধর্মীয় শিক্ষা লাভের উদ্দেশ্যে আবদুল্লাহ ভারতের দেওবন্দে “মাদরাসায় দারুল উলুম”-এ ভর্তি হন। সেখানে দীর্ঘ ১৭ বছর ওলামায়ে কেরাম-এর সান্নিধ্যে থেকে উচ্চতর জ্ঞান ও দীনী শিক্ষালাভ করেন। দেশে ফেরার পথে দিল্লীতে “দিল্লী শাহী জামে মসজিদ” এর কারুকার্য তাকে আকৃষ্ট করে। দেশে এসে নিজ এলাকায় এই রকম একটি মসজিদ নির্মানের স্বপ্ন দেখেন।

অবশেষে কাজ শুরু করেন তার স্বপ্নের মসজিদ নির্মানের।মসজিদটি ১১০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৭০ ফুট প্রস্থ বিশিষ্ট এবং মাটি থেকে ১০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত। এর ভিটির উচ্চতা ১৫ ফুট যা ১৩ ধাপ সিঁড়িযুক্ত। এর দেয়ালের প্রস্থ ৮ ফুট। মসজিদের সম্মুখের মিনারটি ২৫ ফুট উচ্চতার তিন গম্বুজ বিশিষ্ট সু-উচ্চ প্রাচীর বিশিষ্ট এই মসজিদটির নিচে দক্ষিনাংশে একটি বিরাট প্রকোষ্ট রয়েছে; যেটি সব-সময় কালো পানিতে পূর্ণ থাকে। মসজিদটির তলদেশে ২০ ফুট নিচে রয়েছে ৩ কামরা বিশিষ্ট একটি গোপন ইবাদতখানা, যেখানে বসে ধ্যানে মগ্ন থাকতেন মাওলানা আবদুল্লাহ।

এ মসজিদটির পরিচর্যার জন্য একজন ইমাম ও খোৎবা ইমাম রয়েছেন। পবিত্র এই মসজিদটির নান্দনিক রূপায়ন ও অদ্ভুত অবকাঠামো এবং শৈল্পিক অবয়বের দিক থেকে এটি লক্ষ্মীপুর জেলায় একটি প্রাচীন নিদর্শন।সময় হলে নিজ এলাকার এই মসজিদটি দেখতে চলে যান।

কিভাবে যাওয়া যায়: লক্ষ্মীপুর বাস ষ্ট্যান্ড থেকে সি এন জি অথবা বাস যোগে যাওয়া যায়। রায়পুর বাস ষ্ট্যান্ড থেকেও সি এন জি যোগে যাওয়া যায়। রায়পুর পৌর শহর থেকে প্রায় ৮/৯ শ’ গজ পূর্বে পীর ফয়েজ উল্যা সড়কের দক্ষিণ দিকে মনোরম পরিবেশে গড়ে ওঠে।

Leave a Reply