সীতাকুণ্ডে শান্তিপূর্ণ ভাবে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন সম্পন্ন

0
227

সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি: দ্বিতীয় ধাপে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সীতাকুণ্ড উপজেলা পরিষদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ভাবে সম্পন্ন হয়েছে তবে ভোটার ছিল খুবই কম। দুপুর পর্যন্ত দেখা যায় অনেক কেন্দ্রে ১ পার্সেন্টের কম ভোট পড়ে। জানা যায়, দ্বিতীয় ধাপে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সীতাকুণ্ড উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের কোন বিরোধী পক্ষ না থাকায় নির্বাচনে তেমন একটা আমেজ ছিল না। তার উপর উপজেলা চেয়ারম্যান এস এম আল মামুন বিনা প্রতিদন্ধীতায় জয়ী হলে আমেজ একেবারেই কমে যায়। তবে পুরুষ এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ছিল একাধিক প্রার্থী। তাদের মধ্যে আওয়ামীলীগের এমপি সমর্থক ছিলেন, বর্তমান উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন সাবেরী ও জয়নব বিবি জলি। একই দলের অন্য প্রার্থী ছিলেন, মনিরুল ইসলাম, মো: ইউনুছ, কাজী গোলাম মহিউদ্দীন ও কামরুন নাহার নিলু। সবাই আওয়ামীলীগ প্রার্থী হওয়ায় নেতা কর্মীদের মধ্যে বিভক্তি দেখা দেয়। নির্বাচনে নিজেরাই নিজেদের প্রতীদন্ধীতা করেন। আরো জানা যায়, সীতাকুণ্ড উপজেলা পরিষদ নির্বাচন ৮৬ টি কেন্দ্রে ভোট অনুষ্টিত হয়। মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৯১ হাজার ৫৪৪ জন। ভোটের দিন সকালে পৌরসদরের দত্ত বাড়ী কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায় ভোটার শূন্য কেন্দ্র। মহিলা এবং পুরুষ কেন্দ্রে কয়েকটি মাত্র ভোট পড়ে। সকাল ১১ টায় কুমিরা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৭টি বুথে গিয়ে দেখা যায় ৭০০টি ভোটের মধ্যে মাত্র ৭টি ভোট পড়ে। এরপর ঘোড়ামরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে যায়, ভোটার শূন্য কেন্দ্র। ১২টি বুথের মধ্যে ৪টিতে একটিও ভোট পড়েনি। অন্যগুলোতে ২৫-৩০টি ভোট পড়ে। দুপুর ১২টায় ভাটিয়ারী হাজী টি এস সি উচ্চ বিদ্যালয়ের ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোটারের উপস্থিতি দেখা না গেলেও প্রিজাইডিং অফিসার রফিকুল আলম হাসনী বলেন, আমার এখানে মোট ভোটার ৪৬৯১। সকাল থেকে ভোটারের উপস্থিতি কমছিল। এ পর্যন্ত ১৫% ভোট কাষ্ট হয়। ওই কেন্দ্রের একটি মহিলা বুথে গিয়ে দেখা যায় একটি মাত্র ভোট কাষ্ট হয়েছে। এরপর ভাটিয়ারী বিজয় স্বরণী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রে গেলে দেখা যায় কোন ভোটার নেই। এমপি সমর্থিত প্রার্থীর এজেন্ট থাকলেও অন্য কোন প্রার্থীর এজেন্ট দেখা যায়নি। উপজেলার শুধুমাত্র বিজয় স্বরনী বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনটি কেন্দ্র রয়েছে। ৩টি কেন্দ্রের কয়েকটি বোথে মাত্র ০১টি করে ভোট পড়ে। বিজয় স্বরনী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬৭ নং কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমার এখানে মোট ভোটার ৪৬৬৭ জন। এখানে এখন পর্যন্ত ১% ভোট কাষ্ট হয়েছে। এরপর এম এ কাসেম রাজা উচ্চ বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায় আওয়ামীলীগ প্রার্থীর লোকজন বাইরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। সাংবাদিক এসেছে শুনে সবাই লাইনে দাড়িয়ে যায়। কেন্দ্রে প্রবেশের একটি গেইট বন্ধ পাওয়া যায়। দুপুর দুইটার দিকে ৩৭নং বাড়বকুন্ড উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায় ১০টি বুথের প্রতিটিতে ৮০ থেকে ৮৫টি ভোট পড়েছে। ওই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার লিটন চন্দ্র সূত্র ধর বলেন, আমার এখানে ৩৭৬৫ জন ভোটার। সকালে ভোটারের উপস্থিতি থাকলেও দুপুরের দিকে ভাটা পড়ে। এদিকে কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে ভাটিয়ারী থেকে ইফতেখার এবং কুমিরা থেকে সুজন নামে দুইজনকে আটক করা হয়।

মাইক প্রতীকে ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী মো: ইউনুছ বলেন, প্রতিটি কেন্দ্র থেকে আমার এজেন্ট বের করে দেয়া হয়েছে। শুধু ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী আলাউদ্দীন সাবেরীর তালা এবং জয়নব বিবি জলির পদ্ম ফুলের এজেন্ট ছাড়া অন্য কোন প্রার্থীর এজেন্ট প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দেলওয়ার হোসেন বলেন, ভোট কেন্দ্রে দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হলে সংঘর্ষ থামাতে ইফতেখার ও শিবলু নামে দুইজনকে আটক করা হয়। সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটানিং অফিসার মিল্টন রায় বলেন, কেন্দ্র থেকে প্রার্থীদের এজেন্টকে বের করে দেওয়া এবং প্রার্থীকে লাঞ্চিত করার কোন অভিযোগ আমার কাছে আসেনি। যদি কেউ অভিযোগ দেয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী আলাউদ্দিন সাবেরী বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠ হয়েছে। কোন অনিয়ম হয়নি। আমার এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানের ছাড়া অন্য কোন প্রার্থীর এজেন্টই ছিল না।

Leave a Reply