সদ্যেজাত শিশুকে সুস্থ, সবল রাখার উপায়

0
464

জম্মের পরের একটি বছর সব শিশুর জন্য খুব বেশী গুরুত্বপূর্ণ। এসময়ে শিশুকে ভালো রাখতে মা বাবা এমন অনেক কিছুই করে বসেন, যাতে ক্ষতিই হয় বেশী। জেনে নিন সদ্যেজাত শিশুকে ভালো রাখার সহজ কিছু উপায়।

ম্যাসাজঃ
সব মা’ই বাচ্চার শরীর হালকা ভাবে মালিশ বা ম্যাসাজ করার গুরুত্ব কম- বেশী বোঝেন। তাই গায়ে তেল মাখিয়ে মালিশ করতে ধেখা যায় ঘরে ঘরে। তবে খাওয়ার ঠিক আগে বা পরে ম্যাসাজ না করাই ভালো। বাদাম তেল ঘরে থাকলে তাই শিশুর গায়ে আলতো করে বুলিয়ে দিন। তার একটু পরে গোসল করান।

সাবধানে গোসল করানঃ
শিশুর ত্বক খুব স্পর্শকাতর। তাই গোসল করানোর সময় কুসুম গরম, অর্থাৎ হালকা গরম পানি ব্যবহার করবেন। বেশী গরম পানি শিশুর ত্বকের জন্য ক্ষতিকর। শ্যাম্পু ব্যবহার করলে ভালোবেসি শ্যাম্পুই ব্যবহার করুন। শ্যাম্পু করার সময় শিশুর চোখ ঢেকে রাখতে ভূলবেন না। তবে সদ্য জম্ম নেওয়া শিশুকে অবশ্যই প্রথম তিন সপ্তাহ গোসল না করালেও চলে। ওই সময় হালকা গরম পানিতে নরম কাপড় ভিজিয়ে তা দিয়ে গা মুছে দিলেই গোসলের কাজ হয়ে যায়।

যে ভাবে শোয়াবেনঃ
অনেক মা তার বাচ্চাকে ঘুম পাড়ানোর সময় অনেক গুলো কাপড় একসাথে পরিয়ে নেন। ব্রিটিনের শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ ডন কেলি বলেছেন, ঘুমানোর সময় শিশুকে আবহাওয়া অনুযায়ী হালকা কোন কাপড় পরানোই সবচেয়ে ভালো। তারমানে এই নয় যে, শীতের সময় অনেকগুলো শীতের কাপড় পরিয়ে তার পর আবার কম্বল বা লেপটাও দিবেন। ডন কেলিজ জানিয়েছেন, খুব বেশী গরম বাচ্চার স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
কাঁদলেই ভয় পাবেন না ঃ
শিশু কাঁদলেই ভয় পাবেন না। শিশুর কান্না মানেই যে সে খুব কষ্টে আছে তা কিন্তু নয়। যুক্ত রাষ্ট্রের শিশু স্বাস্থ বিষয়ক গ্রন্থের লেখিকা জেনিফার ওয়াকারতো বলেছেন ‘‘শিশুরা কাঁদার জন্যই প্রোগ্রাম করা। ওকাঁদছেন বলেই ধরে নেবেন না আপনি ভূল কিছু করেছেন। শিশু অনেক সময় কেঁদে কেঁদে আপনার সঙ্গে কথাও বলে।

দাঁতের যত্ন:
শিশুর দাঁতের যতœ নেয়া খুবই জরুরী। নিউইয়র্কের দন্ত্য চিকিৎসক প্রসন রস ও ওল বলেছেন, দুধ দাঁতের ও যতœ নিতে হয়। দাঁত ওঠার আগ পর্যন্ত ভেজা কাপড় দিয়ে শিশুর মাড়ি পরিষ্কার করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। আরো বলেছেন যাঁরা ঘুমানোর ঠিক আগে শিশুকে খাওয়ান, মাড়ি ফুড়ে দাঁত বেরোতে শুরু করলে ওই সময়ে খাওয়ানো বন্ধ করতে হবে।

প্রকৃতির কাছে নিয়ে যানঃ
শিশুকে যত প্রকৃতির কাছে নিয়ে যাবেন ততই ভালো। মোবাইল ফোন টেবলেট টেলিভিশনের এই যুগে এটা আরো বেশী দরকার। আমেরিকান পেডিয়াট্রিকস একাডেমি এক গবেষনা করে দেখেছেন, শিশুদের অন্তত দুবছর পর্যন্ত টিভি বা কম্পিউটারর পর্দার সামনে একেবারে না নেয়াই ভালো।
শিশুরা রং ভালোবাসেঃ
শিশুদের চারপাশের জগতটা রঙিন করার চেষ্টা করুন। শিশু রং ভালোবাসে। ভালোবাসাটা শুরু হয় আট নয় মাস বয়স থেকে। ওই সময় থেকেই শিশু নানা ধরনের রং, গন্ধ এবং স্পর্শের অনুভূতি বুঝতে শুরু করে।

চোখে চোখ রেখে হাসুনঃ
জম্মের পর খুব কম সময়ের মধ্যেই শিশু নিজের মতো করে খেলতে শুরু করে। এমনকি অন্যের অভিব্যক্তি, খুশি, আনন্দ বুঝতে শুরু করার আগেই ও আনন্দ করতে শুরু করে। শিশুর সঙ্গে হাসুন। চোখে চোখ রেখে হাসুন। মনে রাখবেন, শিশু কথা বলতে পারেনা, তাই চোখ দিয়েই অন্যের সঙ্গে কথা বলে।
বাবার সঙ্গেঃ
শিশুকে যা শিখাতে চান তা নিজে করে দেখাবেন। মা কে তো শিশু সব সময়ই কাছে পায়। বাবারও উচিত শিশু সন্তানের সাথে যতটা সম্ভব সময় কাটানো।

হাঁটাঃ
লক্ষ্য করবেন, ছোট জুতো পরার বয়স হওয়ার আগে কিন্তু শিশুরা সাধারনত হাঁটতে শেখেন। আগেতো এত ছোট উপযুক্ত জুতো-মোজা খুব একটা পাওয়া যেতনা। এখন আর শিশুর কোন পরিধেয়রই অভাব নেই বাজারে। সুতারাং হাঁটা শুরুর সময় শিশুকে ভালোজুতা-মোজা পরাতে ভূলবেন না। আর হ্যাঁ ওই সময় ‘ওয়াকার’ কিনে দিলেও শিশুর কাছাকাপি থাকার চেষ্টা করবেন।
প্রথম জম্ম দিনঃ
শিশুর প্রথম জম্ম দিনটা খুব ধুম ধাম করেই পালন করা হয়। খুব দীর্ঘহয় পার্টি। কিন্তু শিশুর কথা ভেবে প্রথম জম্মদিনের অনুষ্ঠানের পার্টি সংক্ষিপ্ত রাখা উচিত। ঘন্টা দুয়েকের মধ্যেই শেষ করা উচিত আনন্দ-ফুর্তি। শিশু আসলে বেশিক্ষণ আনন্দ হুল্লোড়ে ক্লান্ত হয়ে যায়।