মতলব উত্তর থানা পুলিশের অভিযানে কুখ্যাত-৩ ডাকাত গ্রেপ্তার

0
314

টিম মতলব উত্তর থানা পুলিশের সফল অভিযান। ৩ কুখ্যাত ডাকাত গ্রেপ্তার। দীর্ঘ ৫২ দিন পর লাশবাহী এ্যাম্বুলেন্স ডাকাতি ঘটণার রহস্য উদঘাটিত। আদালতে ধৃত ৩ ডাকাতের কাঃবিঃ দোষ স্বীকারোক্তী মূলক জবানবন্দি। মতলব উত্তর থানাধীন আনন্দবাজার টু ঘাসিরচর পাকা সড়কে গত ১৮ জানুয়ারী’২০১৯ খ্রীঃ তারিখ ভোর রাতে একটি লাশবাহী এ্যাম্বুলেন্সে সংঘটিত দুঃসাহসিক ডাকাতি ঘটণার রহস্য দীর্ঘ প্রায় ৫২ দিন পর উদঘাটন করেছে টিম মতলব উত্তর থানা পুলিশ।

মামলার ঘটণায় প্রকাশ, গত গত ১৭ জানুয়ারী’২০১৯ খ্রীঃ তারিখ দিবাগত ভোর রাত আনুমানিক ০৪০০ টার দিকে (১৮/১/১৯ খ্রীঃ) মতলব উত্তর থানাধীন আনন্দবাজার টু ঘাসিরচর পাকা রাস্তায় মজিদ বেপারীর বাড়ীর সামনে রাস্তায় গাছ ফেলে ঢাকা মেট্রো-চ-০২-০৫৩৯ নম্বরের একটি লাশবাহী এ্যাম্বুলেন্স আটকে লাশের সাথে থাকা আত্মীয়-স্বজনদের নগদ প্রায় ১,০৫০০০ টাকা, এবং প্রায় ১,৩৬,১৮০ টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার ও ৩টি মোবাইল সেট লুন্ঠন করে অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা। এম্বুলেন্সটি ঢাকা শ্যামলী শিশু হাসপাতাল হতে আফরিন আক্তার(৯) নামের এক শিশুর লাশ নিয়ে মতলব উত্তর থানাধীন শিকারীকান্দি গ্রামে যাচ্ছিল। আফরিনের চাচা মনির হোসেনের দায়েরকৃত এজাহারের ভিত্তিতে এ্যাম্বুলেন্স চালকসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩ জনের বিরুদ্ধে মতলব উত্তর থানার মামলা নং-১৩, তাং-১৯/১/১৯ খ্রীঃ, ধারা-৩৯৪ পেনাল কোড রুজু হয়। দীর্ঘদিন যাবত মামলাটির রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা করে যাচ্ছিল টিম মতলব থানা পুলিশ। স্থানীয়ভাবে প্রকাশ্য ও গোপনে তদন্তের পাশাপাশি তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে অফিসার ইনচার্জ মোঃ মিজানুর রহমানের সার্বিক দিক নির্দেশনায় পরিদর্শক(তদন্ত) মুরশেদুল আলম ভুঁইয়া ও এসআই ইসমাইল হোসেনের নেতৃত্বে এসআই গোলাম মোস্তফা, এসআই ফিরোজ আলম, এএসআই কাজী হাবিব, এএসআই নাহিদ, এএসআই জয়দেব, এএসআই আবু হানিফ এবং অন্যান্য অফিসার ফোর্স সহ মতলব থানা পুলিশের একটি শক্তিশালী টিম ১০ মার্চ দিবাগত রাত থেকে ১১ মার্চ মধ্যরাত পর্যন্ত মতলব উত্তর ও দক্ষিণ থানা, দাউদকান্দি এবং তিতাস থানা এলাকার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে প্রথমে উক্ত এ্যাম্বুলেন্স লুন্ঠন ঘটণায় জড়িত (১) জয়কৃষ্ঞ ঋষি(৩০), পিতা: মৃত ঈষান ঋষি, ও (২) লিটন মনি(৩০), পিতা: কালিদাস মনি, উভয় সাং- দূর্গাপুর, ঋষিকান্দি, উভয় থানা: মতলব উত্তর’কে এবং উল্লেখিত ধৃত ২ জনের স্বীকারোক্তি মূলক তথ্যের ভিত্তিতে কুমিল্লা জেলার তিতাস থানার লালপুর গ্রাম থেকে তাদের অন্যতম সহযোগী (৩)মোহাম্মদ আলী(৪০), পিতা: মৃত বাহার আলী প্রধান, সাং-খালপাড়, দূর্গাপুর, থানা:উত্তর মতলব’কে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। ১২ মার্চ ধৃত ৩ ডাকাত’কে আদালতে উপস্থাপন করা হলে চাঁদপুরের বিজ্ঞ চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট জনাব মোঃ নুরে আলম এঁর আদালতে আসামীরা অকপটে দোষস্বীকার করে কাঃ বিঃ ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করে। আসামীরা তাদের জবানবন্দিতে জানায়, একটি মাইক্রোযোগে ৬/৭ লাখ টাকা আসবে মর্মে ইনফরমেশনের ভিত্তিতে তারা ৩ জন আরও ৪ সহযোগীসহ পূর্বপরিকল্পনা করে ঘটণাস্থলে ডাকাতি করতে যায়। কিন্তু লাশবাহী এ্যাম্বুলেন্সকে ইনফরমেশন অনুযায়ী ৬/৭ লাখ টাকা বাহী মাইক্রো মনে করে করাত দিয়ে রাস্তার পাশের গাছ কেটে রাস্তায় ফেলে বর্ণিত ডাকাতি সংগঠিত করেছে। এভাবে দীর্ঘ ৫৩ দিন পর একটি ক্লূলেস ডাকাতি ঘটণার রহস্য উদঘাটণ করেছে টিম মতলব উত্তর থানা পুলিশ। পলাতক ৪ ডাকাতের সন্ধানে এবং লুন্ঠিত মালামাল উদ্ধারে বিভিন্ন স্থানে অভিযান অব্যাহত আছে। পাশাপাশি দঃবিঃ ৩৯৪ ধারায় রুজুকৃত মামলাটি পেনাল কোডের ৩৯৫/৩৯৭ ধারায় রুপান্তরের আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।

Leave a Reply