খরচ বাঁচানোর খুঁটিনাটি ও বাচ্চার হাত খরচ I TARUNNO BD 24

0
335

সন্তান টাকাপয়সার ব্যবহার বুঝতে পারার সঙ্গে সঙ্গেই আস্তে আস্তে মানি ম্যানেজমেন্টের সাথে পরিচিত করানোটা জরুরী। লিখেছেন-অনু হেমলতা।

অফিস, কাজ, স্যালারি, সেভিংস, কেনাকাটার ব্যাপারেও অবহিত করা দরকার। টাকা রোজগার, খরচ এবং সেভিংসের গুরুত্ব সহজ ভাষায় বুঝিয়ে বলা। মুখে মুখে সহজ যোগ -বিয়োগের সাহায্যে হিসেব করতেও শিখে যাবে।এইভাবে মানি ম্যানেজমেন্টের সাথে মেন্টাল ম্যাথসে ও এক্সপার্ট হয়ে উঠবে।
সুন্দর মাটির ব্যাঙ্ক বা টাকা জমানোর বক্স উপহার দেয়া যেতে পারে। মাসে একটা নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা বাচ্চাকে দেয়া উচিত হাত খরচ হিসেবে। জন্মদিন বা উৎসবে অন্যদের উপহার দেয়া টাকা যেন চটপট খরচ না করে ফেলে, জমানো জন্য বলা যেতে পারে। গল্পের বই, চকলেট, খেলনা, যাই কিছু কেনা হোক, তাতে যেন বাচ্চার তরফ থেকে একটা কন্ট্রিবিউশন থাকে।
ওদের পছন্দের জিনিসটি ওদের জমানো টাকা দিয়ে কেনা হলে, সেটার উপরে ওদের একটা মালিকানা থাকবে।‌

বাচ্চাদের চেক বই, পাস বইয়ের ব্যবহার শেখানো 

বাচ্চাদের চেক বই, পাস বইয়ের ব্যবহার শেখানো উচিত। তাদের কাছে বেশি টাকা জমলে বাইসাইকেল ভিডিও গেমের মতো শখের জিনিস কিনতে উৎসাহ দেয়া যেতে পারে। যদি বাচ্চা পুরো টাকা দিয়ে উঠতে না পারে, ঘাটতিটা পূরণ করে, কিন্তু টাকা জমিয়ে নিজের জন্য জিনিস কেনার পুরো বাহবা টা যেন বাচ্চা পায়, সে দিকে খেয়াল রাখা জরুরী।

ছোটবেলা থেকেই সন্তানকে ‘শখ’ এবং ‘প্রয়োজন’ -এর মধ্যে যে সুক্ষ্ণ পার্থক্যটা বোঝানো: 

ছোটবেলা থেকেই সন্তানকে ‘শখ’ এবং ‘প্রয়োজন’ -এর মধ্যে যে সুক্ষ্ণ পার্থক্যটা আছে সেটা শেখানো দরকার।
দুটো আলাদা খাতায় লিখে ফেলা উচিত,
একটাতে ‘শখ’ অন্য টাতে ‘প্রয়োজন’-এর তালিকা।
প্রয়োজনের মধ্যে পড়তে পারে, বাড়ি ভাড়া, মাসের বাজার, স্কুলের ফি, যাতায়াত ভাড়া, মানে যা ছাড়া সংসার চলবে না।
‘শখের’ তালিকায় জন্মদিনের উপহার,
বাহিরে খেতে যাওয়ার খরচ, পছন্দের খেলনা।
কিন্তু সীমিত টাকার মধ্যে প্রয়োজন আর শখ কীভাবে ব্যালেন্স করতে হয়, সেটা বাচ্চাদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে সেরে নিলে হয়। কাছাকাছির জায়গা গুলোতে গেলে রিক্সা বা সি এন জি ব্যবহার না করে, হেঁটে বা বাসে যাওয়ার অপশন বাচ্চাদের বোঝাবার চেষ্টা করা যেতে পারে।

বাজার করার সময় বাচ্চাদের সাথে নেওয়া: 

বাজার করার সময় বাচ্চাদের সাথে নিয়ে গিয়ে। সুপারশপ গুলোতে মাসিক প্রমোশন দেয়া হয়,
বাইওয়ান গ্যাটওয়ান, একটা কিনলে অন্যটা ফ্রি,
কোনটার দাম কম, কোন জিনিস একটু বেশি করে কিনলে সুবিধা হবে – বাচ্চাদের সাথে আলোচনা করতে করতে জিনিস পত্র বাছাইয়ের পর্ব শেষ করা যায়।
বাচ্চাদের জিনিস কেনার সময় তাদেরকে সিধান্ত নিতে দিলে, আস্তে আস্তে নূন্যতম খরচ করে প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে শিখে যাবে।

বাচ্চাদের ব্যক্তিগত কাজ যেমন ঘর গুছিয়ে রাখা,
কাপড় ভাঁজ করে করে রাখা, পড়ার টেবিল গুছানো এই কাজ গুলো তার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। এই দায়িত্ব গুলো তার পালন করা কর্তব্য।
তার স্কুলের জন্য রেডি হওয়া, সময় মতো পড়তে বসা,
এই কাজ গুলো যে তার, শুধুই তার, সেভাবে বুঝানো,
এতে আশা করছি বাচ্চাদের লাভই হবে।

Leave a Reply