ঋতুরাজ [ ছোট গল্প ]

18
1227

ঋতুরাজ [ ছোট গল্প ]

কবি লেখক ও কথা সাহিত্যিক
তোফায়েল আহমেদ ||
—–
রাজার শাসনে রাজ্য চলে প্রজা চায় সুখ। ঋতুরাজ বসন্ত এসেছে ধরায় প্রকৃতিকে সাজাতে অবারিতে সবুজ। চলছে খেলা প্রকৃতি ব্যপীয়া আপনাতে আপনা মিশিয়ে,সৃষ্টির সুধা, স্রষ্টার অবদান, নব যৌবন ধারা।

ষড় ঋতুর দেশ বাংলাদেশ। বার মাসকে বিভাজিত করতে শালিশ বসিয়ে প্রকৃতিতে ঋতুর উপযোগী চয়ন চালায় যথাযথ উপাদির নামকরণে। প্রথমে প্রকৃতি ঋতুর ভাগাভাগিতে সায় দিতে চায়নি। পরে সৃষ্টির মায়ায় জীববৈচিত্র্যের যাপনে প্রয়োজনের সাথে আয়োজনের সুবিধার্তে বিশাল বিরাট প্রকৃতি ছোট গল্পের আকারে নিজেকে খন্ডায়িত করতে ঋতুর সাথে সন্ধি করেছে সহযোগী উদ্দীপনায়। প্রকৃতি প্রারম্ভিকের সেই দিশে হারা ছিলো কিংকর্তব্যবিমূড়তায়।এখন অভ্যস্ত।

ঋতুর গল্প এখন বসন্তের করিডোরে বন্দি। বসন্ত নিয়েই ঋতুর বর্তমান কর্মধারা বিরাজিত। বসন্তের বয়স দুই মাস থাকে প্রকৃতিতে তার শাসন। ঋতুর পথ চলায় সময় এসেছে প্রকৃতি তার রঙ বদলাবে ঋতুর মিলন মেলায়। বসন্তের মেলা বসেছে অবারিত দেশ জুড়ে।নতুন স্নিগ্ধ আবেশে নিজেকে ঘুরে দাঁড় করাবে বাহারী অনিন্দ নান্দনিক কোমল রসিকতায়।

ফাগুন ও চৈত্রের স্রোতে গা ভাসিয়ে বসন্তের মরমী স্বাদে প্রাণকে উজ্জীবিত করবে রসায়নের যৌবন ধারায়।তারুণ্যতাকে জাগাবে অরুণের ধাঁরালো মচ-মচে নেশার চঞ্চলতায়। বাঁধভাঙ্গা স্রোতের সম ঝাঁপিয়ে পড়বে বসন্তের উপর। শুরু থেকে শুরু করবে জীবন। যৌবনের প্রথম স্বাদই আলাদা। জীবন টগবগ করে ভেতরে আন্দোলন করে সঙ্গত শিহরণে।এ এক অনুভবের বাড়ন্ত অস্থিরতা। বাঁধা মানেনা। সব শক্তি নিয়ে নিজের নির্যাসে যে ক্ষুধা জাগ্রত হয়ে আনাগোনা করে সুধা বাড়ায়, তাকে কাছে পেতে মরিয়া হয়ে উঠে। কত ফঁন্দি, সন্ধি বায়নার বাহানায় কল্পিত আয়নায় নিজেকে উপস্থাপন করে ভবের সংসারে তাহা অনুভূতিকে জিজ্ঞাসা করলেই অবহিত হওয়া যায় কিছুটা চেতনার ধমনী পারায়।

বসন্তের কত কাহিনী জীবনের ভেতর লুকানো থাকে। প্রকাশ পায়না ছন্দের দন্ধে।প্রকৃতি তার বাসর সাজায় ইচ্ছের রঙ দিয়ে। আপনাকে আপনায় মিশাতে কত দৌঁড় ঝাঁপ চলে। বার বার সে জীবিত হয় বসন্তের বিলাসী ছোঁয়ায়। আপন সত্তাকে প্রকাশ করে অবারিত সবুজের মহিমায়।মন থাকে তখন টসটসে টাটকা ছোঁয়ার অনুভূতির আনন্দ জোয়ারে কম্পিত নিশ পিশ স্পন্দনে।

এই সুন্দর ছায়া ঘেরা অনুপম কোমল নিবির শান্ত পরোপকারী বন্ধু নিঃস্বার্থ প্রকৃতি নিজেকে বিলিয়ে দেয় পৃথিবী নামক প্রত্যয়ে মানুষের মঙ্গল পরতে। প্রকৃতির মাঝে বসবাসরত অপর সৃষ্টির অমোঘ লিলাখেলায়। এ এক স্বভাবিত নিয়মের ধারাবাহিকতা। আর তাই পুরোনোকে ছিন্নের মাধ্যমে বিদায় জানিয়ে তাকিয়ে থাকে নবীন বরণে। এত দিনের লালিত পত্র পল্লবকে সোহাগে আদরে নিজের ডাল পালায় উদিত করে ভরণ পোষণে আগলে রেখেছে। সবাই চায় যৌবনের ছন্দ পেতে।

বসন্তের আগমনের আগেই নিজেকে প্রস্তুত করে রেখেছে নবীনের স্বাদ বরণে। আর তাই ঝরা পাতায় নিজেকে ঝরিয়েছে। সব রূপকে অবসান করে পূনরায় সেই আগের মত শক্তি সাহস ও রসে টইটুম্বর যৌবন নিয়ে রক্তের পরতে পরতে শিরায় উপশিরায় দৈহিক সৌন্দর্য আবার ফিরে পেতে। যৌবনের তুঁখুড়তা কে না চায়! সবাই চায় আজীবন নব যৌবনে জীবনানন্দ ও মনানন্দকে ঘর্ষণে বর্ষণে কালাতিপাত করতে মন রসে।তাই শরীর থেকে ডাল পালাগুলো খালি করে নতুন পোষাক পড়ার আশায় পিয়াস পিপাসায় দাঁড়িয়ে আছে চাতক চাতকীর আদতে মঙ্গল মধুময়তার তীক্ষ্ণ অন্বেষায়।

ফাগুনের আগুন অলি, দেরীতে আসলে কলি ভাব নিয়ে থাকে। সোহাগে আদরে এরুপ থাকা সৃষ্টির স্বভাব। অথচ, অলির আগমনের প্রত্যাশায় কলি দিবা- রাত জেগে থাকতো।। কত জল্পনা করে মনের হরষে নিজের জীবনকে নিয়ে। কিভাবে সৃষ্টির স্বাদ মিলনের মোহনায় গিয়ে একাকার হয়ে সংসার সাজাবে। সৃষ্টির রঙ্গীন উল্লাসে সৃষ্টির চাষাবাদ, বপন রোপন ফসল ঘরে তোলা এ যেন পারাপারের ভেলা। কলি দেখে ও দেখেনা অলিকে। আনমনায় লুকোচুরির বাহনায় অধর সহ মুখ বাঁকায়। আঁখির রকমারী চলন পলকে পলকে পাল্টায়। অলি কাছে যায় গুনগুনিয়ে নিজেকে শানিত করতে গোপন পারায়। কলি বসতে দেয় আবার বাঁধা দেয় হেলে দুলে। অলি আঁচলে জড়িয়ে কলির জীবনেকে রসায়নের তীরে দূর্বল করে ফেলে। ফুল ফুটাতে মনোযোগী হয়। সময়ের স্রোতে ফুল ফুটে সৃষ্টির স্বার্থকতা পায়।

এই চমৎকার বসন্তে কত কি যে দুজনায় প্রবাহিত হয় এপিঠ- ওপিঠ, সব পিঠে তা কি করে বলি। লজ্জাবতীর লজ্জায় থেকে থেকে কাব্যের টানে ছন্দের কিছু কথন সাহিত্যের লিপিকায় স্মৃতির অক্ষরে কল্পনায় অল্পের আঁচর কেটে উদয় করে ন্যাংটা কলমের খোঁচায় কাগজের বুকে প্রস্ফুটিত হলো। তা না হলে সাহিত্য অভিমান করে কাব্য রস হারাবে বলে ভয় দেখিয়েছে।কলি ফুল ফুটায়না লজ্জায় অলির বাসর পরশে এপাশ ওপাশ দলিতে মথিতে পাঁপড়িগুলো দুলিয়ে কলিদের চলে কত মান- অভিমান।

বসন্ত আসবে বলে তৃষিত দেহ নিয়ে অধির আগ্রহে কামনা বাসনাকে মনোযোগে কল্পির সুধা মিশিয়ে প্রকৃতি সবুজ শাড়িতে আপনাকে সাজায় কায়মনে। নব যৌবনে আবার তারুণ্যতা পাবে সৃষ্টির স্বভাব খেলায় মেতে উঠবে রুপের বাহারী শালায়। ফুল ধীরে ধীরে ফুটে। সুভাস ছড়ায় পবনের কাঁধে উঠে। সবুজের বিস্তৃতি বাড়ে যেখানে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা প্রকৃতির অয়োবে।

ফাগুনের আয়োজনে কোকিল ডাকে। পাখির গানে সুর বাড়ে। নীল আকাশের নীচে সবুজের চিত্রাঙ্কন চলে।
বসন্তের বাসন্তীরা মেতে উঠে কলকাকলীতে সবুজের
মিতালীতে। হৃদয় বাড়ায় হৃদয় হারায়। পুরো প্রকৃতির শরীর থেকে পথ চলায় এক প্রকার নয় বহুরকম ঘ্রাণ পাওয়া যায়। যা মনকে বিশুদ্ধ করে হরষ প্রসারিত করে সৃষ্টির জীবন যাপনে।

বসন্তকে ঋতুর রাজা বলা হয়। কারণ তার অনেক সুনাম ও যশ খ্যাতি প্রকৃতিতে অবদান রাখে। যখন আসে। বসন্ত হলো সুন্দরীর নয়নাভিরামের রুপ বৈচিত্যের নাম। অপরুপার লাবন্যেঘেরা স্নিগ্ধ সুভাসিত মনকারা দৃষ্টির মিতালীপনার হিয়ার বান্ধবী ঋতুর ডাকনাম। যা যৌবনকে রাজটিকার মালা উপহার দেয়। অনুভূতিকে চাঙ্গা করে মননে রঙ লাগিয়ে জীবনকে সুন্দর করে যাপন পরিক্রমায়। বসন্তের গল্প লেখলে শেষ হয়না। হতে গিয়ে ও রেশ থেকে যায় আরো লেখার। মনন শিরা টান করে সমাপ্তি টানা যায় না। আরে বারে কল্পনা তৈরী করে যায় শব্দের বাহারী রূপায়ন।
———————-

18 মন্তব্য

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে