কমলনগরে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মসজিদ মাদ্রাসার জমি দখল চেষ্টার অভিযোগ!

0
739

লক্ষীপুর প্রতিনিধি:  মাদ্রাসা ও মসজিদের জমি জবর দখল চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে স্থানীয় চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে লক্ষ্মীপুর জেলার কমলনগর উপজেলার চর শামসুদ্দিনে।

সরোজমিনে গিয়ে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে চর শামসুদ্দিন জাহেরিয়া মাদ্রাসা ও স্থানীয় বায়তুন নূর জামে মসজিদের ৩একর ৩৬ শতাংশ জমি সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে জবর দখল করার চেষ্টা করছিল একই উপজেলার চরমার্টিন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও একই ইউনিয়নের আওয়ামীলীগ সভাপতি ইউসুফ আলী মিয়া।

জানা গেছে চেয়ারম্যান এর বাবা রুহুল আমিন মিয়াও দীর্ঘদিন ধরে জবর দখলের চেষ্টা চালিয়েছিল। উক্ত জবর দখলের প্রতিবাদে স্থানীয় গ্রামবাসী, মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রী, অভিভাবক ও শিক্ষকমন্ডলীর ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন করে মাদ্রাসা প্রাঙ্গনে।

৩ একর ৩৬ শতাংশ জমি মাদ্রাসার মালিকানাধীন থাকলেও রুহুল আমিন মিঞার লোলুপ দৃষ্টি পড়ে। তার বৃদ্ধতার কারণে ছেলে এবার চর মাটিনের চেয়ারম্যান ইউসুফ আলী মিয়া তার পোষা বাহিনী দিয়ে জবর দখলের চেষ্টা করে। গত ২৭ জানুয়ারি সোলেমান সিরাজ, আফসার আহম্মেদ হিমেল, শরিফ উদ্দিন প্রিন্স, আলামিন ও জাহাঙ্গীরসহ ১৫-২০ জনের দল নিয়ে চেয়ারম্যান ইউসুফ আলী মিয়া ৩ একর ৩৬ শতাংশ জমি জবর দখলের পাঁয়তারা করে। উক্ত জমি জবর দখল চেষ্টার প্রতিবাদে এলাকাবাসী বিক্ষোভে ফেটে পড়ে।

জানা গেছে চরসামসুদ্দিন জাহেরীয়া মাদ্রাসায় 25 জন শিক্ষক ও পনেরশো ছাত্র-ছাত্রী অধ্যায়ন করছে। এ মাদ্রাসা ইবতেদায়ী প্রথম শ্রেণী থেকে দাখিল পর্যন্ত পড়ালেখা হয়।
মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি এডভোকেট ওসমান গনি বলেন -দীর্ঘদিন ধরে চেয়ারম্যান ইউসুফ আলী মাদ্রাসা ও মসজিদের জমি অবৈধভাবে জবর দখলের চেষ্টা করছিল। সর্বশেষ গত 27 জানুয়ারি তার পোষা বাহিনী নিয়ে জমি জবর দখলের চেষ্টা করে। তারা এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করতে ককটেল ও বাজি ফোটায়। জাহেরিয়া মাদ্রাসার মালিকানাধীন উক্ত 3 একর 36 শতাংশ জমির কাগজপত্র, খতিয়ান, রেকর্ড হালনাগাদ করা আছে।

স্থানীয় 4 নং চর মার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক মেম্বার আনিসুর রহমান হৃদয় বলেন- যারা ঐতিহ্যবাহী চরশামসুদ্দিন জাহিরিয়া দাখিল মাদ্রাসার মালিকানাধীন জমি দখল করার অপচেষ্টা করছে, তারা প্রকৃত অর্থেই উক্ত দ্বীনি প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করার পাঁয়তারা করছে। আমি উত্ত মাদ্রাসার ছাত্র হিসেবে জবর দখলের প্রতিবাদ ও তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করি। এ ঘটনায় লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সুদৃষ্টি কামনা করছি।

এদিকে মাদ্রাসায় যারা মানববন্ধনে অংশ নেয় তাদের নানা ভাবে হয়রানি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে ইউসুফ আলী মিয়ার বিরুদ্ধে। জানা গেছে ইউসুফ আলী মিয়া চেয়ারম্যান ও একই সাথে স্থানীয় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি হয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সদস্য হাজী জয়নাল আবেদীন, আব্দুর জব্বার,সিরাজ রাজা, আব্দুর রব মাঝি ও মনিরকে মামলা-হামলায় জড়াবে বলে হুমকী ধমকী দেয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেয় তাহলে যে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে যেতে পারে বলে স্থানীয়রা জানান।

এ বিষয়ে চেয়ারম্যান ইউসুফ আলী মিয়াকে একাধিকবার ফোনে চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি বিধায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে