আইনশৃঙ্খলায় ৬ লাখ সদস্য মাঠে

38
879

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিশ্ছি দ্র নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ৬ লাখ ৮ হাজার সদস্য এখন মাঠে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশমতো কঠোর নিরাপত্তা দানে সারা দেশ চষে বেড়াচ্ছেন তারা। পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি, আনসারসহ স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা টহলে রয়েছেন। গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় যানবাহন তল্লাশি করতে দেখা গেছে সেনাবাহিনীকে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শান্তিপূর্ণ সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সব বিভাগ একযোগে কাজ করছে। নির্বাচনে পুলিশ ১ লাখ ২১ হাজার, আনসার ৪ লাখ ৪৬ হাজার, গ্রামপুলিশ ৪১ হাজার, সেনাবাহিনী ৪১৪ প্লাটুন, নৌবাহিনী ৪৮ প্লাটুন, কোস্টগার্ড ৪২ প্লাটুন, বিজিবি ১০১৬ প্লাটুন, র‌্যাব ১০ হাজার মোতায়েন করা হয়েছে। রাজধানী ঢাকায় প্রায় দেড় হাজার ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এসব কেন্দ্রসহ মোট ২ হাজার ১১৩টি কেন্দ্রে ৪৫ হাজার পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েন করা হবে। এর মধ্যে পুলিশের থাকছে প্রায় ২০ হাজার সদস্য এবং অঙ্গীভূত আনসারের প্রায় ২৫ হাজার সদস্য। এ ছাড়া বিশেষ নজরে থাকছে ৩০টি ঝুঁকিপূর্ণ জেলা ও ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র। কড়া দৃষ্টি থাকছে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোর দিকে। জানা গেছে, গত দুই দিন ধরে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন আবাসিক এলাকার বিভিন্ন বাসাবাড়িতে তল্লাশি করেছে পুলিশ। নিরাপত্তার অংশ হিসেবে নির্বাচন-পরবর্তী আরও কয়েকদিন এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে নিশ্চিত করেছেন সূত্র। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী গত রাত ১২টার পর থেকে ২ জানুয়ারি মধ্যরাত পর্যন্ত মোটরসাইকেল চলাচলে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। আজ (শনিবার) রাত ১২টার পর থেকে মহানগরে বাস, ট্যাক্সি, কারসহ সব ধরনের যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে প্রার্থী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্টিকারযুক্ত যানবাহনের ক্ষেত্রে এসব নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য নয়।

র‌্যাবের প্রস্ততির বিষয়ে বাহিনীর অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপস্) কর্নেল জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমরা বেশকিছু নতুন জায়গায় নতুন ক্যাম্প স্থাপন করেছি। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর দিকে থাকবে আমাদের বিশেষ নজর। সবকিছু আমলে নিয়েই র‌্যাব সদস্যরা প্রস্তুতি নিয়েছে। আমাদের নিজস্ব দুটি ও সশস্ত্র বাহিনীর আরও দুটি হেলিকপ্টার নিয়ে সক্রিয় থাকবে র‌্যাব সদস্যরা।’

জানা গেছে, কেবল নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আনসার ও ভিডিপি বাহিনীর পক্ষ থেকে ৩০ হাজার আগ্নেয়াস্ত্র এবং ৩০ লাখ গোলাবারুদ কেনা হয়েছে। অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে ৭.৬২ চাইনিজ রাইফেল ও শর্টগান। এর বাইরে বাহিনীর সদস্যরা থ্রিনটথ্রি রাইফেল দিয়ে দায়িত্ব পালন করবেন। সারা দেশের ৪০ হাজার ১৮৩টি ভোট কেন্দ্রে ৪ লাখ ৮২ হাজার ১৯৬ জন আনসার-ভিডিপি সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে রয়েছেন ১৮ হাজার ব্যাটালিয়ন আনসার। প্রতিটি কেন্দ্রে একজন প্লাটুন কমান্ডার ও সহকারী প্লাটুন কমান্ডার দায়িত্ব পালন করবেন। প্রতি কেন্দ্রে থাকবে ১২ জন আনসারের টিম। আনসার-ভিডিপির পরিচালক (অপারেশন) ড. মোহাম্মদ সাইফুর রহমান জানান, ১৯৭২ সালের নির্বাচনী আইন অনযায়ী ধারা-২-এর ১১ অনুসারে প্রিসাইডিং অফিসারের নির্দেশনা অনুসারে আমাদের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। ঝুঁকিপূর্ণ ২৬ হাজার কেন্দ্রে দুজন ও অন্য কেন্দ্রগুলোয় একজন করে সশস্ত্র আনসার দায়িত্ব পালন করবেন। ১২ জনের প্রতিটি টিমে চারজন করে মহিলা আনসার দায়িত্ব পালন করবেন। জেলা কমান্ড্যান্ট, থানা আনসার-ভিডিপি অফিসার ও থানার টিআইরা সমন্বয় করবেন। এদিকে, উপকূলীয় এলাকার নিরাপত্তা নিñিদ্র করতে ২২ ডিসেম্বর থেকে ৪২ প্লাটুন কোস্টগার্ড মোতায়েন করা হয়েছে। এরই মধ্যে কোস্টগার্ডের সদস্যরা ভোলা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজারে টহল দেওয়া শুরু করেছেন। বাংলাদেশ কোস্টগার্ড সদর দফতরের সহকারী গোয়েন্দা পরিচালক (গোয়েন্দা) লে. কমান্ডার আবদুল্লাহ আল মারুফ গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষ্যে কোস্টগার্ডের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। মোতায়েন করা এলাকাগুলোর মধ্যে ভোলা সদরে মোবাইল বা স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে ১৯ প্লাটুন, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের উপকূলীয় এলাকায় ১২ প্লাটুন এবং খুলনা বিভাগের খুলনা-১ আসনের দাকোপে ৯টি ইউনিয়নে দায়িত্ব পালন করবে ১০ প্লাটুন কোস্টগার্ড। সম্প্রতি সেনা মোতায়েন নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘সেনাবাহিনী মোতায়েনের ফলে ভোটারদের মনে আস্থা বাড়বে। এ সুযোগে আমি সব রাজনৈতিক দলের কাছে বিনীতভাবে অনুরোধ করিÑ নির্বাচন যেন নির্বাচনের মতো হয়।’ সহিংসতা, নিজেদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি, তর্ক-বিতর্ক, হাঙ্গামা পরিহার কওে কেবল নির্বাচনী প্রচারণার মাধ্যমে নির্বাচনে নিবদ্ধ থাকার জন্য অনুরোধ করেন তিনি। ১১ নভেম্বর সারা দেশকে চারটি বৃহত্তর অঞ্চলে ভাগ করে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে মনিটরিং সেল ও কো-অর্ডিনেশন কমিটি করে দায়িত্ব দেওয়া হয় পুলিশের আট কর্মকর্তাকে। র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ এবং হাইওয়ে রেঞ্জের ডিআইজি আতিকুল ইসলাম রাজশাহী ও রংপুর মহানগর এবং রেঞ্জের দায়িত্ব পালন করবেন। ঢাকা ও গাজীপুর মহানগর এবং ঢাকা ও ময়মনসিংহ রেঞ্জ দেখবেন ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া ও স্পেশাল অ্যাকশন গ্রুপের উপকমিশনার প্রলয় কুমার জোয়ারদার। খুলনা ও বরিশাল মহানগর এবং রেঞ্জ পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব পেয়েছেন এসবির অতিরিক্ত আইজিপি মীর শহীদুল ইসলাম ও ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ও কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম। চট্টগ্রাম ও সিলেট মহানগর এবং রেঞ্জের তদারক করবেন অতিরিক্ত আইজিপি মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম ও পুলিশ সদর দফতরের ডিআইজি (প্রশাসন) হাবিবুর রহমান। পুলিশ সদর দফতরের সহকারী পুলিশ মহাপরিদর্শক সোহেল রানা বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দেশের বিভিন্ন এলাকার কেন্দ্রের প্রকৃতি অনুসারে সাজানো হয়েছে নিরাপত্তা আয়োজন। যে কোনো ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাখা হয়েছে মোবাইল টিম, স্ট্রাইকিং ফোর্স ও কুইক রেসপন্স টিম। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী অন্য বাহিনীগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করেই নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করবে পুলিশ। ২৪ ডিসেম্বর রাত ১২টা থেকেই টহলে নেমেছে সেনাবাহিনী। স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে ৪০৭ উপজেলায় সশস্ত্র বাহিনী দায়িত্ব পালন করবে। এর মধ্যে ৩৮৯ উপজেলায় সেনাবাহিনী ও ১৮ উপজেলায় নৌবাহিনী টহল দেবে। প্রতি জেলায় ১ ব্যাটালিয়ন করে ৩০ হাজারের বেশি সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য থাকবেন। তারা ২৪ ডিসেম্বও থেকে ২ জানুয়ারি পর্যন্ত মাঠে থাকবেন বলে জানিয়েছে আন্তবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর)। নিরাপত্তার অংশ হিসেবে ১৮ ডিসেম্বর থেকে সারা দেশে মাঠে নেমেছে ১ হাজার ১৬ প্লাটুন বিজিবি (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ)। এর মধ্যে ঢাকায় থাকছে ৫০ প্লাটুন। ২ জানুয়ারি পর্যন্ত মাঠে থাকার কথা রয়েছে বিজিবি সদস্যদের। এ ছাড়া প্রশাসন ক্যাডারের ৬৪০ জন কর্মকর্তাকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার ক্ষমতা দিয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। তারা নির্বাচনী এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি বিভিন্ন অপরাধ প্রতিরোধ এবং নির্বাচনী আচরণবিধি লংঘনসংক্রান্ত অপরাধ প্রতিরোধে দায়িত্ব পালন করবেন।

সূত্রঃঃ বিডি প্রতিদিন  

38 মন্তব্য

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে