ভোট কেন্দ্রে সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি করুন, ভোট বিপ্লব ঘটবে

0
698

অ আ আবীর আকাশ: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা ও ধানের শীষ প্রতীকে লড়াই হবে তুঙ্গে। দীর্ঘ ক’বছর পর আকাঙ্ক্ষিত সেই ভোট বা নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠার দিন এসেছে বলে বিজ্ঞ মহল মনে করেন। সাধারন জনগনের মাঝে ভোট দেয়ার খুশি দেখা গেলেও যতই নির্বাচনের তারিখ ঘনিয়ে আসছে ততই যেন আতঙ্ক বিরাজ করছে তাদের মনে। আশা ছেড়ে দিয়ে ভোটাররা নানা সমালোচনায় লিপ্ত হচ্ছেন। তবে তারা মনে করেন সুযোগ পেলেই তারা ভোট কেন্দ্রে যাবেন, মনোনীত ব্যক্তিকে ভোট দেবেন।

এদিকে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেয়ার পরিবেশ ক্রমান্বয়ে ঘোলাটে হয়ে যাচ্ছে। অতীতে সরকার নির্বাচনের ভোট গ্রহণ পদ্ধতি এত চাটুকার পূর্ণ ছিল না দাবি করে প্রবীণ ভোটাররা বলেন এ বৎসর সরকার কি নাগরিক অধিকার কুক্ষিগত করেছে? নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে সাধারণ জনগণকে?

তবে তারা যে যাই বলুক একটা সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে, সুযোগ পেলে ভোট বিপ্লব ঘটবে বাংলাদেশে।নৌকা নাকি ধানের শীষ প্রতীকে তা স্পষ্ট করে বলতে চান না কেউই। কোনো নাগরিকেরই নিরাপত্তা নেই বলে সবাই ভয়ে তটস্থ রয়েছে। চারিদিকের পরিবেশ কেমন যেন আতঙ্কময় করে রাখা হয়েছে। ভিন্নমতাবলম্বীদের নাগরিকত্ব অধিকার হরণ করে ধরপাকড়ের মধ্যে রাখা হয়েছে। সর্বমহলের দাবি এভাবে যদি হয় তাহলে ভোট কেন্দ্র ভোটার শূন্য থাকবে।

এমনি খবর মানুষের মুখে মুখে বয়ে বেড়ায় যে -ভোটের আগের দিন কিবা ভোটের দিন পরিবেশ হবে ভয়াবহ! সংঘাতময় পরিবেশ সৃষ্টি হলে সাধারণ জনগণ ভোটকেন্দ্রে যাবে না। আলামত স্বরূপ তা এখনো স্পষ্টমান। সেনা র‍্যাব বিজিবি পুলিশ সাইরেন বাজিয়ে ও ছোটাছুটি করতে দেখে, পুলিশের আচরণ দেখে, যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দেখে, মোবাইলের নেট ফেসবুক স্কাইপ সাময়িক বন্ধ করবে শুনে।এসব জনমনে আতঙ্ক তৈরী হচ্ছে ও ভীতির সঞ্চার করছে।

এসব আচরণ, এসব নিয়ম নীতি, অনধিকার চর্চা, জোর করে চাপিয়ে দেয়া কারো জন্যই সুফল বয়ে আনে না। ডিজিটাল আইন কারো জন্যই সুফল নিয়ে আসবে না।গণমাধ্যমকর্মীদের উপর একের পর এক নিয়ম নীতি চাপিয়ে দেয়া কোন রাষ্ট্রের সুফল বয়ে আনে না। নির্বাচনের নামে এসব কি হচ্ছে? সরকারদলীয় লোকেরা বলছে এবারে নির্বাচনের নামে এসব কি! আমাদের জীবনেও এইরকম নির্বাচন দেখি নি। তারা হতাশ হচ্ছে এসব কি নির্বাচনের নামে ক্ষমতা আঁকড়ে রাখার কৌশল?
কেউ-ই জানে না দেশে নির্বাচনের নামে কতো মানুষের প্রাণহানি ঘটবে। কতো মায়ের বুক খালি হবে! কতো স্ত্রী সন্তান অভিভাবক হারা হবে!সরকারের অধীনে যেহেতু নির্বাচন হচ্ছে, তাহলে ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ সরকারকেই তৈরী করতে হবে। কোনো আত্ঙ্কময় পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না। সুষ্ঠ আতঙ্কবিহীন সুন্দর নির্বাচনের পরিবেশ হলে দেশে ভোট বিপ্লব ঘটবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে