হোলি আর্টিজান হামলা মামলায় ৮ জঙ্গির বিচার শুরু

2
771

রাজধানীর গুলশানে হোলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় হামলা মামলায় আট জঙ্গির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত। পাশাপাশি আগামী ৩ ডিসেম্বর সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে। সোমবার ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মজিবর রহমান এই আদেশ দেন। 

এ বিষয়ে ওই ট্রাইব্যুনালের পেশকার আতাউর রহমান সাংবাদিকদের জানান, অভিযোগ গঠনের সময় আসামিদের অভিযোগ পড়ে শোনান বিচারক। এসময় আসামিদের জিজ্ঞাসা করা হয় দোষী না নির্দোষ? জবাবে উপস্থিত ছয় আসামি নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায় বিচার চান। পরে বিচারক অভিযোগ গঠন করেন। এর ফলে এ মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হলো।

তিনি আরও বলেন, ২০০৯ সালের সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ছয় মাসের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তির সময় বেঁধে দেওয়া রয়েছে। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে হত্যার অপরাধ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে এ আইনে।

যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে তারা হলেন- রাজীব গান্ধী, মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজান, রাকিবুল হাসান রিগ্যান, হাতকাটা সোহেল মাহফুজ, হাদিসুর রহমান সাগর, রাশেদ ইসলাম ওরফে আবু জাররা, শরিফুল ইসলাম ওরফে খালেদ ও মামুনুর রশীদ ওরফে রিপন। এদের মধ্যে শরিফুল ইসলাম ওরফে খালেদ ও মামুনুর রশীদ ওরফে রিপন পলাতক। অপর ছয়জনকে অভিযোগ গঠনের আগে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। এ ছাড়া মামলায় গ্রেফতার হওয়া নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক হাসনাত করিমের সম্পৃক্ততা পায়নি পুলিশ। ফলে তাকে মামলার অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

এর আগে, গত ২৩ জুলাই আদালতে এ মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। অভিযোগপত্রে মোট ২১১ জনকে সাক্ষি করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৪৯ জন ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী। এর বাইরে বিভিন্ন সংস্থার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন কর্মকর্তা, ফরেনসিক টেস্ট যারা করেছেন, তাদেরও সাক্ষি করা হয়েছে।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ১ জুলাই রাতে হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় হামলায় ১৭ বিদেশি নাগরিকসহ ২০ জনকে জবাই ও গুলি করে হত্যা করা হয়। দুই বছরের বেশি সময় ধরে তদন্তের পর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের পরিদর্শক হুমায়ুন কবির গত ২৩ জুলাই হামলায় জড়িত ২১ জনকে চিহ্নিত করে তাদের মধ্যে জীবিত আটজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেন। চিহ্নিত বাকি ১৩ জন বিভিন্ন অভিযানে নিহত হওয়ায় তাদের অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, নব্য জেএমবির জঙ্গিরা ছয় মাস ধরে পরিকল্পনা করে ওই হামলা চালিয়েছিল। তাদের উদ্দেশ্য ছিল, দেশকে ‘অস্থিতিশীল’ করা, বাংলাদেশকে একটি ‘জঙ্গি রাষ্ট্র’ বানানো। হোলি আর্টিজান হামলার ঘটনায় সেনাবাহিনীর অপারেশন থান্ডারবোল্টে নিহত হন পাঁচজন। তারা হলেন- রোহান ইবনে ইমতিয়াজ, মীর সামেহ মোবাশ্বের, নিবরাস ইসলাম, শফিকুল ইসলাম ওরফে উজ্জ্বল ও খায়রুল ইসলাম ওরফে পায়েল।

বিডি প্রতিদিন

2 মন্তব্য

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে