ময়মনসিংহ সিটির জন্য বাজেট প্রকাশ

0
720

অাশরাফুল আলম:  আধুনিক ও বহির্বিশ্বের উন্নত শহরের মতো একটি শহর তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে নবগঠিত ময়মনসিংহ বিভাগীয় শহরকে।

এজন্য ‘নবগঠিত ময়মনসিংহ বিভাগের বিভাগীয় সদর দফতর ও নতুন বিভাগীয় শহর স্থাপনের লক্ষ্যে প্রস্তাবিত ভূমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ প্রদান ও পুনর্বাসন’ নামের একটি প্রকল্প প্রস্তাব করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
এটির ব্যয় ধরা হয়েছে ৭ হাজার ৭৬৭ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। কিন্তু প্রকল্পটি অনুমোদন না দিয়ে ফেরত দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। সেই সঙ্গে ময়মনসিংহ শহরের জন্য একটি মাস্টার প্ল্যান তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
সম্প্রতি একনেকে উপস্থাপন করা হলে তা অনুমোদন না দিয়ে ফেরত দেয়া হয়। তবে বর্তমান সরকারের এই মেয়াদে এটি অনুমোদনের কোনো সম্ভাবনা নেই বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রকল্পটি ফেরত প্রসঙ্গে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জানিয়েছিলেন, এটি একনেকে উপস্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়ে বলেছেন, ভূমি অধিগ্রহণের আগে শহরের জন্য একটি মাস্টার প্ল্যান তৈরি করা প্রয়োজন। এজন্যই এটি অনুমোদন দেয়া হয়নি।
মন্ত্রী বলেন, যেহেতু শহরগুলো জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে বিশেষ অবদান রাখে, তাই আমরা চাই ময়মনসিংহ বিভাগীয় শহরটি একটি আধুনিক এবং বহির্বিশ্বের শহরগুলোর মতো সাজানো একটি শহর হোক। সেজন্য ফেরত দেয়া হয়েছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ময়মনসিংহ দেশের অষ্টম প্রশাসনিক বিভাগ। জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ এবং নেত্রকোনা জেলা নিয়ে ময়মনসিংহ বিভাগ গঠিত। এ বিভাগের আয়তন ১০ হাজার ৪৮৫ বর্গকিলোমিটার ও জনসংখ্যা ১ কোটি ১৩ লাখ ৭০ হাজার। ময়মনসিংহ জেলা শহরটি বর্তমানে ব্রহ্মপুত্র নদের পশ্চিম তীর ঘেঁষে ৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে অবস্থিত।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী ময়মনসিংহ বিভাগীয় শহরটি একটি আধুনিক এবং বহির্বিশ্বের উন্নত শহরের আদলে স্থাপনের লক্ষ্যে ব্রহ্মপুত্র নদের উভয় তীর ঘেঁষে গঠনের নির্দেশনা দেন। সে অনুযায়ী তিনি এই বিভাগীয় শহরের ভূমি ব্যবহার মহাপরিকল্পনা অনুমোদন করেন। এ পরিপ্রেক্ষিতে ময়মনসিংহ বিভাগীয় শহরটি ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ৮টি মৌজা নিয়ে গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে।
এসব মৌজার সব জমি অধিগ্রহণের মাধ্যমে সরকারের অধীনে নেয়া হবে। পরবর্তী সময়ে বিভাগীয় কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিভিন্ন দফতর বা অধিদফতরের মধ্যে বণ্টন, সুপরিকল্পিত আবাসন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, চিকিৎসা কেন্দ্র ও চিত্তবিনোদন কেন্দ্র নির্মাণের জন্য বরাদ্দ দেয়া হবে। এতে একটি সুপরিকল্পিত, আধুনিক, স্যাটেলাইট শহর গঠন করা সম্ভব হবে।
প্রস্তাবনায় আরও বলা হয়েছে, যে আটটি মৌজায় বিভাগীয় শহর স্থাপন করা হবে, সেগুলোর প্রায় ৪ হাজার ৩৬৬ দশমিক ৮৮ একর জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন পড়বে।
এতে ২০১৭ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ৬ হাজার ৪৫৫টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এসব পরিবারের জনসংখ্যা প্রায় ২৯ হাজার ২৪২ জন। ক্ষতিগ্রস্ত বসতবাড়ি এলাকা প্রায় ৩৫৩ দশমিক ৫০ একর। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত ভূমিহীনদের স্থায়ী পুনর্বাসনের জন্য শহরের পার্শ্ববর্তী দুলালবাড়ি মৌজায় প্রায় ৮০ একর খাস জমির প্রস্তাব করা হয়েছে। সেখানে ৫২টি ব্লক তৈরির প্রস্তাব রয়েছে। এছাড়া আরও ৩২০ একর জমির প্রস্তাব করা রয়েছে প্রকল্পের মাধ্যমে।
প্রকল্পের আওতায় প্রধান কার্যক্রমগুলো হচ্ছে- ৪ হাজার ৩৬৬ দশমিক ৮৮ একর ভূমি অধিগ্রহণ, ২৯ লাখ ৬০ হাজার ৩২৮ ঘনমিটার মাটির কাজ, দুটি গাড়ি ক্রয়, ইমপ্যাক্ট অ্যাসেমেন্ট স্টাডি, ২ লাখ ১২ হাজার ৪২৩ মিটার মাস্টার ড্রেন তৈরি, ৪ হাজার ৫৫১ মিটার রানিং সীমানা দেয়াল তৈরি, ৩ লাখ ২৩ হাজার ৭৪৫ দশমিক ৮১ মিটার অভ্যন্তরীণ রাস্তা নির্মাণ এবং বক্স কালভার্টসহ বিভিন্ন ধর্মীয় স্থান ও উপাসনালয় নির্মাণ করা হবে।
সূত্র জানায়, প্রস্তাবিত প্রকল্পটির ওপর কোনো সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়নি। তবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে, একটি প্রাক-সমীক্ষা প্রতিবেদন প্রণয়ন করা হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের বিষয়ে সুপারিশ করা হয়েছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে