একযুগ শিক্ষকদের দখলে রামগঞ্জ কলেজের ছাত্রাবাস

0
705

লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ সরকারি কলেজের ছাত্রাবাসটি একযুগ ধরে শিক্ষকদের দখলে রয়েছে। এতে কলেজের কিছু ছাত্র থাকছে মেস ও স্বজনদের বাড়িতে। আবেদন করেও ছাত্রাবাসে থাকার জায়গা পাচ্ছে না তারা। এতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে। এ সংকট নিরসনে কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল হাসান শান্ত অধ্যক্ষ বরাবর আবেদন করেও কোন সাড়া পাননি বলে অভিযোগ রয়েছে।

জানা গেছে, ১৯৯৭ সালে রামগঞ্জ কলেজে তিনতলা বিশিষ্ট একটি ছাত্রাবাস নির্মাণ করা হয়। শুরু থেকে প্রায় ১০ বছর ছাত্ররা এখানে থাকার সুযোগ পেয়েছে। ২০০৭ সাল থেকে তাদেরকে থাকতে দেওয়া হচ্ছে না বলে ছাত্রদের অভিযোগ। প্রায় এক যুগ ধরে ওই ছাত্রাবাসে ছাত্রদের ঠাই হয়নি; থাকছেন অধ্যক্ষসহ নয়জন শিক্ষক। ব্যবহারের অনুপোযোগী বলে ছাত্রদের থাকতে না দিলেও শিক্ষকরা থাকছেন ঠিকভাবেই।

সূত্র জানায় বর্তমানে রামগঞ্জ সরকারি কলেজে প্রায় ১ হাজার ৭০০ শিক্ষার্থী রয়েছে। স্থানীয় ছাড়াও পাশ্ববর্তী নোয়াখালী ও চাঁদপুরের ছাত্ররা এ কলেজে পড়ালেখা করছে। তবে দূরদূরান্তের ছাত্ররা কলেজে থাকতে না পারায় বিপাকে পড়তে হয়। তারা আশ্রয় নিতে হয় মেসে কিংবা স্বজনদের বাড়িতে। এতে তাদের শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবশে বিঘ্নসহ নানা বিড়ম্বনায় পড়তে হয়।

কয়েকজন শিক্ষার্থীরা জানায়, কলেজ ছাত্রাবাসে থাকার সুযোগ না হওয়ায় প্রতিদিন বাড়ি থেকে আসা-যাওয়া করতে হয়। অনেক সময় সড়কে পরিবহণ সমস্যার কারণে যথাসময়ে শিক্ষাকার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সম্ভব হয় না। কলেজ আসলেও বাড়ি যাওয়ার টেনশনে পড়ালেখায় মনোনিবেশ করা যায় না।

ছাত্রলীগ নেতা রাকিবুল হাসান বলেন, কলেজে ছাত্রাবাস থাকলেও ছাত্রদের বাসা ভাড়ায় থাকতে হয়। এমন অনেক ছাত্র আছেন যারা আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল হওয়ায় মেস কিংবা বাসা ভাড়া নিয়ে থাকা কষ্টসাধ্য। তাদের কথা বিবেচনা করে অধ্যক্ষ বরাবর আবেদন করেও ছাত্রদের ছাত্রাবাসে থাকার ব্যবস্থা হয়নি।

ছাত্রাবাসে থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষক অসীম ধর বলেন, সম্প্রতি আমি এ কলেজে যোগদান করেছি। সাময়িকভাবে আমি এখানে উঠেছি।

এ ব্যাপারে রামগঞ্জ সরকারি কলেজ অধ্যক্ষ মো. ইকরামুল হক বলেন, ছাত্রাবাসটি শিক্ষার্থীদের থাকার উপযোগী নয়। এখানে প্রয়োজনীয় লোকবলেরও অভাব রয়েছে। দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত থাকার পর কয়েকটি কক্ষ সংস্কার করে আমরা কয়েকজন শিক্ষক ব্যবহার করছি।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে