পুলিশী হেফাজতে মৃত্যু সেই আ’লীগ নেতা ও ইউপি সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান’র দাফন সম্পন্ন

0
700

ঝালকাঠি প্রতিনিধিঃ ঝালকাঠির সেই ইউপি সদস্য আ’লীগ নেতার দাফন সম্পন্ন হয়েছে। পুলিশী হেফাজতে বুধবার রাতে বরিশাল শেবাচিমে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান সদর উপজেলার বাসন্ডা ইউপি সদস্য ও ৯ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি লেশ প্রতাপ গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুর রহমানের পুত্র মোঃ খলিলুর রহমান মন্টু। শুক্রবার সকাল ৯টায় তার জানাযার নামাজ শেষে পারিবারিক কবর স্থানে দাফন করা হয়। সরেজমিনে তার বাড়ীতে গিয়ে দেখা যায় স্ত্রী,সন্তান,মা,ভাই-বোনের কান্নার আহাজারি। তাদের কান্নায় আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠছে। শান্তনা দেয়ার ভাষা নাই কারো।পুলিশী নির্যাতনে অকাল মৃত্যুতে মন্টু আত্মীয় স্বজনরা সুবিচার প্রার্থনা করছেন। তারা বলছেন ঝালকাঠির সদর থানার এস আই দেলোয়ার এই মৃত্যুর জন্য দায়ী। এস আই দেলোয়ারের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করছেন মন্টুর পরিবার। উল্লেখ্য পার্শ্ববর্তী বাড়ইগাতি গ্রামের সুলতান তালুকদারের পুত্র ইসাহাক তালুকদার তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে খলিলুর রহমান মন্টুর উপর রড ও ঝাড়– দিয়ে হামলা চালায়। স্থানীয়রা মন্টুকে উদ্ধার করে প্রথমে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। পরে মন্টুসহ ১১ নামধারী উল্লেখ করে ৮/১০ জন অজ্ঞাতধারীদের বিরুদ্ধে ঝালকাঠি সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে এমপি মামলা নং ১১৪ দায়ের করেন ইসাহাক তালুকদার। আদালতে মেডিকেল সার্টিফিকেট সংগ্রহ করে ঝালকাঠি সদর থানার ওসিকে মামলাটি রুজু করার নির্দেশ দেন। এ মামলায় পুলিশ মন্টুকে গ্রেফতার করতে ঝালকাঠি শহরের পালবাড়ি থেকে ধাওয়া দিয়ে গ্রেফতার করে। এসময় মন্টুর পা ভেঙ্গে যায়। তাকে গ্রেফতার করে ঝালকাঠি জেল হাজতে প্রেরন করে পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল কারা হাসপাতালে প্রেরন করে পুলিশ। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার রাতে মারা যায় মন্টু। মন্টুর স্ত্রী নাজমা বেগম সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে বলেন, তুচ্ছ ঘটনায় তার স্বামীকে পিটিতে আহত করে, আবার তার বিরুদ্ধে মিথ্যে চাঁদাদাবির অভিযোগে মামলা দায়ের করল। মিথ্যে মামলায় মন্টুকে গ্রেফতারের সময় পিটিয়ে তার পা ভেঙ্গে দেয় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই দেলোয়ার হোসেন। তাকে গ্রেফতার করে চিকিৎসা না করে কারাগারে পাঠিয়ে দেয়া হয়। পরে পরিকল্পিতভাবে শত্রু পক্ষের যোগ সাজসে কারাগারেই মন্টুকে পুলিশ মেরে ফেলে বলে, পরিবারের অভিযোগ। রাতে মারা গেলেও পরিবারের কাছে মৃত্যু’র ঘটনাটি গোপন রাখে কারা পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টায় মন্টুর স্ত্রী নাজমা বেগম কারাগারে দেখা করতে গিয়ে জানতে পারে তিনি পূর্বের দিন রাতে মারা গেছেন। এ ঘটনায় মন্টুর পরিবার প্রেসক্লাবের সামনে সংবাদ সম্মেলন করতে চাইলে পুলিশী বাধায় তা পন্ড হয়ে যায়। তাদের বক্তব্য হচ্ছে পা ভেঙ্গে জেলে গিয়ে এক সপ্তাহ পরে লাশ হয়ে ফিরলেন কিভাবে? অবশ্যই পুলিশ পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে। এ ঘটনায় তারা আইনের আশ্রায় নিবেন বলে জানিয়েছেন নাজমা বেগম।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে