সুবর্ণচরে ক্লিনিক পরিদর্শনে জেলা সিভিল সার্জন, সবগুলোকে হুশিয়ারি সংকেত

0
37

ইবরাহিম খলিল: নোয়াখালী সুবর্ণচর উপজেলায় ভেঙ্গের ছাতার মতো রাতারাতি গড়ে উঠা ১৩ টি ক্লিনিকের মধ্যে গত (৪ জানুয়ারি) বেলা ১২ টায় ১০ টি ক্লিনিক মনিটরিং করে জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ মাসুম ইফতেখার।

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, আবদুল মালেক উকিল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডাঃ সাইফউদ্দিন মাহমুদ ও ডাঃ বাউসবি রায়, সুবর্ণচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ মিজানুর রহমান, বাংলাদেশ প্রাইভেট ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার ওনার্স এসোসিয়েশন, সুবর্ণচর উপজেলা শাখার সভাপতি মোঃ কামাল উদ্দিন এবং সাধারণ সম্পাদক একেএম গোলাম রব্বানী’সহ আরো অনেকে উপস্থিতি ছিলেন।
মনিটরিং করা ক্লিনিক গুলো হলো, সাগরিকা ক্লিনিক সেন্টার, সুবর্ণ ডায়াগনস্টিক সেন্টার, লাইট হাউজ ডায়াগনস্টিক সেন্টার, আমিন ডায়াগনস্টিক সেন্টার, কিংস ডায়াগনস্টিক সেন্টার, গ্রাম বাংলা ডায়াগনস্টিক সেন্টার, কেয়ার মেডিকেল সার্ভিসেস, গ্রীনলাইফ ডায়াগনস্টিক সেন্টার, লাইফ কেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টার, প্যাসিফাই ডায়াগনস্টিক কমপ্লেক্স এন্ড কনসালটেনশন সেন্টার।
এই ১০টি ক্লিনিকের মধ্যে ৭ টি ক্লিনিকের কোনো পরিবেশ ছাড়পত্র ও লাইসেন্স নবায়ন পায়নি। এবং লাইফ কেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কোনো প্রকার সরকারি অনুমোদন না থাকায় ১৫ দিনের মধ্যে সব কাগজপত্র প্রস্তুত করার নির্দেশ দেয়। এবং প্যাসিফাই ডায়াগনস্টিক কমপ্লেক্স এন্ড কনসালটেনশন সেন্টারের তারা মনিটরিং এর খবর শুনে ক্লিনিকে তালা দিয়ে পালিয়ে যায়। মুঠোফোনে কল করেও সংযুক্ত হতে পারেনি জেলা সিভিল সার্জন। এছাড়াও নাহার ডায়াগনস্টিক সেন্টার, নিউ জনসেবা ডায়াগনস্টিক এন্ড ডক্টর চেম্বার ও শেখ মরিয়ম ক্লিনিক সেন্টার এই তিনটি অন্য সময়ে মনিটরিং করবে বলে জানিয়েছেন।
এসময় সাগরিকা ক্লিনিকে প্যাথলজি রুমে অন্যান্য মেডিসিনের সঙ্গে কুকুরের ভ্যাকসিন’সহ ফ্রিজ ভর্তি মেয়াদ উত্তীর্ণ মেডিসিন পাওয়ায় তা জব্দ করে নিয়ে যায়। এবং লাইসেন্সের নবায়ন ও পরিবেশ ছাড়পত্র’সহ রোগীদেরকে চিকিৎসা দেওয়ার জন্য মানসম্মত কোনো সরঞ্জাম দেখাতে পারেনি বলে প্যাথলজি বিভাগে তালা দেওয়া হয়।
এবং আমানি ডায়াগনস্টিক সেন্টার, কিংস ডায়াগনস্টিক সেন্টার, গ্রাম বাংলা ডায়াগনস্টিক সেন্টার, কেয়ার মেডিকেল সার্ভিসেস এর অবৈধভাবে এক্সরে রুম চালু রাখায় এই ৪টি ক্লিনিকের এক্সরে রুম তালা দেওয়া হয়। এবং সাগরিকা ক্লিনিকের প্যাথলজি রুম’সহ মোট ৫ টি ক্লিনিকে তালা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অনুমোদনহীন অন্যান্য ক্লিনিক গুলোর এক্সে রুম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয় জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ মাসুম ইফতেখার।
স্থানিয় ও পথচারিরা জানান, বড় বড় হাসপাতাল গুলো এই অঞ্চলের মানুষের জন্য অনেকটায় দূরে। তাই ছোটখাটো চিকিৎসা ও ডাক্তরি পরামর্শের জন্য এই সকল ক্লিনিকে গেলে তারা অযথা কয়েকটি টেস্ট করার জন্য পরামর্শ দেয়। তখন বাধ্যবাধকতা হয়ে এটি করতে হয়। এবং টেস্ট শেষে টাকার অংক যোগ করে ঝাপটিয়ে ধরে সেই অর্থ হাতিয়ে নেয় বলে তাও জানান পথচারী ও স্থানিয়রা।
নোয়াখালী জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ মাসুম ইফতেখার জানান, সুবর্ণচরে যে সকল ক্লিনিক মনিটরিং করা হয়েছে। প্রায় ক্লিনিক গুলোর বিভিন্ন জটিলতা রয়েছে। কারো লাইসেন্স নবায়ন, কারো পরিবেশ ছাড়পত্র, আবার কারো দক্ষ টেকনিশিয়ান’সহ বিভিন্ন সমস্যা।
তাই সে সকল ক্লিনিক গুলোকে কাগজপত্র প্রস্তুত করার জন্য ১৫ দিনের সুযোগ দেওয়া হয়। এবং নিদিষ্ট সময়ের মধ্যে যে সকল ক্লিনিক গুলো পরিপূর্ণ ডুকমেন্ট প্রস্তুত করবেনা তাদেরকে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে বন্ধের ব্যবস্থা করা হবে।