গায়েবী মামলা করে বিএনপিকে দমিয়ে রাখা যাবে না: ডাঃ শাহাদাত হোসেন

17
1041

আনিসুর রহমানঃ চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির কেন্দ্রঘোষিত বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতি ডাঃ শাহাদাত হোসেন বলেছেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে যে মিথ্যা মামলায় কারাগারে রাখা হয়েছে, তিনি সেই মামলায় জামিনে আছেন। কিন্তু সরকার উদ্ভট কিছু নতুন মামলা দিয়ে তার জামিন

প্রক্রিয়া বিলম্বিত করছে। তিনি এখন কারাগারে গুরুতর অসুস্থ। তাকে
ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করার জন্য বার বার বলা হলেও সরকার তা অগ্রাহ্য
করছে। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ এখন জেগে উঠেছে। তারা সরকারের জুলুম
নির্যাতনকে এখন আর ভয় পায় না। বরং সরকারই বেগম খালেদা জিয়া এবং তারেক
রহমানের আতংকে ভুগেন। ওবায়দুল কাদের বিটিভি দেখে নিজের হতাশা থেকে ভয়
পেয়ে বিএনপির সমাবেশে লোকসমাগম হতাশাজনক বলে মন্তব্য করছেন। গায়েবী মামলা
ও গণগ্রেফতার করে বিএনপিকে দমিয়ে রাখা যাবে না। তিনি আজ ৪ অক্টোবর
বৃহস্পতিবার বিকালে নাসিমন ভবনস্থ দলীয় কার্যালয় মাঠে বেগম খালেদা জিয়ার
মুক্তি ও নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের দাবীতে চট্টগ্রাম মহানগর
বিএনপির উদ্যোগে কেন্দ্রঘোষিত বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে এ কথা
বলেন। ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে রাষ্ট্র পরিচালনার
জন্য আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য, অংশগ্রহণমূলক,
অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করতে হবে। তপশীল ঘোষণার আগেই সংসদ
ভেঙে দিতে হবে। সরকারকে পদত্যাগ করে সকল রাজনৈতিক দলের সাথে আলোচনা করে
নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠন করতে হবে। যোগ্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে
নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করে ইভিএম ব্যবহার না করার বিধান নিশ্চিত করতে
হবে। সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে ম্যাজিষ্ট্রেসি
ক্ষমতাসহ সশস্ত্র বাহিনী নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। নির্বাচনে স্বচ্ছতা
নিশ্চিত করতে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক নিয়োেেগর ব্যবস্থা নিশ্চিত
করতে হবে। তিনি বলেন, সরকার চট্টগ্রামসহ সারাদেশে গায়েবী মামলা ও
গণগ্রেফতার অব্যাহত রেখেছে। চট্টগ্রামে প্রতিদিন বিএনপি নেতাকর্মীদের
অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করা হচ্ছে। বিএনপি নেতা আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী
যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করার পরও ঢাকায় তাকে গায়েবী মামলায় আসামী করা
হয়েছে। আমরা আজকের এ সমাবেশ থেকে এসব গায়েবী মামলা ও গণগ্রেফতার বন্ধের
আহবান জানাচ্ছি। তিনি আগামী ১০ অক্টোবর চট্টগ্রামের লালদীঘি মাঠে
জনসমাবেশ করার ঘোষণা দেন।
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর বলেছেন, সরকার
বেগম খালেদা জিয়াকে প্রতিহিংসা পরায়ন হয়ে অন্যায়ভাবে কারান্তরিন করে
রেখেছে তা আওয়ামি লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুল আলম হানিফের
বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে। গতকাল তাদের নির্বাচনী প্রচারণার পথসভায় হানিফ
বলেছে তফসিলের আগে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি সম্ভব না। এর আগে সাবেক
প্রধান বিচাপতি এস কে সিনহা তার বইতে লিখেছে আদালতে যে রায় দেয়া হয় তা
অন্য জায়গা থেকে আসে। এতেই প্রমাণিত হয় দেশে আজ আইনের শাসন নেই। তিনি
বলেন, সরকার বেগম জিয়াকে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে সাজা দিয়েছে তাই আদালতের
মাধ্যমে তার মুক্তি সম্ভব নয়। আমাদেরকে রাজপথে আন্দোলনের মাধ্যমে তাকে
মুক্ত করতে হবে। তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে বন্দি রেখে, বিএনপি
নেতাকর্মীদের নামে মিথ্যা ভিত্তিহীন কাল্পনিক গয়েবী মামলা দিয়ে সরকার আর
একটি একতরফা নির্বাচন করতে চায়। মামলা, হামলা, গ্রেফতার নির্যাতন করে কোন
লাভ হবে না। বিএনপির নেতাকর্মীরা মামলাকে আর ভয় করেনা। দেশের মানুষ আর
আওয়ামি লীগকে খালি মাঠে গোল দিতে দিবেনা। জনগন তাদের প্রিয় নেত্রী বেগম
জিয়াকে এবং ভোটধিকার ফিরে পেতে অচিরেই রাজপথে নেমে আসবে এবং সরকারের সকলহ ষড়যন্ত্র নশ্যত করে তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করবে।
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মহিলা দলের সাবেক সভাপতি নূরী আরা সফা,
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সহসভাপতি আলহাজ্ব এম এ আজিজ, মোহাম্মদ মিয়া
ভোলা, এডভোকেট আবদুস সাত্তার, জয়নাল আবেদীন জিয়া, নাজিমুর রহমান,
সবুক্তগীন সিদ্দিকী মক্কি, হারুন জামান, ছৈয়দ আহমদ, এডভোকেট মফিজুল হক
ভূঁইয়া, অধ্যাপক নুরুল আলম রাজু, মো. ইকবাল চৌধুরী, এস এম আবুল ফয়েজ,
যুগ্ম-সম্পাদক কাজী বেলাল উদ্দিন, ইসকান্দর মির্জা, ইয়াছিন চৌধুরী লিটন,
আবদুল মান্নান, জাহাঙ্গির আলম দুলাল, আনোয়ার হোসেন লিপু, গাজী মো.
সিরাজউল্লাহ, কোষাধ্যক্ষ ছৈয়দ শিহাব উদ্দিন আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক মনজুর
আলম চৌধুরী মনজু। সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল ইসলাম’র পরিচালনায় উপস্থিত
ছিলেন সহসাধারণ সম্পাদক হাজী মো. সালাহউদ্দিন, মো. সামশুল আলম সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য এম আই চৌধুরী মামুন, হামিদ হোসেন, আবদুল নবী
প্রিন্স, ডা. এস এম সরওয়ার আলম, থানা বিএনপির সভাপতি মনজুর রহমান চৌধুরী,মামুনুল ইসলাম হুমায়ুন, মোশাররফ হোসেন ডিপ্টি, সাইফুর হমান বাবুল, হাজী
হানিফ সওদাগর, কাউন্সিলর মো. আজম, মো. সেকান্দর, আবদুল্লাহ আল হারুন,
মহিলা দলের সভাপতি কাউন্সিলর মনোয়ারা বেগম মনি, শেখ নুর উল্লাহ বাহার,
সহসম্পাদকবৃন্দ আবদুল হালিম স্বপন, মো. রফিকুল ইসলাম, মো. ইদ্রিস আলী,
খোরশেদ আলম কুতুবী, মো. শাহজাহান, রেহান উদ্দিন প্রধান, নেজাম উদ্দিন
খান, আজাদ বাঙালী, সফিক আহমদ, মো. হাসেম সওদাগর, ফয়েজুল ইসলাম, আবুল
খায়ের মেম্বার, মোস্তাফিজুর রহমান ভুলু, মো. ইউসুফ আলী, আবদুল হাই, আলী
আজম, নগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন ভুলু,

17 মন্তব্য

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে