বৃহত্তর আন্দোলনের পথে ঐক্যবদ্ধ পশ্চিমবঙ্গের করনিকরা

0
732

১ লা অক্টোবর কর্মক্ষেত্রে বঞ্চনা, বৈষম্য এবং লাঞ্ছনা ও অবমাননার বিরুদ্ধে গড় উঠেছে স্কুল ও মাদ্রাসার করনিকদের সংগঠন ওয়েস্ট বেঙ্গল স্কুল এ্যান্ড মাদ্রাসা ক্লার্ক অ্যাসোসিয়েশান। মাত্র তিন মাসের একটি নবগঠিত সংগঠন স্বাধীনতার পরে এই প্রথম ক্লাকদের দাবিদাওয়া নিয়ে কোচবিহার থেকে সুন্দরবন পর্যন্ত একুশটি জেলায় সমস্ত স্কুল ও মাদ্রাসা ক্লার্কদের নিয়ে খুব দ্রুত ঐক্যবদ্ধ্য ও সংগঠিত হয়েছে তাদের নিজস্ব দাবী দাওয়া আদায়ের জন্য । এজন্য প্রতিদিন রাজ্যের প্রতিটি জেলায় অবস্থান, অনশন, বিক্ষোভ ,আন্দোলন শিক্ষাসচিব ও জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শকদের নিকট ডেপুটেশান জমা দেওয়া হচ্ছে তাদের দাবি আদায়ের জন্য । এবার বৃহত্তর আন্দোলনের পথে নামল পশ্চিমবঙ্গের করণিকরা। সাম্মানিকের তুলনায় অনেক বেশি কাজ করতে হয় তাদের এবং তার জন্য পাননা তারা কোনো অতিরিক্ত সুযোগসুবিধা। দশদফা দাবি জানিয়ে WBSMCA র পক্ষ থেকে জেলার স্কুল ও মাদ্রাসা গুলির সমস্ত করণিকরা রাজ্যের শিক্ষা সচিবের কাছে ডেপুটেশন জমা দেওয়ার কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন। করণিকদের অভিযোগ, ছাত্র ভর্তি করা, আয়-ব্যায়ের হিসেবে রাখা, মিড ডে মিলের তদারকি থেকে শুরু করে স্কুল গুলির সিংহ ভাগ কাজ করতে হয় তাদের। কখনো কখনো ছুটির দিনেও কাজ করতে হয়। কিন্তু তাদের পদের মান মাধ্যমিক করে রাখা হয়েছে। সাধারন সম্পাদক তন্ময় সরকার জানাচ্ছেন কোনো প্রশিক্ষণমূলক কোর্স করার সুযোগ না পাওয়ায় শিক্ষক বা লাইব্রেরিয়ান পদে উন্নীত হওয়ার সুযোগও তারা পাননা। তাই আর্থিক অবস্থারও কোনো উন্নতি হয়না তাদের। এই অবস্থায় সংসার চালানোই কষ্টকর হয়ে উঠছে, জানিয়েছেন করণিকরা। সহস্রাধিক করণিকের স্বাক্ষর সহ একটি দাবিপত্র ডেপুটেশন আকারে শিক্ষা দপ্তরে জমা দেবেন তারা। কোচবিহার থেকে সুন্দরবন পর্যন্ত সমস্ত করনিকবন্ধুরা একত্রিত হয়ে প্রতিটি জেলায় জেলায় অবস্থান, বিক্ষোভ, আন্দোলন, ধর্না ও জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শকদের নিকট দাবিপত্র জমা দিচ্ছেন তারা । সেই ডেপুটেশনের প্রতিলিপি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও পে কমিশনের দপ্তরেও পেশ করা হবে।


দাবিপত্রে যে বিষয়গুলি উল্লেখ রয়েছে তা হল-
স্কুল ও মাদ্রাসা ক্লার্ক পদের যোগ্যতা মাধ্যমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক করতে হবে। যাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা কম তাদের তা বাড়ানোর সুযোগ দিতে হবে। পে ব্যান্ড স্কেল ৭১০০ থেকে ৩৭৬০০ টাকার আওতায় আনতে হবে। গ্রেড পে ৩৬০০ টাকা করতে হবে।
স্কুল ও মাদ্রাসা ক্লার্কদের জন্য নির্দিষ্ট কর্মতালিকা প্রকাশ করতে হবে। WBSSC, WBMSCর সহকারী শিক্ষক ও লাইব্রেরিয়ান নিয়োগ পরীক্ষায় স্কুল ও মাদ্রাসা ক্লার্কদের দশ শতাংশ সংরক্ষণ চালু করতে হবে। ক্লার্কদের জন্য জেনারেল ট্রান্সফার চালু করতে হবে।
অতিরিক্ত কাজের জন্য এক্সট্রা অ্যালাওয়েন্স দিতে হবে।
ছুটির দিন কাজ করলে তাদের অন ডিউটি লিভের ব্যবস্থা করতে হবে। ইত্যাদি।রাজ্য কমিটির সদস্য এবং মুর্শিদাবাদ জেলার কোঅর্ডিনেটার বিশ্বজিত মিত্র জানাচ্ছেন আগামী বেতন কমিশনের মাধ্যমে তাদের দাবিগুলি রূপায়িত করার জন্য তারা আন্দোলন করছেন এবং শিক্ষাসচিবসহ সমস্ত জেলায় ডেপুটেশান দিচ্ছেন ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে