সমন্বয়হীনতার কারণে অপচয় হচ্ছে সরকারি অর্থ! সৃষ্টি হচ্ছে জনভোগান্তি: মেয়র

0
758

আনিসুর রহমান: পরিকল্পিত নগরায়নের মাধ্যমে উন্নত চট্টগ্রাম বিনির্মাণ গড়তে সরকারি সেবা সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান গুলোর মধ্যে সমন্বয়ের উপর গুরুত্বারোপ করলেন সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। তিনি বলেন, পরিকল্পিত ও বাসযোগ্য একটি নগর গড়ার জন্য বাস্তবধর্মী পরিকলল্পনা গ্রহণ করা অতীব জরুরী। এই প্রসঙ্গে মেয়র বলেন চট্টগ্রাম নগরী গড়ে উঠেছে সম্পূর্ণ অপরিকল্পিত ভাবে। এখানে প্রত্যেকটি সেবা সংস্থা,ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নিজেদের মত প্রকল্প পরিকল্পনা গ্রহণ করে থাকে। প্রত্যেক সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণকারী স্ব স্ব মন্ত্রণালয়ের কাছে নিজেদের প্রকল্প প্রতিবেদন জমা দেন। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রকল্পগুলো প্রি-একনেক,একনেক হয়ে বাস্তবায়িত হয়।অথচ প্রকল্প গ্রহণের ব্যাপারে সরকারের নির্দেশনা অনুসারে সিটি কর্পোরেশনের মতামত নেয়ার জন্য পরিপত্র জারি করা আছে।

আজ রবিবার বিকালে কাজীর দেউড়ি ব্র্যাক লার্নিং সেন্টারে ব্র্যাক আরবান ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম আয়োজিত ‘নগর পরিকল্পনা অনুশীলন ও সুশাসন’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিটি মেয়র এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠিত এ কর্মশালায় চসিক কাউন্সিলর সলিমুল্লাহ বাচ্চু,মো. মোবারক আলী,আনজুমান আরা বেগম,আবিদা আজাদ,মনোয়ারা বেগম মনি, ফারহানা জাবেদ,চসিক সচিব আবুল হোসেন,নগর পরিকল্পনাবিদ রেজাউল করিম, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শফিকুল মন্নান সিদ্দিকী, ব্র্যাক’র আঞ্চলিক সমন্বয়কারী শামীম আল মামুন,ইফতেখার হাসান, ক্যাপাসিটি ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম ম্যানেজার মাফরুহা আলম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
মেয়র বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র জনগণের ভোটে নির্বাচিত একজন জনপ্রতিনিধি। মেয়রের কাছে জনগণের প্রতিটি কাজের দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহিতা রয়েছে। নগরীর সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান সমূহ প্রকল্প গ্রহণ করে থাকেন। এ ক্ষেত্রে সিটি কর্পোরেশনের মতামত গ্রহণ করা বাধ্যতামূলক হলেও তা প্রতিফলিত হয় না। সেবা সংস্থাগুলো নিজেরা প্রকল্প নিয়ে মন্ত্রণালয় হয়ে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদে (একনেক) অনুমোদন নিয়ে আসে। এ প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, এই সমন্বয়হীনতার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে নগর উন্নয়ন। অপচয় হচ্ছে সরকারি অর্থ। সৃষ্টি হচ্ছে জনভোগান্তি ও দুর্ভোগ। জনগণও এই উন্নয়নের শতভাগ সুফল ভোগ করতে পারছেনা। আর মেয়রকে যেহেতু জনগণ নির্বাচিত করেছে তাই সব জবাবিিহতাও তার কাছ থেকেই নগরবাসী প্রত্যাশা করে। নগরায়ন নিয়ে সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ ও বা¯স্তবায়নে সকল সংস্থাকে সমন্বিতকরণের এখনই সময়। তা না হলে কাগজে কলমে পরিকল্পিত নগরায়ন সীমাবদ্ধ থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। সুশাসন প্রতিষ্ঠা প্রসংগে মেয়র বলেন, সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠার অন্যতম নিয়ামক শক্তি আইনের প্রয়োগ। আমাদের দেশে আইন আছে। কিন্তু তার প্রয়োগ নেই। তাছাড়া প্রণীত অনেক আইনকে সময় এবং বাস্তবতার নিরীখে সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। একই সাথে সুশাসন নিশ্চিতকরণে সামাজিক, রাজনৈতিক সচেতনতার প্রয়োজন রয়েছে। এ সচেতনতা সৃষ্টিতে আমাদেরকে স্ব স্ব অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখতে হবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে