আগামী ৪ অক্টোবর লালদিঘী মাঠে বিএনপি’র জনসভা

0
812

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আজ ২৯ সেপ্টম্বর শনিবার সকাল ১১ টায় কাজীর দেউড়ি নাসিমন ভবনস্থ দলীয় কার্যালয়ে চট্টগ্রাম মহানগরী সহ সারাদেশে গায়েবী মামলা, গণ গ্রেপ্তার, আগামী ৪ অক্টোবর বৃহস্পতিবার বিকেল তিনটায় লালদিঘী মাঠে জনসভা ও বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির পক্ষ থেকে এক সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি ডাঃ শাহাদাত হোসেন। আজ যে বিষয়টি অবহিত করতে আপনাদের সম্মুখে হাজির হয়েছি তা হচ্ছে, বিনাভোটে স্বনির্বাচিত ক্ষমতালিপ্সু সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে বিএনপি নেতাকর্মীদের গুম,
খুন, মামলা হামলার পর এখন নতুন এক কৌশলে গায়েবী মামলা দিয়ে হয়রানির পথ
বেছে নিয়েছে।

প্রতিহিংসার বশবর্তি হয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রনোদিত এক সাজানো মামলায় ৩ বারের প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা অভিযোগে অন্যায়ভাবে সাজা দিয়ে নির্জন কারাগারে বন্দি করে রাখা হয়েছে। অসুস্থ দেশনেত্রীর সুচিকিৎসার ব্যবস্থা না নিয়ে সরকার তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। সর্বোচ্চ আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পরও সরকারী নির্দেশে তাকে মুক্তি দেয়া হচ্ছে না।
প্রিয় সাংবাদিক ভাইয়েরা অনুগত নির্বাচন কমিশন এবং প্রশাসনের সহায়তায় জাতীয় সংসদসহ সবগুলো গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে দখল করে রেখেছে সরকার। সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহাকে হুমকীর মুখে পদত্যাগ ও দেশত্যাগে বাধ্য করে গোটা বিচার বিভাগকে অনুগত করার অভিযোগে আজ বর্তমান
সরকার দেশবাসীর কাছে অভিযুক্ত। সরকারের অন্যায় অত্যাচারের বিরুদ্ধে কথা বলা কিংবা লেখালেখি আজ বিরোধী দল ও সচেতন জনগণ এমনকি লেখক সাংবাদিকদের জন্য শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এই আইনের মাধ্যমে সরকার গণমাধ্যমের টুটি চেপে ধরেছে। আমরা এই আইন বাতিল করার দাবী জানাচ্ছি।
প্রিয় সাংবাদিক ভাইয়েরা আমরা যে বিষয়টি উল্যেখ করতে চাই তা হচ্ছে, বর্তমান অবৈধ সরকার শহীদ
রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রতিষ্ঠিত দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপিকে নির্মূল করে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করতে নানাবিধ অপচেষ্টা চালিয়ে আসছে। তারপরও শহীদ জিয়ার এই দলকে কোনভাবে দমাতে না পেরে বিএনপির তৃণমূলের নেতৃবৃন্দকে মানসিক হয়রানির পথ বেছে নিয়েছে। গত ১ সেপ্টেম্বর বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মহাসমাবেশে জনগণের স্বত:স্ফূর্ত উপস্থিতি দেখে সরকার দিশেহারা হয়ে বিএনপিসহ ২০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের নামে চট্টগ্রামসহ সারাদেশে গায়েবী মামলা ও গণগ্রেফতার অভিযান শুরু করে।
চট্টগ্রামের প্রতিটি থানায় মিথ্যা কাল্পনিক ও ভিত্তিহীন মামলা দিয়ে নেতাকর্মীদের গ্রেফতার এখনো অব্যাহত রেখেছে। গত ১০ দিনে শুধু চট্টগ্রামে
২০ টির অধিক নতুন মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ সব মামলায় পুলিশ রাতের আধারে
হানাদার বাহিনীর মতো ঘুমন্ত নেতাকর্মীদের বাসবাড়ী থেকে অমনাবিকভাবে গ্রেফতার করে নাশকতার ষড়যন্ত্রের মামলায় কারাগারে পাঠিয়ে দিচ্ছে। এই
পর্যন্ত চট্টগ্রামে শত শত নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই সব মামলা
থেকে আইনজীবিসহ পেশাজীবী নেতারাও রেহাই পাচ্ছে না। প্রিয় সাংবাদিক ভাইয়েরা আমরা যে বিষয়টি আপনাদেরকে বলতে চাই তা হচ্ছে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনও ৫ জানুয়ারীর মত এক তরফা ও ভোটারবিহীন করার নীল নকশার অংশ হিসেবে এই গণগ্রেফতার ও গায়েবী মামলা। হাজতবাস, গ্রেফতার, হুলিয়া ও নিষ্ঠুর বিচার এখন দেশের মানুষের নিয়তি হয়ে গেছে। আকবর শাহ থানা বিএনপি নেতা মীর জাহাঙ্গির আলমের বাসায় পুলিশ তল্লাশি করে তাকে না পেয়ে তার কলেজ পড়–য়া নিরপরাধ সন্তান মীর আবদুল্লাহ
আল আরাফাতকে গ্রেফতার করে নাশকতার মামলায় কারাগারে পাঠিয়ে দিয়েছে। দেশে নিষ্ঠুর সরকারের অমানবিক শাসন চলছে বলেই এটা সম্ভব হচ্ছে।
এই ঘটনার সাথে তারেক রহমানকে জড়ানোর জন্য আওয়ামী মদদপুষ্ট অবসরপ্রাপ্ত সাবেক এক গোয়েন্দা কর্মকর্তাকে পুনরায় চাকুরীতে পুনর্বহাল করে তার মাধ্যমে
সম্পূরক চাজীশী সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে স্বাগত বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মাহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর। এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু সুফিয়ান, সহ- সভাপতি এম এ আজিজ,
মোহাম্মদ মিয়া ভোলা, অধ্যাপক নুরুল আলম রাজু, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক এস এম
সাইফুল আলম, যুগ্ম সম্পাদক কাজী বেলাল উদ্দিন, ইসকান্দর মির্জা, ইয়াসিন
চৌধুরী লিটন, আব্দুল মান্নান, জাহাঙ্গীর আলম দুলাল, আনোয়ার হোসেন লিপু,
সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল ইসলাম, বাণিজ্য সম্পাদক হেলাল চৌধুরী, থানা
বিএনপির সভাপতি মঞ্জুর রহমান চৌধুরী, মোশারফ হোসেন ডিপ্তী, মামুনুল ইসলাম
হুমায়ুন, সাইফুর রহমান বাবুল, কাউন্সিলর মুহাম্মদ আজম, মোঃ হানিফ সওদাগর,
সরফরাজ কাদের রাসেল, নগর বিএনপির সহ দপ্তর সম্পাদক মোঃ ইদ্রিস আলী, নগর
মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক জেলী চৌধুরী, থানা বিএনপির সম্পাদক হাজী মোঃ বাদশাহ মিয়া, আব্দুল কাদের জসিম, রোকন উদ্দিন মাহমুদ, নগর সেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়া, তাঁতী দলের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম প্রমূখ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে