২১ কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন ভবনের কাজ উদ্বোধন করলেন: চট্টগ্রাম সিটি মেয়র

0
844

আনিসুর রহমান: চলতি অর্থ বছরে জাইকার অর্থ সহায়তায় প্রায় ২১ কোটি টাকা ব্যয়ে পতেঙ্গা সিটি কর্পোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ কাম সাইক্লোন শেল্টার নতুন ভবন নির্মাণ শুরু হচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় ছয় তলা বিশিষ্ট সংযুক্ত দুইটি ভবন নির্মাণের সকল কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।

আগামী বছর ২৫ নভেম্বর ভবন দুইটির নির্মাণ কাজ শেষ করার মেয়াদ ধার্য করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন ভবন নির্মাণ কাজের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন কাজ উদ্বোধন করেন। এ ভবনের প্রতিটি ফ্লোরের আয়তন হবে প্রায় ১৪ হাজার বর্গফুট। প্রতি ভবনে ১৮টি ক্লাস রুম, স্কুল ও কলেজ উভয় পর্যায়ের জন্য শীততাপ নিয়ন্ত্রিত স্বতন্ত্র ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি, বায়োলজী ও কম্পিউটার ল্যাব, ২টি লাইব্রেরী , ২টি মাল্টি পারপাস হলরুম, ৩টি গার্লস কমন রুম/ মেডিকেল রুম, ১টি অ্যাম্পিথিয়েটার , ২টি মিটিং রুম, ১টি লেকচার রুম, ২টি টিচারস রুম, ২টি টিচারস কমন রুম, ২টি প্রিন্সিপাল রুম, ২টি ফাস্ট এইড মেডিকেল রুম, ২টি স্টোর রুম, ২টি এ্যাডমিশন ও একাউন্ট সেকশন,২টি ক্যান্টিন, ২টি অত্যাধুনিক লিফটের ব্যবস্থা রাখা হবে।প্রতিটি ফ্লোরে পুরুষ ও মহিলাদের জন্য আলাদা অত্যাধুনিক ওয়াশ রুমের ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়াও ভবন দুইটিতে রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে সিটি মেয়র আ.জ.ম.নাছির উদ্দীন বলেছেন শিক্ষার প্রসারে দেশের অন্যান্য সিটি কর্পোরেশনের তুলনায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন বহুলাংশে এগিয়ে। শিক্ষাখাতে বড় অংকের ভুর্তকি দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তাই এই কার্যক্রমের সুফল প্রাপ্তির জন্য শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। তিনি আরো বলেন শিক্ষার উদ্দেশ্য হলো শুধু নিজে প্রতিষ্ঠিত হওয়া নয়,সমাজকে কিছু দেয়া,ব্যক্তি যতই শিক্ষিত বা বিত্তবান হোন না কেন, সামাজিক দায়বদ্ধতা বা সমাজ মঙ্গলে অবদান না থাকলে মৃত্যুর পর ঐ ব্যাক্তি মুছে যান। তিনি এই প্রসংগে বলেন চট্টগ্রাম শিক্ষা বিস্তারে অনেক শিক্ষানুরাগী দানশীল ব্যক্তির অবদান রয়েছে। তাদের দেয়া জমি ও অর্থে অনেক বড় বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। এই সব শিক্ষানুরাগী দানশীল ব্যক্তি এ কারণেই মৃত্যুর পরও অমরত্ব লাভ করেছে। পতেঙ্গা উপকুলীয় এলাকার শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা অর্জন সহজলভ্য করার জন্য তিনি ঘোষণা দেন যে, এই স্কুল এন্ড কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে উর্ত্তীণ করা হবে। তখন এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি নগরীর উপকুলীয় অঞ্চলের অন্যতম প্রধান বিদ্যাপীঠে পরিণত হবে। বর্তমানে কলেজ পর্যায়ে ডিগ্রি পর্যন্ত অধ্যয়নের ব্যবস্থা রয়েছে। আগামীতে এখানে একাউন্টিং,ম্যানেজমেন্ট ও ইংরেজী বিষয়ে অনার্স কোর্স চালুর ব্যাপারে প্রক্রিয়া চলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এই উদ্যোগে মেয়র এলাকার শিক্ষানুরাগী দানশীল ব্যক্তিদের এগিয়ে আসার আহবান জানান। তিনি ওয়ার্ডের উন্নয়ন প্রসঙ্গে বলেন, আমার দায়িত্ব গ্রহণের তিন বছরের মধ্যে এই ৪০ নং উত্তর পতেঙ্গা ওয়ার্ডে প্রায় ৬৪ কোটি ৭৫ লাখ টাকার উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়িত হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি প্রকল্প কাজ চলমান রয়েছে।

২০১৬-১৭ অর্থ বছরে ১২ কোটি ৬৩ লাখ টাকা,২০১৭-১৮ অর্থ বছরে ২১ কোটি ৫১ লাখ টাকা এবং চলতি অর্থ বছরে ৩০ কোটি ৬০ লাখ টাকার উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। যা বিগত ৩০ বছরের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। ওয়ার্ড কাউন্সিলর জয়নাল আবেদীনের সভাপতিত্বে সমাবেশে অন্যান্যদের মধ্যে কাউন্সিলর ছালেহ আহমদ চৌধুরী,জিয়াউল হক সুমন, সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর শাহানুর বেগম, চসিক প্রধান প্রকৌশলী লে.কর্ণেল মহিউদ্দিন আহমেদ, বিদ্যালয় পরিচালনা পর্যদ প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মো. ইছহাক, জাকির আহম্মদ, হাজী আবুল বশর, হাজী ওমর ফারুক, কলেজ অধ্যক্ষ ইছমত আরা ও বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক মিলন আচার্য প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। মঞ্চে চসিক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবু ছালেহ, নির্বাহী প্রকৌশলী অসীম বড়–য়া, হাজী সাহাদাত হাসান, রোটারিয়ান মো. ইলিয়াছ, মো. জাবেদ, মো. ফরিদ, মো. সেলিম, ওয়াহিদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে