লক্ষ্মীপুরে যুবতীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা আত্মহত্যা বলে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা

0
75

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার ৬ নং কেরোয়া ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের লুধুয়া গ্রামের ভূঁইয়া বাড়ির মৃত সিরাজুল্লাহ’র কনিষ্ট মেয়ে ফাতেমা আক্তারের মৃত্যু নিয়ে ধুম্রজাল সৃষ্টি করছে একটি চক্র। পূর্ব পরিকল্পিত হত্যাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার হীন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে এ চক্রটি। ফাতেমা আক্তারকে হত্যা করার সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে ময়না তদন্ত রিপোর্টে। তবুও এই হত্যাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করে খুনীদেরকে আড়াল করার জন্য একটি চক্র উঠেপড়ে লেগেছে।

এ বছরের জুলাই মাসের ১৯ তারিখে ফাতেমা আক্তারকে একা ঘরে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে ঘরের আড়ার সাথে ঝুলিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়। এতে ব্যর্থ হয়ে মৃত ফাতেমা আক্তারকে বিছানায় শুইয়ে রাখে হত্যাকারীরা। পরে একে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয় খুনিরা!

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে রায়পুর থানার পুলিশ এসে সুরতহাল সংগ্রহ করে লাশ নিয়ে যায়। ৪২ দিন পর ময়নাতদন্ত রিপোর্ট আসে, ফাতেমা আক্তারের মাথায় জখম করে ও শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করা হয়।

নিহত ফাতেমা আক্তারের বোন সারাবান তহুরা প্রকাশ বৃষ্টি বাদী হয়ে রায়পুর থানায় ৩০২/৩৪ ধারায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। যার নাম্বার ৩৮ তাং২৯/০৮/২০২০.
এতে করে রায়হান নামের এক আসামিকে রায়পুর থানা পুলিশ গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। বাকি আসামিরা পালিয়ে রয়েছেন।

হত্যা মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, নিহত ফাতেমা আক্তারের পরিবারের সাথে পাশের ঘরের চাচাতো ভাই রায়হান (২৬) পিতা শরীফ ভূঁইয়া, রহিমা বেগম (৫৫) স্বামী শরীফ ভুইয়া, শারমিন আক্তার (২৪) স্বামী মোঃ মানিক ভূঁইয়া, মো: ইয়াসিন (২০) পিতা শরীফ ভূঁইয়াকে আসামি করা হয়।

এদের সাথে পূর্ব থেকে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় ও জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। রায়হান ও তার পরিবার প্রায় সময় পূর্ব বিরোধের কারণে বিভিন্ন সময়ে ফাতেমা আক্তারের পরিবারের লোকজনের সাথে খারাপ আচরণ ও ক্ষতি করার হুমকি দিত বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

ময়নাতদন্ত রিপোর্টে মাথায় আঘাত ও গলা টিপে হত্যা করার স্পষ্ট প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও একটি কুচক্রী মহল খুনীদেরকে আড়ালে রেখে পরিকল্পিত হত্যাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে নিহতের পরিবার থেকে জানানো হয়।

নিহত ফাতেমা আক্তারের ভগ্নিপতি মোরশেদ আলম বলেন -‘আমার বোন ফাতেমা আক্তারের খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। কোনভাবেই যেন খুনিরা আইনের ফাঁক দিয়ে বেরিয়ে যেতে না পারে।’

মামলার বাদী মেঝো বোন শারাবান তহুরা প্রকাশ বৃষ্টি বলেন -‘যারা আমার ছোট বোনকে খুন করেছে তাদের ফাঁসি চাই। যারা এ খুনের ঘটনাকে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছেন তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নেয়ার জন্য প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করি।’

এ বিষয়ে রায়পুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আব্দুল জলিল বলেন -‘ মামলা তদন্তাধীন রয়েছে। আমরা একজনকে গ্রেপ্তার করেছি। বাকিরা পলাতক থাকায় তাদেরকেও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

Leave a Reply