তৃণমূল জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন’ (তৃণমূল এনডিএম) নামে নতুন একটি রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ

0
1244

‘বাংলাদেশকে বাঁচাও’ স্লোগান নিয়ে ‘তৃণমূল জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন’ নামে (তৃণমূল এনডিএম) নতুন একটি রাজনৈতিক দল আত্মপ্রকাশ করেছে।

  1. গতকাল ৭ সেপ্টেম্বর শুক্রবার চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব চত্বরে নতুন এই
    রাজনৈতিক দলের নাম ঘোষণা করা হয়। তৃণমূল এনডিএম এর চেয়ারম্যান খোকন
    চৌধুরী দলের নাম ঘোষণা করাসহ দলটির পক্ষ থেকে ৪ মূলনীতি তুলে ধরেন।
    মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত সংবিধানের চার মূলনীতি গুলো গণতন্ত্র, ধর্ম
    নিরপেক্ষতা, সমাজতন্ত্র ও তৃণমূল জাতীয়তাবাদ।
    তৃণমূল এনডিএম চেয়ারম্যান খোকন চৌধুরী বলেন, ‘আমরা আর কোনও রাজনৈতিক দলের
    ভোটব্যাংক হতে চাই না। দেশের ৬৪টি জেলার প্রতিনিধি নিয়ে আমরা আলোচনা করে
    সিদ্ধান্ত নিয়েছি নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করার। এই ঘোষণার পূর্ব মুহূর্তে
    কে বা কারা দল গঠন করল তা আমাদের দেখার বিষয় না।’
    তৃণমূল এনডিএম চেয়ারম্যান খোকন চৌধুরী আরো বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনে
    রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধনের জন্য আগামী অক্টোবর মাসে আবেদন করবো। আমরা
    এককভাবে নির্বাচন করে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হতে চাই না। নির্বাচনের
    আগে সুবিধামত কোনও জোটের সঙ্গে গিয়ে নির্বাচন করতে পারি। তবে কোন জোটে
    যাবো তা এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি।’
    তিনি আরো বলেন, একমাত্র দেশপ্রেমিক সমাজই পারে একটি সমাজ তথা রাষ্ট্রের
    দুঃসময়ের হাল ধরতে, উত্তোরণ ঘটাতে এবং সঠিক দিক নির্দেশনা দিতে। দেশের এই
    ক্রান্তি লগ্ন থেকে বেড়িয়ে আসতে হলে দেশপ্রেমিকদের ঐক্যের বিকল্প নেই।
    তাই আমরা তৃণমূল এনডিএম, তৃণমূল জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন গঠন
    করেছি।
    তৃণমূল এনডিএম চেয়ারম্যান বলেন, লাখো শহীদের আত্মদানে মুক্ত এই
    বাংলাদেশকে শোষণমুক্ত অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের লক্ষ্য
    অর্জনে ‘তৃণমূল এনডিএম’ স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
    দেশপ্রেমিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়া এখন সময়ের দাবি। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে
    অর্জিত সংবিধানের চার মূলনীতি গণতন্ত্র, ধর্ম নিরপেক্ষতা, সমাজতন্ত্র ও
    তৃণমূল জাতীয়তাবাদ আজও প্রতিষ্ঠা করতে পারি নাই। লুটপাট ও গণতন্ত্রহীনতার
    দ্বি-দলীয় রাজনীতির নিষ্পেষণে শ্রমিক, কৃষক, নারী-শিশুসহ সাধারণ মানুষ আজ
    দিশেহারা। সব স্বাধীনতাই মুক্তি সংগ্রাম হয় না, আবার সব মুক্তির সংগ্রামই
    স্বাধীন দেশের জন্ম দেয় না। ‘৭১ সালে আমাদের সংগ্রাম ছিল একই সাথে
    স্বাধীনতার সংগ্রাম এবং মুক্তির সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় জাতীয় মুক্তির
    আন্দোলনের লক্ষ্যে পরিচালিত সংগ্রাম। যে কারণে এই জনযুদ্ধ সাধারণ মানুষের
    অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে বিজয় ছিনিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছিল।
    তিনি লিখিত বক্তব্যে আরো বলেন, মুক্তিসংগ্রামের সীমাহীন দুর্নীতি ও
    লুটপাট স্থায়ী করতে ক্ষমতায় থেকে যাওয়া বা ক্ষমতায় যাওয়ার বিকৃত কৌশলের
    প্রতিযোগিতা চলছে। সেই সুযোগে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী সাম্প্রদায়িক শক্তি
    সাম্প্রদায়িকতা ও প্রগতি বিরোধী তৎপরতায় লিপ্ত। সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো
    ক্ষমতাসীন ও শাসকগোষ্ঠির সরকার দুর্বলতার সুযোগে নানা জাতীয়
    স্বার্থবিরোধী শর্ত চাপিয়ে দিচ্ছে। ’৭২ সালে বুর্জোয়ারা সংবিধান করলেও
    শ্রেণী সীমাবদ্ধতার কারণে তারা তা বাস্তবায়ন করেনি। প্রায় সরকারই
    স্বাধীনতার শহীদদের স্বপ্নের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। এইসব
    বুর্জোয়াদের দ্বারা মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে না। জনগণের
    রক্তে, ঘামে অর্জিত বিজয় আমরা ভূলুণ্ঠিত হতে দিতে পারি না। আজকে তৃণমূল
    এনডিএমকেই জনগণের অর্জিত বিজয়ের স্বপ্নসাধ বাস্তবায়িত করতে হবে।
    তৃণমূল জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন আত্মপ্রকাশের সময় এনডিএমের
    চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজের সকল ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রম চিহ্ন করে বেঈমান
    ববি হাজ্জাজ গঠনতন্ত্র বিরোধী কার্যক্রম করার কারণে তাকে দল থেকে
    বহিস্কার করা হলো। আজ থেকে তার সাথে তৃণমূল এনডিএমের সাথে কোন সম্পর্ক
    রইলো না।
    এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ
    বীরমুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর ভূঁইয়া, নুরুল ইসলাম চৌধুরী,
    মুহাম্মদ শাহাব উদ্দিন, ফেরদৌস ওয়াহিদ সুজন, মো. লালন, মো. আবছার উদ্দিন,
    একরামুল হক চৌধুরী, আবুল বশর চৌধুরী, এ কে এম ফয়েজ উদ্দিন, মো. টিটু,
    মনসুর উদ্দিন, সমীর চক্রবর্তী, মো. আওয়াল, আবু বক্কর সিদ্দিকী, মো. নাজিম
    উদ্দিন, মোস্তাফিজুর রহমান, ইঞ্জিনিয়ার শহিদুল ইসলাম চৌধুরী, মিজানুর
    রহমান, মো. সেলিম উল্লাহ, জাকির হোসেন সেলিম, মো. আবুল কাসেম, মো. মনসুর
    হোসেন, সিরাজুন নূর বেগম, খোরশিদা বেগম, মো. জসিম উদ্দিন, মো. এমরান,
    নুরুল আবছার বিপ্লব, মোহাম্মদ আলী, আবদুস সোবহান, কামাল হোসেন, মো.
    বোরহান উদ্দিন, মো. সামসু, মো. শাহজালাল রাজন, মো. টিপু সোলতান, মো.
    মিল্লাত, মো. সাগর হোসেন, এম আবু সৈয়দ, মো. নেসার, মো. আফতাব উদ্দিন, মো.
    কামরুল ইসলাম, মো. জসিম উদ্দিন, মো. রফিক, মো. মোজাম্মেল, মো. জমির, মো.
    নুরুল ইসলাম, মো. কামাল উদ্দিন, আবুল কালাম আজাদ, মো. শহিদুল আলম চৌধুরী,
    শাহজাহান জুয়েল প্রমুখসহ হাজারো নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে