সীতাকুণ্ডে কিছুতেই বন্ধ হচ্ছে না ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা, নির্বিকার কতৃপক্ষ

0
83

সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি
সীতাকুণ্ডে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কিছুতেই বন্ধ হচ্ছে না ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা। একের পর দূর্ঘটনার পরও মহাসড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ঝুঁকিপূর্ণ এই যানটি।সরকার নিষিদ্ধ ঘোষণা করলেও স্বগৌরবে চলছে ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা। যার ফলে অহরহ ঘটছে দূর্ঘটনা। ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা বন্ধে কতৃপক্ষও নেয়নি কার্যকর কোন পদক্ষেপ।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সিটি গেইট থেকে বড় দারোগারহাটের দীর্ঘ অংশ জুড়ে এমন কোন অংশ নেই যেখানে অটোরিকশার বিচরণ নেই।যখন তখন অভারট্রিকিং,বেপরোয়া গতি ও উল্টো পথে চলাচলে ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা সর্বাগ্রে।আর এসব কারণে প্রায়শঃঘটছে ছোট বড় দূর্ঘটনা।শুধু দূর্ঘটনা নয় ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা বিদুৎ ঘাটতির অন্যতম কারণ।

উল্লেখ্য চলতি বছরের অটোরিকশার চাকার সাথে উড়না পেঁচিয়ে এক তরুণীর মৃত্যু হয়।অন্যদিকে ভাটিয়ারীতে অটোরিকশার চাপায় এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়।এছাড়াও চলতি মাসে অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে ৪ টি।আর এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন।তবে ঝুকিপূর্ণ অটোরিকশা কেন বন্ধ হচ্ছে না সেই প্রশ্ন সামনে আনার পর জানা যায় প্রতি মাসে মোটা অঙ্কের মাসোয়ারা দিয়ে চলছে অটোরিকশা। আর এসব মাসোয়ারা অটোরিকশা মালিক সমিতি নামে একটি সংগঠন টোকেন বাণিজ্যের মাধ্যমে প্রতিদিন সংগ্রহ করছে।যা মাস শেষে বিভিন্ন দপ্তর ও প্রভাবশালী মহলে ভাগ বাটোয়ারা চলে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায় সীতাকুণ্ডে প্রায় ৫ শতাধিক ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা চলাচল করে।এসব গাড়ি দৈনিক ১০ টাকা এবং মাসিক ৫০০ টাকা হারে মালিক সমিতিকে দিতে বাধ্য হয়।সেই হিসাবে প্রতি মাসে ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা থেকে আড়াই লক্ষ টাকারও বেশি টোকেন বাণিজ্য হয়।আর এসব টাকার সিংহ ভাগ চলে যায় বিভিন্ন মহলের কাছে।

মাসের পর মাস মাসোয়ারা দেওয়ার সুবাধে নির্বিঘ্নে চলছে অটোরিকশা। আর ভ্রুক্ষেপ নেই কতৃপক্ষের। উল্টো পথে চলাচলের কারণে মহাসড়ক এখন বিশৃঙ্খলার ক্ষেত্র।
সীতাকুণ্ড পৌরসদরের কয়েকজন অটোরিকশা চালক বলেন,আমরা প্রতি মাসে মাসোয়ারা দিয়ে থাকি। তাছাড়া দৈনিক ১০ টাকাতো আছেই।এসব টাকা কোন খাতে ব্যয় হয় তা জানতে চাইলে রিকশা চালকরা বলেন,একটা অংশ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে যায়,বাকিটা মালিক সমিতির নেতারা ভাগ করে নেয়।এসব টাকা না পরিশোধ করলে কাউকে সড়কে গাড়ি চালাতে দেওয়া হয়না বলেও জানান তারা।কেবল যারা চাঁদা দিবে তারাই সড়কে রিকশা নিয়ে বের হতে পারবে।

সীতাকুণ্ডের কয়েকজন ব্যাটারিবিহীন রিকশা চালক বলেন,অটোরিকশার দাপটে আমরা প্রায় অসহায়।কোন ভাড়া আমাদের আগে অটোরিকশা পায়।দৈনিক আমরা যে টাকা চয় করি অটোরিকশা তার দ্বিগুণের চেয়ে বেশি করে।ঝুঁকিপূর্ণ বিদুৎ চালিত এই গাড়ির নিষিদ্ধতা দাবি করেছেন এ্যানালগ রিকশা চালকরাও।

এ বিষয়ে কুমিরা হাইওয়ে থানার ওসি সাইদুল ইসলাম বলেন, ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা আটক চলছে।সড়কে অটোরিকশা চলাচলের কোন সুযোগ নেই। অটোরিকশা মহাসড়কে চলমান আছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দায়িত্ব শতভাগ পালন করা সম্ভব নয়। এটা সময় সাপেক্ষ বিষয়।

Leave a Reply