বর্তমান সরকার এখন ব্রেকফেল করা গাড়ীর মত বিপজ্জনক: ডাঃ শাহাদাত

0
803

আনিসুর রহমানঃ চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক

সাংগঠনিক সম্পাদক ডাঃ শাহাদাত হোসেন বলেছেন, বর্তমান সরকার এখন ব্রেকফেল করা গাড়ীর মত বিপজ্জনক। আজীবন ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য বিএনপি নেতা কর্মীদের দমন নিপীড়ন চালাচ্ছে। রাতের আধারে হানাদার বাহিনীর মতো ধরে নিয়ে পৈশাচিক নির্যাতন চালাচ্ছে।

আমরা গায়েবী জানাজার কথা জানতাম, কিন্তু
বর্তমান সরকারের সময়ে গায়েবী সংসদ সদস্য এখন নতুন করে নেতাকর্মীদের
গ্রেফতার করে গায়েবী মামলা দেয়া হচ্ছে। চট্টগ্রামসহ সারাদেশে গণগ্রেফতার
শুরু করেছে। তিনি আজ ৮ সেপ্টেম্বর শনিবার বিকালে চট্টগ্রাম মহানগর
বিএনপির উদ্যোগে অসাংবিধানিকভাবে কারাগারে আদালত বসানোর প্রতিবাদে
নাসিমনভবনস্থ দলীয় কার্যালয় মাঠে কেন্দ্রঘোষিত প্রতিবাদ সমাবেশে সভাপতির
বক্তব্যে এ কথা বলেন। এতে তিনি আরো বলেন, বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ
প্রতিহিংসা পরায়ণ হয়ে অসাংবিধানিকভাবে কারাগারে আদালত বসিয়ে বেগম জিয়াকে
আরেকটি প্রহসনের সাজা দিতে পাঁয়তারা করছে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার
জামিন প্রক্রিয়া বার বার বাঁধাগ্রস্ত করছে সরকার। তিনি একের পর এক মামলায়
উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেলেও তা আবার নানা কায়দায় আটকে দিচ্ছে। সরকারের
নির্দেশেই বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে আটকে আছেন। বেগম জিয়া সুবিচারে নয়
প্রতিহিংসামূলক সরকারী বিচারে কারাবন্দি।

ডা. শাহাদাত বলেন, আজীবন
ক্ষমতায় থাকার জন্য ত্রয়দশ সংশোধনী আইন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা
বাতিল করেছে। সংবিধান সংশোধন করা যায়। যেমনটি ক্ষমতাসীন দল করেছে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা যেভাবে বাদ দিয়েছেন ঠিক সেইভাবে আবার তা
সংবিধানে সংযোজন করতে হবে। যতই ষড়যন্ত্র ও অপচেষ্টা করুন না কেন
আওয়ামীলীগকে এবার বিদায় নিতেই হবে। সরকারকে পদত্যাগ করে সংসদ ভেঙে দিয়ে
নির্বাচন দিতে হবে। অবিলম্বে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে
হবে।
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসেম বক্কর বলেছেন,
রাজনৈতিক প্রতিহিংসার মামলায় সাজা দিয়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে
অন্যায়ভাবে কারাগারে বন্দি করে রাখা হয়েছে। শুধু তাই নয় দেশনেত্রী
বর্তমানে খুবই অসুস্থ। তাঁর বা হাত ও বাম পা প্রায় অবশ হয়ে গেছে। অসহ্য
ব্যাথা অনুভব করছেন তিনি। অথচ সরকার তার সুচিকিৎসার কোন উদ্যোগ গ্রহণ করে
নাই। সরকার তাকে বিনা চিকিৎসায় হত্যা করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। তিনি বলেন,
বেগম জিয়া অসুস্থতার কারণে আদালতে হাজির হতে না পারার অজুহাতে সম্পূর্ণ
অসংবিধানিক ভাবে আদালতকে কারাগারে নিয়ে গেছে সরকার। দেশের জনগণ সরকারের
এই বেআইনি সিদ্ধান্ত মানে না। সরকারকে এই ধরনের হটকারি সিদ্ধন্ত থেকে
ফিরে আসার আহবান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, সরাদেশের মত চট্টগ্রামের জনগণ আজ
বেগম জিয়ার মুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবিতে সোচ্চার। এতে সরকার ভীতসন্ত্রস্ত
হয়ে রাতের আধারে বিএনপির নেতাকর্মীদের বাড়িতে অভিযান চালাচ্ছে, নিরীহ
নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করে গায়েবী মামলা দিচ্ছে। ইতিমধ্যে বিনা কারণে
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক ইয়াকুব চৌধুরী, শ্রম
বিষয়ক সম্পাদক আবু মুছা, স্বেচ্চাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন
বুলু, আকবর শাহ্ থানা বিএনপির সভাপতি আবদুস সাত্তার সেলিম, সহ সভাপতি
শহীদ উল্লাহ ভূইয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া গোলাপ, ২ নং ওয়ার্ড
বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক জোনাব আলীসহ অসংখ্য নেতাকর্মীকে গ্রেফতার
করা হয়েছে। আমরা চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির পক্ষ থেকে রাতের আধারে গণ
গ্রেপ্তার বন্ধ করে গ্রেফতারকৃত নেতাকর্মীদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি করছি।
অন্যথায় চট্টগ্রাম মহানগর থেকে স্বেচ্চায় কারাবরণের মতো কর্মসূচি ঘোষণা
করা হবে।
কেন্দ্রীয় শ্রমবিষয়ক সম্পাদক এম এ নাজিম উদ্দিন বলেন, সরকার এখন
ভীতসন্ত্রস্ত অবস্থায় আছে। জনগণ আওয়ামলীগকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে।
তাই তারা বিএনপি নেতা কর্মীদের গণগ্রেফতার শুরু করেছে। কোন রাজনৈতিক
কর্মসূচি না থাকলেও সম্পূর্ণ বিনাকারণে নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করছে।
কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য সামশুল আলম বলেছেন, এখন আর ঘরে বসে থাকার সময়
নেই। সরকারের দুরভিসন্ধি জনগণের কাছে ধরা পরে গেছে। নেত্রীকে মুক্ত করতে
সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পরতে হবে।
সিনিয়র সহসভাপতি আলহাজ্ব আবু সুফিয়ান বলেছেন, নির্বাচন নিয়ে সংবিধানের
দোহায় দিয়ে কোন গড়িমসি চলবে না। নির্বাচনে সেনা মোতায়েন করতে হবে। জনগণের
ভোট জনগণ দিতে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের কোন বিকল্প নেই। শেখ হাসিনা
সুষ্ঠু নির্বাচনের শত্র“। তার অধীনে নির্বাচনের অর্থই হচ্ছে ভোটারদের
ভোটধিকার হরণ। শেখ হাসিনার অধীনে কোন নির্বাচন জনগণ মেনে নিবে না।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সহ
সভাপতি আলহাজ্ব এম এ আজিজ, মোহাম্মদ মিয়া ভোলা, হাজী মোহাম্মদ আলী, আশরাফ
চৌধুরী, হারুন জামান, সফিকুর রহমান স্বপন, অধ্যাপক নুরুল আলম রাজু এস এম
আবুল ফয়েজ, উপদেষ্টা হাজী নবাব খান, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক এস এম সাইফুল
আলম, যুগ্ম সম্পাদক কাজী বেলাল উদ্দিন, শাহআলম, ইসকান্দর মির্জা, ইয়াছিন
চৌধুরী লিটন, আবদুল মান্নান, জাহাঙ্গির আলম দুলাল, মনজুর আলম মঞ্জু,
আনোয়ার হোসেন লিপু, গাজী মোহাম্মদ সিরাজ উল্লাহ, সাংগঠনিক সম্পাদক মনজুর
আলম চৌধুরী মঞ্জু, কামরুল ইসলাম, হাজী মো. তৈয়ব, প্রচার সম্পাদক শিহাব
উদ্দিন মুবিন, নগর মহিলা দল সভাপতি কাউন্সিলর মনোয়ারা বেগম মনি, সহসাধারণ
সম্পাদক হাজী মো. সালাহউদ্দিন, সামশুল আলম, জি এম আয়ুব খান, এস এম জি
আকবর, ইব্রাহিম চৌধুরী, সম্পাদকবৃন্দ মো. আলী মিঠু, হামিদ হোসেন, ডা. এস
এম সরোয়ার আলম, দিদারুল আলম চৌধুরী, হেলাল চৌধুরী, ইসমাইল হোসেন
(কমিশনার), আবদুল বাতেন, থানা সভাপতি হাজী বাবুল হক, সাইফুর রহমান বাবুল,
মোশারফ হোসেন দিপ্তী, হাজী হানিফ সওদাগর, মামুনুল ইসলাম হুমায়ুন,
কাউন্সিলর মো. আজম, মো. সেকান্দর, আবদুল্লাহ আল হারুন, ডা. নুরুল আবছার,
সহসম্পাদকবৃন্দ আবদুল হালিম স্বপন, মো. সেলিম, রফিকুল ইসলাম, মো: ইদ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে