পানিবন্দি মানুষের বিশুদ্ধ পানির সংকট

0
133

হাসান মাহমুদ,টাঙ্গাইল :
টাঙ্গাইলে আবারো তৃতীয় দফায় চার নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে করে জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতি হচ্ছে। জেলায় এখন পর্যন্ত ৪টি নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। জেলার ১১টি উপজেলা বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে। তবে নদী তীরবর্তী চরাঞ্চলের গ্রামগুলো নতুুন করে প্লাবিত হচ্ছে। রাস্তা-ঘাট ও ব্রিজ পানির স্রোতে ভেঙে যাচ্ছে। ব্যহৃত হচ্ছে যানচলাচলেও।

নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের ঘড়-বাড়িসহ ফসলি জমি বন্যার পানিতে তলিয়ে আছে। গ্রাম ছাড়াও বিভিন্ন উপজেলার পৌর এলাকায় বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। বন্যা দুর্গত এলাকায় বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। এছাড়াও পানিবন্দিরা অভিযোগ করেছে ত্রাণ সহায়তাও পাচ্ছে না।

বন্যায় জেলায় এখন প্রায় ৪ লাখ মানুষ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন প্রায় পৌঁনে ২ লাখ মানুষ। হুমকির মুখে রয়েছে বিভিন্ন এলাকার রক্ষাবাঁধ। আর দ্বিতীয় দফার বন্যায় ৮ হাজারের বেশি হেক্টর ফসলি জমি নিমজ্জিত হয়েছে।

টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, গত ২৪ ঘন্টায় শনিবার সকালে যমুনা নদীর পানি ৭ সে.মি. বৃদ্ধি বিপদসীমার ৮৩ সে.মি., ঝিনাই নদীর পানি ১০ সে.মি. বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৯৭ সে.মি. এবং বংশাই নদীর পানি ১০ সে.মি. বৃদ্ধি পেয়ে ৬৫ সে.মি. বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া ধলেশ্বরী নদীর পানি ৭ সে.মি. কমে বিপদসীমার ১৫৫ সে.মি. বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

টাঙ্গাইল প্রশাসনের জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন অফিস সূত্র জানায়, জেলায় ১২ টি উপজেলার মধ্যে ১১টি উপজেলার নিম্নাঞ্চল এবং চরাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বন্য কবলিত উপজেলাগুলো হচ্ছে- টাঙ্গাইল সদর, নাগরপুর, দেলদুয়ার, ভূঞাপুর, কালিহাতী, ধনবাড়ী, গোপালপুর, বাসাইল, মির্জাপুর, সখীপুর এবং ঘাটাইল। জেলার ১১ উপজেলার ৭৯ টি ইউনিয়নের অন্তত ৫৫৮ টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। অপরদিকে, ৬টি পৌরসভা আংশিক এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এদিকে, বন্যার পানিতে ডুবে কালিহাতী ১ জন, নাগরপুর ২ জন ও ভূঞাপুর উপজেলায় ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এনিয়ে জেলায় মোট মৃত্যুর সখ্যা দাঁড়াল ৫ জনে।

এ বছর বন্যায় ৩ লাখ ৯৩ হাজার ৬’শ ৭১ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানিবন্দি পরিবারের সংখ্যা ৪৩ হাজার ৩০০টি। আর পানিবন্দি লোক সংখ্যা ১ লাখ ৭৩ হাজার ২শ’ জন। অপরদিকে ৭’শ ৬১টি ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে এবং আরো আংশিক ২৮ হাজার ৮’শ ৯৫ টি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়াও ২ টি স্কুল নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। আংশিক আরো ৮৭ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এছাড়া নদী ভাঙনে ১টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত এবং আংশিক ৩৬ টি প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই ১১ উপজেলার ৬২১ বর্গ কিলোমিটার এলাকা প্লাবিত হয়েছে। সূত্র আরও জানায়, জেলায় এখন পর্যন্ত ২ কি.মি. সম্পূর্ণ কাচা রাস্তা এবং আংশিক ৬০০ কি.মি. কাঁচা রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অপরদিকে ৮১ কি.মি. পাকা রাস্তা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়াও সম্পূর্ণ ৫টি ব্রিজ এবং আংশিক ৪৯টি ব্রিজ ক্ষতি হয়েছে।

অন্যদিকে টিউওবেল ৭ হাজার ৬’শ ৮৬ টি এবং ৫ কি.মি. আংশিক নদীর বাঁধ ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া জেলায় মোট ৩৯ টি আশ্রয় কেন্দ্র রয়েছে। এই আশ্রয় কেন্দ্রের লোক সংখ্যা ৩ হাজার ২০১ জন। ১৮টি গবাদিপশুও আশ্রয় নেয়। ১’শ ১৩টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে।

এছাড়াও গত শুক্রবার তথ্য অনুযায়ী এ জেলায় ৬০০ মে.টন জির চাল, নগদ ১৩ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। অপরদিকে শিশু খাদ্য ২ লাখ টাকা এবং গো-খাদ্য ৬ লাখ টাকা এবং শুকনা প্যাকেট ৬ হাজার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এগুলো বিতরণ কার্যক্রম অব্যহত রয়েছে।

টাঙ্গাইল কৃষি বিভাগ সূত্র জানায়, প্রথম দফায় বন্যায় টাঙ্গাইলে ৩ হাজার ৮’শ ৩৯ হেক্টর ফসলী জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আর এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ২৭ হাজার ২’শ ৩৩ জন। আর দ্বিতীয় দফায় বন্যায় এখন পর্যন্ত গত শুক্রবার ৮ হাজার ৪৬ হেক্টর ফসলি জমি নিমজ্জিত হয়েছে। এর মধ্যে বোনা আমন, রোপা আমন (বীজতলা), আউশ, সবজি, লেবু রয়েছে।

টাঙ্গাইলের পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম বলেন, আবারো নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। সামনে বন্যা পরিস্থিতি আরো ব্যাপক অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিভিন্ন এলাকার রক্ষাবাধ ভাঙন রোধে কাজ করা হচ্ছে। পানি সরে গেলে নদী ভাঙন তীব্র হবে বলে তিনি জানান।

Leave a Reply