ফেয়ার এন্ড লাভলী মেখেও ফর্সা হয়নি, কোম্পানির বিরুদ্ধে কিশোরীর মামলা!

0
150

অনলাইন ডেস্ক: কিছু কিছু বিজ্ঞাপন মানব সমাজের মানসিকতার পরিচয় দেয়। যেমন ফেয়ার এন্ড লাভলীর বিজ্ঞাপন মনে করিয়ে দেয় মানুষের ফর্সা রং এর প্রতি কতখানি চাহিদা! যুগ এত উন্নত হওয়ার পরও ‘পেহেলে দর্শনধারী’ প্রবাদটি এখন ও রয়ে গেছে। আর মানুষকে তার রং এর ভিত্তিতে বিচার করাটা মধ্যযুগীয় বর্বরতার মতোই ঘৃণ্য ব্যাপার।

22 বছর বয়সী চন্দনা হিরাণ ত্বকের রঙ সম্পর্কিত প্রচারের ফলে বিরক্ত হয়ে ওঠেন এবং ব্র্যান্ডের বিরুদ্ধে তিনি এটি পরিবর্তনের জন্য আবেদন করেন। বছরের পর বছর অনেক নারী এরকম অপপ্রচারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। এর ফলে এক সময় এফএমসিজি প্রধান হিন্দুস্তান ইউনিলিভার বলেন যে-“পুনরায় ব্র্যান্ডিং অনুশীলন করার সময় ফেয়ার এন্ড লাভলি ক্রিম এর থেকে ‘ফেয়ার’ শব্দটি সরিয়ে দেওয়া হবে।

ছবি-গুগল

“নাম পরিবর্তন করার সপক্ষে ইউনিলিভারের বক্তব্য ছিল-“আমি ফেয়ার এন্ড লাভলীর বিরুদ্ধে একটি পিটিশন দায়ের করি। তারা দাবি করেছিল যে তারা বিক্রির জন্য বছরের পর বছর প্রতিক্রিয়াশীল বিজ্ঞাপন ও ব্র্যান্ডিং এর পরে তাদের বিবরণ পরিবর্তন করতে পারে-একটি ঝকঝকে ক্রিম”

হিরণের ঐ আবেদন পত্রে প্রায় ১৫০০০ জন মানুষ সাইন করেন। তাও মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যে। হিরনের বক্তব্য ছিল-“যখন অনেক ভারতীয় সেলিব্রিটি পশ্চিমা দেশগুলিতে বিএল‌এম আন্দোলনকে সমর্থন করতে শুরু করেছিল। তখন লোকদের মধ্যে ও ত্বকের রঙের চর্চা নিয়ে প্রশ্ন করা শুরু হয়েছিল।”

তিনি সংবাদমাধ্যমকে আরও বলেন যে-“এই বিষয়টা পুরো অযৌক্তিক।আমি আমার রং এর কোন শীর্ষস্থানীয় এমন অভিনেত্রীকে পায় না যারা আমার ত্বকের রং কে সমর্থন করে এমন কোন ম্যাগাজিন বা বিজ্ঞাপন ও পা‌ই না। এমনকি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এ ফটো এডিটিং সাইটগুলিতে ফিল্টারগুলি ও আপনাকে পরিষ্কার দেখানোর জন্য ক্রমাগত চেষ্টা করে চলেছে।”

জাতিগত ত্বকের রঙ নিয়ে বিজ্ঞাপনের বিপক্ষে ক্রমবর্ধমান কণ্ঠস্বর গুলির পরিপেক্ষিতে সংস্থাটি বলেছে যে তারা এমন একটি নতুন নাম অনুমোদন করার অপেক্ষায় রয়েছে, যার ফলে প্রতিটি ত্বকের রংকেই উদযাপন করে আর এই সংশোধিত নামটি পরবর্তী কয়েক মাসের মধ্যেই বাজারে পাওয়া যাবে।

সূত্র: কলমে কোলকাতা

Leave a Reply