রাজরাজেশ্বরে উদ্বোধনের আগেই নদীগর্ভে নব-নির্মিত স্কুল কাম সাইক্লোন সেন্টার

0
451

ব্যুরো প্রধান চাঁদপুর:
পদ্মা-মেঘনার ভয়াবহ ভাঙ্গনে কয়েক ঘন্টার ব্যবধানে চাঁদপুর সদর উপজেলার রাজরাজেশ্বরে নব-নির্মিত স্কুল কাম সাইক্লোন সেন্টার নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। মাত্র দু’মাস মাস আগে কর্তৃপক্ষের কাছে এই দৃষ্টিনন্দন ভবনটি হস্তান্তর করা হয় বলে জানা যায়।

এছাড়াও গত কয়েক দিনের ভাঙ্গনে ইউনিয়নের প্রায় ২শতাধিক বসতবাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হয়েছে। বর্তমানে আরো প্রায় ৫শ’ বাড়িঘর ভাঙ্গনের মুখে পড়েছে। ক্ষদিগ্রস্তরা ভিটেমাটি রক্ষায় দাবি জানিয়েছেন সরকারের কাছে।

চাঁদপুর সদর উপজেলার মেঘনা নদীর পশ্চিমপাড় রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নে আবারো পদ্মা-মেঘনার ভয়াবহ ভাঙন শুরু হয়েছে। উত্তরাঞ্চল থেকে নেমে আসা বন্যার পানির প্রবল স্রোতে গত ১০/১২ দিন ধরে তীব্র নদী ভাঙ্গন দেখা দেয়।

শুক্রবার ১৭ জুলাই দিনভর নদী তীরবর্তী এলাকায় ভাঙ্গনের ভয়াবহতা আরও ব্যাপকভাবে দেখা দেয়। ভাঙ্গনে নদীগর্ভে বিলিন হয়ে গেছে তৃতল ভবন বিশিষ্ট নব-নির্মিত রাজরাজেশ্বর ওমর আলী স্কুল কাম সাইক্লোন সেন্টার।

ওমর আলী স্কুল কাম সাইক্লোন সেন্টারের ঠিকাদার প্রতিনিধি ও ইউপি সদস্য পারভেজ গাজী রনি জানান, ওমর আলী উচ্চ বিদ্যালয়টি প্রায় ৭/৮ বার নদী ভাঙ্গনের শিকার হয়েছে। শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া এবং ইউনিয়নবাসীর কথা চিন্তা করে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপির প্রচেষ্টায় ২ কোটি ২৯ লাখ টাকা ব্যায়ে তৃতলা ভবন বিশিষ্ট বিদ্যালয় ভবন কাম সাইক্লোন সেন্টার নির্মাণ করা হয়।ভবনের সাইড সিলেকশনের সময় নদী এখান থেকে ১৫শ’ কিলোমিটার দূরে ছিল। দু’মাস আগে কর্তৃপক্ষের কাছে ভবনটি হস্তান্তর করা হয়।

তিনি আরো জানান, নবনির্মিত ভবনটিতে বিদ্যালয়ের ক্লাস চলার পাশাপাশি ঘূর্ণিঝড় আম্পান ও ফণীর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত বহু পরিবার আশ্রয় নিয়েছিল। নদী ভাঙ্গনের শিকার স্থানীয়রা জানান, জোয়ার শেষে ভাটার সময়টাতেই ভাঙ্গন শুরু হয়। তবে গত ৩০ বছরের ইতিহাসে এবারই ভাঙ্গনের ভয়াবহতা চরম পর্যায়ে চলে গেছে। কারণ এবছর পার্শবতী শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া ও ভেদরগঞ্জ এলাকায় মেঘনার ভাঙ্গনরোধে যে বাঁধ দেয়া হয়েছে, তার পানি প্রবাহের মুখটি দেয়া হয়েছে রাজরাজেশ্বরের দিকে। এর ফলে ওই জেলার দেয়া বাঁধে ধাক্কা খেয়ে স্রোত এখানকার পাড়ে আঘাত হানছে।

ক্ষতিগ্রস্তরা আরো বলেন, ‘আমরা কোন ত্রাণ চাই না। আমাদের ভিটেমাটি রক্ষায় স্থায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক। ভাঙ্গন ঠেকাতে স্থানীয় এমপি শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির হস্তক্ষেপ কামনা করেছি।
রাজরাজেশ্বর ইউপি চেয়ারম্যান হাজী হযরত আলী বেপারী জানান, উজান থেকে প্রবল বেগে পানি চাঁদপুর হয়ে বঙ্গোপসাগরে প্রবাহিত হওয়ায় এখানকার চরাঞ্চলে মেঘনা ও পদ্মা নদীর মিলনস্থলে প্রচন্ড ঢেউ এবং ঘূর্ণিস্রোতের সৃষ্টি হয়। এ কারণে নদী আবারো বর্ষায় ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করে। গত ১০ দিনের ভাঙ্গনে ইউনিয়নের রাজারচর, খাসকান্দি, জাহাজমারাসহ বেশ কয়েকটি গ্রাম নদীগর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। ২শতাধিক বসতবাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হয়েছে। বর্তমানে আরো প্রায় ৫শ’ বাড়িঘর ভাঙনের মুখে রয়েছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে