গাইবান্ধার ফুলছড়িতে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ: আতংকে ৩০ গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ

0
437

স্বজন ইসলাম, (গাইবান্ধা):- অস্বাভাবিকভাবে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় গাইবান্ধার ফুুলছড়ি উপজেলার বন্যা পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ রুপ নিচ্ছে। এরই মধ্যে ব্রহ্মপুত্র বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ৪টি অংশ অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ভাষারপাড়া এলাকায় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় ৩০টি গ্রামের মানুষের মাঝে আতংক দেখা দিয়েছে।

ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় ফুলছড়ি উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। এতে বন্যা কবলিত এলাকায় বসবাসকারী মানুষের দুর্ভোগ অনেক বেড়ে গেছে। তাদের মধ্যে বিশুদ্ধ পানি, পয়নিস্কাশন ও খাবারের সংকট দেখা দিয়েছে।

এদিকে বুধবার (১৫ জুলাই) ভোরে উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের ভাষারপাড়া এলাকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে গর্তের সৃষ্টি হয়ে পানি প্রবেশ করায় বাঁধের পশ্চিম পার্শ্বে বসবাসকারী ৩০টি গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ আতংকিত হয়ে পড়ে। তারা নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য দিকদ্বিক ছুটাছুটি করতে থাকে। অনেককে শুকনো খাবার ক্রয় ও আসবাবপত্র রক্ষার প্রয়োজনীয় সরঞ্চামাদি ক্রয়ে স্থানীয় দোকানগুলোতে ভীড় করতে দেখা যায়। খবর পেয়ে ফুলছড়ি উপজেলা প্রশাসন, গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ড, ফুলছড়ি ফায়ার সার্ভিসের কর্মী ও স্থানীয় জনসাধারণ সম্মিলিতভাবে বাঁধ রক্ষার কাজে নেমে পড়েন। দিনভর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাঁধটি তাৎক্ষণিক ভাঙন থেকে রক্ষা করা হলেও এখনও ঝুঁকিমুক্ত হয়নি।

ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু রায়হান দোলন বলেন, বুধবার ভোরে বাঁধে গর্তের সৃষ্টি হয়ে পানি প্রবেশ করার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই। তখন গর্তটি ক্রমেই বড় হচ্ছিল এবং বাঁধের পাড় ভাঙছিল। এসময় পানি উন্নয়ন বোর্ড, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় বাঁধটি রক্ষায় মাটি ও বালুর বস্তা ফেলা হয়। দিনভর সকলের সহযোগিতায় বাঁধটি আপাতত রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে। তবে ঝুঁকিমুক্ত নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, বুধবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘন্টায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানি তিস্তামুখঘাট পয়েন্টে ১৩ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ১১৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে পানি বৃদ্ধি গতি কিছুটা কমেছে বলে পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে