যমুনা পাড়ের মানুষের প্রধানমন্ত্রীর কাছে খোলা চিঠি

35
548

তারিখঃ ০৯-০৭-২০২০
বরাবর,
প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা, বাংলাদেশ।
বিষয়ঃ যমুনা নদীর ভাঙ্গন রক্ষায় জরুরী ভাবে দ্রুত স্থায়ী বাধ নির্মাণের জন্য আবেদন প্রসঙ্গে।

জনাবা,
মমতাময়ী দেশনেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমরা আপনার বাবার নের্তৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের বিনিময়ে তারই হাতে গড়া সুজলা সুফলা শস্য শ্যামলা সোনার দেশ এবং আপনার গড়া ডিজিটাল বাংলাদেশের টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতী উপজেলা গোহালিয়াবাড়ি ইউনিয়নের গড়িলাবাড়ী ও বেলটিয়া গ্রাম সবচেয়ে অবহেলিত এলাকার অসহায় বাসিন্দা।

আমরাও সুন্দর ভাবে বাঁচতে চাই, আমরাও নিশ্চিন্তে ঘুমাতে চাই, দু-বেলা পেট ভরে খাবার খাইতে চাই, আমরাও লেখা পড়া করে শিক্ষা অর্জন করে আপনার সাথে ডিজিটাল দেশ গড়ায় অংশ নিতে চাই।

কিন্তু বিশ্বাস করুন, আমাদের সেই স্বপ্ন আশা ভেঙে ধূলিস্যাৎ হয়ে যাচ্ছে, বর্ষা মৌসুমের শুরু থেকেই আমাদের এলাকায় যমুনার ভয়াল থাবা শুরু হয়েছে, ফলে এলাকাবাসীর ঘর বাড়ি, জায়গা জমি, গাছপালা ফসল, মসজিদ মাদ্রাসা, স্কুল কলেজ সহ সবকিছু বিলীন হয়ে যাচ্ছে, যেখানে দিনমজুর দিন এনে দিন খায়, কৃষক তার ফসল ফলিয়ে বিক্রি করে দু-মুঠো খাবার খায়, সেখানে সবকিছু ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে যমুনার সর্বনাশা বন্যায় গ্রাসে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমুহ ভাঙনের ফলে শিক্ষা কার্যক্রম বিনষ্ট হয়ে যাচ্ছে,
সেই সাথে আমাদের এলাকার পাশেই আপনার উদ্ভোদন করা বঙ্গবন্ধু সেতু, এভাবে ভাঙতে থাকলে সেটাও পরে যাবে চরম হুমকির মুখে।।

বিশ্বাস করুন মমতাময়ী জননেত্রী, শুধু এই বছরই যে ভাঙছে তা নয় এর আগেও একাধিকবার পালাক্রমে মানচিত্র থেকে মুছে যাচ্ছে উক্ত এলাকা, অনেকেই নিজের জায়গা জমি হারিয়ে একাধিকবার বাড়ি স্থানান্তর করে একেবারে নিঃস্ব হয়ে অন্যের জমিতে মাথা গুজেছিল, কিন্তু রাক্ষুসে যমুনা নদী সেই মাথা গুজাটাও নষ্ট করে দিচ্ছে, অনেকেই খোলা আঁকাশের নিচে বসবাস করছে, করোনা ভাইরাস মহামারীতে যেখানে চাকরি ব্যবসা বন্ধ ছিল, সংক্রমণ রোধে ঘরে নিরাপদে অবস্থান নিয়ে থাকার কথা সেখানে সহায় সম্বল হারিয়ে দেউলিয়া হয়ে যাচ্ছে উক্ত এলাকার মানুষ।

বিশ্বাস করুন মমতাময়ী নেত্রী, আপনি যথেষ্ট সহায়তা করে যাচ্ছেন মানুষকে শান্তিতে রাখার জন্য দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন, কিন্তু আমরা অসহায় গরীবরা আপনার সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছি, কারণ, আমাদের প্রয়োজন স্থায়ী বাসস্থান, সে জন্য দরকার হলো এলাকা রক্ষায় ভাঙন রক্ষা বাঁধ।

যেটা আজও পর্যন্ত পাইনি, যদিও প্রতি বছর শোনা যায় বাধ নির্মাণ হবে কিন্তু সেটা আর হয়না, তাই জরুরী ভাবে কার্যকরী ব্যাবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে আমাদেরকে মূল্যায়ন করে যদি অতিদ্রুত ভাঙ্গন রক্ষা বাধ দেয়ার ব্যবস্থা করতে পারেন তাহলে আমরা অসহায় মানুষরা বেচে থাকতে পারবো আর আপনার সাথে দেশ গড়ার কাজে অংশিধার হতে পারবো।।

তা না হলে যমুনার ভাঙনে ঘর বাড়ি জমি জমার সাথে আমাদেরকেও নদীতে ঝাপ দিয়ে মরতে হবে, কিন্তু আমরা বাঁচতে চাই আমরাও দেশের জন্য কাজ করতে চাই, দয়া করে সেই সুযোগটা আমাদেরকে করে দিবেন। আমাদেরও পরিবার পরিজন নিয়ে আত্বীয় স্বজনের সাথে সুন্দরভাবে বেচে থাকার খুব ইচ্ছে করে,
তাই, প্রিয় নেত্রী আমরা আপনার সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রইলাম।।

অতএব,
সবিনয়ে বিনীত নিবেদন এই যে আশা করি আমাদেরকে রক্ষার জন্য যমুনা নদী ভাঙ্গন রোধে দ্রুত বাঁধের ব্যবস্থা করে আমাদের এলাকাকে বাসযোগ্য করবেন এবং আমাদেরকেও ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মানে আপনার সাথে অংশিধার করে নিবেন।।

নিবেদকঃ
নদী ভাঙ্গন কবলিত অসহায় গরীব মানুষদের পক্ষ থেকে।
টাঙ্গাইল, কালিহাতী, গোহালিয়া বাড়ী।

35 মন্তব্য

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে