দাবী আদায়ে বন্দর ব্যবহারকারী শ্রমিক কর্মচারীর পাশে থাকবে: মেয়র

0
905

আনিসুর রহমান: চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহারকারী শ্রমিক-কর্মচারী লীগের সাধারণ সভায় সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন: শ্রমিকদের কায়িক পরিশ্রমে বন্দরের সক্ষমতার উত্তোরণ ঘটিয়েছে। তাই শ্রমিকদের প্রতি অবহেলা নয়, সম্মান চাই। বন্দর শ্রমিক কর্মচারীদের যৌক্তিক দাবী আগামী ৩০শে আগষ্ঠ এর মধ্যে মেনে নেয়ার জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রতি তিনি আহবান জানিয়েছেন।

আজ সকালে চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহারকারী শ্রমিক-কর্মচারী লীগ আয়োজিত বিশেষ সাধারণ সভায় প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন। বন্দর ব্যবহারকারী শ্রমিক কর্মচারী লীগ(সিবিএ)’র সভাপতি মোহাম্মদ মীর নওশাদের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক হাজী মো. আলমগীরের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতীয় শ্রমিক লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক আলহাজ্ব সফর আলী, কাউন্সিলর হাজী মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, উৎপল বিশ্বাস, হাজী মো. কামাল, নুরুল আবছার, সরোয়ার মিয়া, হুমায়ুন কবির, বাপ্পী প্রমুখ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিটি মেয়র শ্রমিকদের ঐক্য প্রত্যাশা করে বলেন, ন্যায়সঙ্গত দাবী বাস্তবায়নের জন্য শ্রমিকদের ঐক্য প্রয়োজন। শ্রমিক ঐক্যবদ্ধ থাকলে সকল অধিকার আদায় করা সম্ভব ।

তিনি আরো বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি। বাজেটের দুই তৃতীয়াংশ অর্থ এ বন্দর থেকে জোগান হয়ে থাকে। তাই চট্টগ্রাম বন্দর সচল থাকলে দেশও সচল থাকবে। মেয়র একটি স্বার্থন্বেষী মহল কতিপয় শ্রমিক-কর্মচারীকে পূজিঁ করে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপপ্রয়াসে লিপ্ত রয়েছেন বলে উল্লেখ করেন। তারা চট্টগ্রাম বন্দরের সুনাম ও সুখ্যাতি এবং দেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকা শক্তি চট্টগ্রাম বন্দরকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপপ্রয়াস চালিয়ে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করছে। এ ধরনের দেশপ্রেম বিবর্জিত কাজে যারা লিপ্ত তাদের বিষয়ে শ্রমিক কর্মচারীদের সজাগ ও সচেতন থাকতে হবে। এ প্রসঙ্গে সিটি মেয়র বলেন, নেতৃত্বকে ব্যক্তির স্বার্থে নয়, শ্রমিক শ্রেণী, দেশ ও জাতির স্বার্থে নিয়োজিত রাখতে হবে। মেয়র চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহারকারী শ্রমিক কর্মচারী লীগের যৌক্তিক দাবীসমূহ পূরণের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবেন বলে শ্রমিকদের আশ্বস্থ করেন।

বন্দর ব্যবহারকারী শ্রমিক কর্মচারী লীগের ১৪ দফা দাবী সমূহের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের বার্থ, টার্মিনাল ও শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটরস মালিকদের অধীনে কর্মরত উউন্সম্যানদেরকে বন্দরের শ্রম শাখায় অন্তর্ভূক্তি, কর্মক্ষেত্রে আঘাত প্রাপ্ত শ্রমিক কর্মচারীদের জন্য ৪০০ টাকা হিসাবে চিকিৎসাকালীন সময়ের দৈনিক জীবিকাভাতা প্রদান, কর্মরত মেহনতি শ্রমিক কর্মচারীদের জন্য ‘গ্রুপ ইন্সুরেন্স’ বাস্তবায়ন,‘টনিজ ভিত্তিতে মজুরী প্রদান, বর্ষাকালীন সময়ে প্রতি বৎসর রেইনকোট প্রদান, বন্দরের কন্টেইনার বার্থ,কার্গো বার্থ, বর্হিঃনোঙ্গর এবং সিসিটি ও এনসিটি টার্মিনাল বার্থসহ সর্বক্ষেত্রে বন্দরের তালিকাভূক্ত শ্রমিক কর্মচারী বাধ্যতামূলক নিয়োগ করা, বর্তমানে কর্মরত ল্যাসিং আনল্যাসিং শ্রমিকদের ক্ষেত্রে ‘থ্রি শিফট’ চালু জেনারেল কার্গো বার্থে ল্যাসিং আনল্যাসিং শ্রমিক নিয়োগ, বন্দর পরিচয়পত্র প্রদান, জরুরীভাবে পর্যাপ্ত পানি ও টয়লেট সুবিধা প্রদান, শ্রমিক কর্মচারীদের মেয়ের বিবাহ বাবদ প্রদত্ত অনুদান, সিবিএ’র জন্য বন্দরের ‘জায়গায় ও অর্থায়নে’ আসবাবপত্রসহ অফিস বরাদ্দ প্রদান রয়েছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে