তিন সিটির সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে সুজনের সংশয়

0
718

আসন্ন তিন সিটি করপোরেশনে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হবে কিনা তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন। একইসঙ্গে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সমালোচনা করে সুজন বলেছে এসব নির্বাচনে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করতে পারেনি ইসি।
রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব সংশয়ের কথা প্রকাশ করা হয়।

‘রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধিতাকারী প্রার্থীদের তথ্য উপস্থাপন’ উপলক্ষে এ সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন।

আগামী ৩০ জুলাই রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তিনটি সিটি কর্পোরেশনে মেয়র পদে নির্বাচন করছেন ১৯ জন, সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে ৩৮১ জন এবং সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ১৪৯ জন। সর্বমোট ৫৪৯ জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
সংবাদ সম্মেলনে সুজন সভাপতি ও সাবেক তত্ত্বাবধায় সরকারের উপদেষ্টা এম হাফিজউদ্দিন খান বলেন, আসন্ন তিনটি নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে হবে কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ ও সংশয় রয়েছে। এর কারণ হলো নির্বাচন কমিশন সবার জন্য সমান লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে পারছে না। দেখা যাচ্ছে, সরকারি কর্মকর্তারা ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন, কিন্ত এক্ষেত্রে কমিশন কারো বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিচ্ছে না। তিনি আরো বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিরোধী নেতাকর্মীদের গ্রেফতার হয়রানি করা হচ্ছে। কমিশন সিটিগুলোতে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করছে না।
ড. তোফায়েল আহমেদ বলেন, চলতি বছর অনুষ্ঠিত নির্বাচনগুলোতে এক ধরনের নতুন প্রবণতা তৈরি হয়েছে। দেখা যাচ্ছে, কেন্দ্রের বাইরে তেমন সহিংসতা নেই, কিন্ত নির্বাচনটি হচ্ছে নিয়ন্ত্রিত। মানুষ ভোট কেন্দ্রে গিয়ে দেখছে যে, তার ভোট দেয়া হয়ে গেছে। আবার যে প্রার্থী এক লাখ বা দুই লাখ ভোট পাচ্ছেন তিনি এজেন্ট দিতে পারছেন না। তার মানে কী? সরকারি দল নির্বাচনে আগ্রাসী আচরণ করছে। তিনি আরো অভিযোগ করেন, সব প্রার্থী নির্বাচন কমিশনের ব্যয়সীমা অতিক্রম করেছে। কোনও প্রার্থী ব্যয়সীমার মধ্যে নেই। পাঁচ বছরে সিটি করপোরেশন বাজেটের চেয়ে বেশি অর্থ প্রার্থীরা নির্বাচনে জয়ের জন্য ব্যয় করছে।
সংবাদ সম্মেলনে তিন সিটি নির্বাচনে অংশ নিতে যাওয়া প্রার্থীদের তথ্য উপস্থাপন করেন সুজনের সমন্বয়ক দিলিপ কুমার সরকার। তিনি বলেন, প্রার্থীরা আয়, সম্পদ ও করের যে বিবরণ দিয়েছেন তা অনেকক্ষেত্রে সঠিক নয়। সম্পদের প্রকৃত মূল্য হলফনামায় উল্লেখ করা হয় না। সম্পদ অর্জনের সময় যে মূল্য থাকে তাই তুলে ধরা হয়। ফলে জনগণ প্রকৃত তথ্য পায় না। আবার কেউ কেউ তথ্য গোপন করে থাকে। এজন্য নির্বাচন কমিশনের উচিত হলফনামায় দেওয়া তথ্য যাচাইবাচাই করা। এ সময় প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশা, মামলা সংক্রান্ত তথ্য, আয়ের হিসাব, সম্পদের তথ্য, দায়-দেনা ও ঋণ সংক্রান্ত তথ্য, আয়কর তথ্য এবং বার্ষিক আয় উপস্থাপন করা হয়।
প্রার্থীদের শিক্ষাগত প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘তিন সিটি মিলে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের গন্ডি না পেরুনো প্রার্থীর হার ৪৪.৭০% অর্থাৎ ৫৪৮ জনের মধ্যে ২৪৫ জন। উচ্চ শিক্ষিতের ১৩৩ জন। উচ্চ শিক্ষিতের হার বরিশালে (২৬.৪৭%) এবং স্বল্প শিক্ষিতের হার সিলেটে বেশী (৫১.৭৯%)।
এছাড়া তিন সিটিতে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে ব্যবসায়ীদের হার ৫২.৩৭% (২৮৭ জন)। ব্যবসায়ীদের প্রতিদ্বন্দ্বিতার হার বরিশালে সবচেয়ে বেশী (৫৮.৮০%) এবং রাজশাহীতে সবচেয়ে কম (৪৮.৩৮%)। প্রার্থীদের মামলা সংক্রান্ত তথ্যের বিশ্লেষণ তুলে ধরে বলা হয়, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থীদের মধ্যে মামলা সংশ্লিষ্টতার হার বেশি।

বিডি-প্রতিদিন

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে