সাতক্ষীরায় দ্বীপ ইউনিয়ন গাবুরায়, ত্রাণ নয় বাঁধ চাই এলাকাবাসী

0
59

নিজস্ব প্রতিবেদক ঃ
বাংলাদেশের অর্থনীতি শক্তিশালী হওয়ার একটি অবলম্বন বাগদা চিংড়ী (হোয়াইট গোল্ড); যা রপ্তানি করে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা লাভ করে বাংলাদেশ।এই বাগদা চিংড়ীর অধিকাংশ আসে সাতক্ষীরা জেলা থেকে।আর গাবুরা সাতক্ষীরা জেলার বাইরে নয়।এখানে মানুষের জীবিকার একমাত্র উৎস বাগদা চিংড়ী। কিন্তু প্রতি বছর এভাবে ডুবে গেলে গাবুরার মানুষ কিভাবে বাঁচবে???

#সিডর #আইলা #মহসিন #ফণি #বুলবুল #আম্ফান

(প্রতি বছর ঘূর্ণিঝড় আসে, জলোচ্ছ্বাসে ভেঙে যায় দ্বীপ ইউনিয়ন গাবুরা।)

#সিডরঃ
২০০৭ সালে প্রবল বেগে আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় সিডর।ভেঙে যায় গাবুরার বেড়িবাঁধ।প্রচুর ক্ষতিগ্রস্ত হয় গাবুরাবাসীর।ক্ষতি পূরণ হতে না হতেই ২ বছর পরে চলে আসে আইলা।

#আইলাঃ
২০০৯ সালের ২৫ শে মে সোমবার আঘাত হানে মহা প্রলয়ঙ্কারী ঘূর্ণিঝড় আইলা।এই ঝড়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি গ্রস্ত হয় দ্বীপ ইউনিয়ন গাবুরাবাসী।ভেঙে যায় বেড়িবাঁধ, চোখের সামনে ভাসতে থাকে ঘরবাড়ি, গবাদিপশু, লোকজন।প্রায় ১০ ফুট পানি প্রবাহিত হয় গাবুরার বুক দিয়ে।সবচেয়ে ভয়ানক দৃশ্য মা-বাবার চোখের সামনে শিশুর মরদেহ।মারা যায় প্রায় ২৫-৩০ জন নারীপুরুষ।প্রায় ২ মাসের মতো জোয়ার ভাটা চলতে থাকে এই দ্বীপে।বাস্তুহারা হয়ে পড়ে লোকজন৷কিছু পরিবার আত্ম রক্ষার্থে চলে যায় শহরে, ভয়ে ভয়ে এখনো তারা ফিরে আসিনি গাবুরায়।তবুও জন্মভূমির প্রতি ভালোবাসায় জীবনবাজী রেখে বসবাস করছে গাবুরাবাসী।স্থানীয় নেতারা লোকজন নিয়ে ঠেকানোর মতো বাঁধ দিলেও গাবুরাবাসীর কপালে জুটেনি স্থায়ী বেড়ীবাঁধ।বলা হয়নি আইলার কথা মনে উঠলে ডুকরে কেঁদে উঠে গাবুরার লোকজন।ঝড়ের খবর শুনলেই বিনিদ্র রাত যাপন করে গাবুরাবাসী।

#মহসিনঃ
আইলা পরবর্তী সময় ২০১৪ সালে আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় মহসিন। এই ঝড়ে আইলার চেয়ে ক্ষতি তুলনামূলক কম হলেও সারা রাত বিনিদ্র যাপন করে গাবুরাবাসী।শঙ্কা আবার যদি আইলা আসে! ২ দিন থাকতে হয় আশ্রয়কেন্দ্রে৷এই ঝড়ে বাঁধ না ভাঙলেও ঘরবাড়ি ভাঙে মানুষের।

#ফণিঃ
২০১৮ সালে আসে বিগত ৪০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ফণী৷ এই ঝড়ের প্রকোপ থেকে রক্ষা পায়নি গাবুরাবাসী৷ প্রচুর ক্ষতি গ্রস্ত হয় দ্বীপ ইউনিয়ন গাবুরা।গাছগাছালি, শত শত ঘরবাড়ি ভেঙে যায় মানুষের।আশ্রয় কেন্দ্র থেকে বাড়িতে এসে সবাই মেরামত করতে থাকে ঘরবাড়ি।

#বুলবুলঃ
২০১৯ সালের শেষের দিকে আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল।এই ঝড়েও বাস্তুহারা হয়ে পড়ে গাবুরাবাসী।প্রচুর পরিমাণে ক্ষতি হয় গাবুরার।হাজার হাজার লোকের ঘরবাড়ি ভেঙে যায়।তলিয়ে যায় ঘেরভেড়ী।এই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারার আগেই আঘাত হানে মহা প্রলয়ঙ্কারী ঘূর্ণিঝড় আম্ফান।

#আম্ফানঃ করোনা ভাইরাস এর জন্য বাড়িতে বসে আছে সবাই, নেই কোনো কাজকর্ম।এমতাবস্থায় গাবুরাবাসীর একমাত্র সম্বল ঘের-ভেড়ী।ইতোমধ্যে রমজান মাসেই প্রবল বেগে আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় আম্ফান।ভেঙে গেছে শত শত ঘরবাড়ি।ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী শুরু হয়েছে জলোচ্ছ্বাস।ভেঙে গেছে ওয়াপদা রাস্তা (বেড়িবাঁধ), প্লাবিত হয়ে আছে গাবুরা ইউনিয়ন।এমতাবস্থায় গাবুরা বাসীর কি হবে???

ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছে এলাকাবাসী

“ত্রাণ নয়, টেকসই বেড়িবাঁধ চাই।”-গাবুরাবাসী।

Leave a Reply