উভয় সংকটে পড়তে যাচ্ছে বাংলাদেশ-সমাজকর্মী মোঃ মাজহারুল ইসলাম

0
147

করোনা পরিস্থিতি একদিকে যেমন বিশ্ববাসীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে অন্যদিকে ক্ষুধামন্দায় ভূগছে বিশ্ববাসীর লাখো লাখো মানুষ। ক্ষুধার জ্বালায় যে কষ্ট পাচ্ছে সে একাই কষ্ট পাচ্ছে কিন্তু করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তি একদিকে যেমন নিজে বিপদের সম্মুখীন হয়েছে অন্যদিকে নিজ পরিবার এবং সমাজকে আক্রান্ত করছে। বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে করোনায় উদ্ভুত বিভিন্ন সমস্যার মোকাবেলা হিমশিম খাওয়াটা স্বাভাবিক বিষয়। যেখানে উন্নত রাষ্ট্রগুলোতেই কর্মী ছাটাই, কর্মহীন হয়ে পড়াসহ বিভিন্ন ধরণের সমস্যা দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশের মত একটি অনন্নুত থেকে উন্নয়নশীল দেশে রাপন্তিত হতে যাওয়া দেশটির পক্ষে এই সমস্যা মোকাবেলা করে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এছাড়া রাজনৈতিক অস্থিরতা, নৈতিক অবক্ষয় এবং সামাজিকভাবে মূল্যবোধের অধ্বপতনের কসাঘাতে যুদ্ধ করে যাচ্ছে, সেখানে নতুন বিপর্য সত্যিকারেই নাড়া দিচ্ছে রাষ্ট্রকে। সরকার করোনা পরিস্থিতিতে যেসকল পদক্ষেপ নিয়েছে, সেগুলো কারোনা মোকাবেলায় পর্যাপ্ত না হলেও রাষ্ট্রের সামর্থ্য অনুযায়ী চেষ্টার ত্রুটি বললে তা কার্পণ্য করা ছাড়া কিছুই বলা হবে না। রাষ্ট্র করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে যত প্রদক্ষেপই গ্রহণ করুক না কেন, আমি একজন সমাজকর্মী হিসেবে বলবো, এই ক্ষেত্রে আমাদের প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব রযেছে। এই দায়িত্ববোধ থেকে সবাই এগিয়ে আসতে হবে। করোনা প্রতিরোধে আতঙ্কিত না হয়ে একজন সচেতন নাগরিকের ভূমিকা পালন করতে হবে। আমাদের মনে রাখতে হবে, যেখানে উন্নতদেশগুলো চিকিৎসাব্যবস্থা উন্নত হওয়ার পরও মৃত্যর মিছিলে যোগ হচ্ছে হাজার হাজার মানুষ। সেখানে বাংলাদেশের মত উন্নয়নশীল দেশের মানুষ যেখানে দু’বেলা দু’মোঠু ভাত খেতেই অনেক কষ্ট পোহাতে হয়। তাই করোনা পরিস্থিতিকে আমাদের অবহেলা করে এটা ভাবার কোন কারণ নেই, কেউ কোরানা আক্রান্ত হলে চিকিৎসার মাধ্যমে ভালো হয়ে উঠবে সহজেই। আমাদের দেশের চিকিৎসাব্যবস্থা ও অর্থনৈতিক অবস্থা সবকিছু চিন্তা করে নিজের রক্ষার জন্য নিজেকেই সচেতন হতে হবে। আমরা কঠিন এক পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে আছি। আমাদের করোনা প্রতিরোধে চিকিৎসা ব্যবস্থার কথা চিন্তা করে করোনা আক্রান্ত রোগী বিস্তার প্রতিরোধে লকডাউন একমাত্র ব্যবস্থা এবং কার্যকরী পদক্ষেপ। যদিও লকডাউনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে ঘরে রাখতে রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন বাহিনী নিয়োজিত করতে হচ্ছে। তারপরও এটাই সঠিক পদক্ষেপ। কিন্তু আমাদের গ্রামীণ কাঠামোর অর্থনৈতিক অবস্থা চিন্তা করলে অন্য একটি চিত্র আমাদের সম্মুখে ভেসে উঠে। গ্রামের মানুষগুলো দু’বেলা দু’মোঠু ভাত খেতে পারতো না, তারা ঢাকা শহর’সহ বিভিন্ন শহরমুখী হওয়ায় নিম্নজুরীতে চাকরি করে হলেও ভাত খাওয়ার জন্য অভাব হতো না। কিন্তু লকডাউন হওয়াতে তারা হয়ে পড়ছে কর্মহীন। যেমনটি দেখা যাবে ক্ষুধার জ্বালা আইন মানে না। আমরা এ কথা বলতেই পারি, এই নিম্নশ্রেণির মানুষগুলোর কাছে, করোনা যতটুকু না কষ্টের হবে, তার থেকে না খেয়ে দিনাতিপাত করা বেশি কষ্টের দেখা দিবে। এই শ্রেণির বহুল জনগোষ্ঠির খাবার চাহিদা মিঠানোও রাষ্ট্রের একার পক্ষে সম্ভবও নয়। সেই বিষয়টি চিন্তা করে লকডাউন খোলে দিলে, তারা আবার আগের পেশায় ফিরে যাবে। ঐশ্রেণির মানুষগুলোকে যতই সামাজিক দূরুত্বের কথা বলি না কেন তা পালন করা কখনই সম্ভব হবে না। সিস্টেমের কারণেই তা পালন করা সম্ভব হবে না। তাদের জন্য ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম খোলে দিতে হবে, তেমনি বাজারে মুদির দোকান অবাধ খোলা রাখার ব্যবস্থা রাখতে হবে। তখন আর করোনা নিয়ন্ত্রণের কোন নিয়মই মানুষের পক্ষে মানা সম্ভব হবে না। এখন যে হারে মানুষ করোনায় আক্রান্ত হচ্ছে তখন এই করোনা আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যাটা জ্যামেতিক হারে বৃদ্ধি পাবে। এমন পরিস্থিতিতে আমরা বলতেই পারি, উভয় সংকটে পড়তে যাচ্ছে বাংলাদেশ । যে পরিস্থিতিটি বাংলাদেশের জন্য মোকাবেলা করা সত্যি একটি অগ্নিপরীক্ষার মত দাঁড়িয়েছে।

সার্বিক দিক বিবেচনা করে আমরা যদিও অনেক বিপদের আশঙ্কা পাচ্ছি, তারপরও বলার অবকাশ নেই আমাদের সবার সচেতন নাগরিকের ভূমিকা করতে হবে। গরিব অসহায় মানুষের পাশে শুধু রাষ্ট্র নয়, বিভিন্ন এনজি, সামাজিক সংঘটন এবং ব্যক্তিগত উদ্যোগে ধনাট্যব্যক্তিবর্গ এগিয়ে আসতে হবে। সবাই মিলে এই করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে। আমরা সবাই পজেটিভ চিন্তা করি, নিজেকে করোনায় থেকে রক্ষা করি, সাথে সাথে সমাজ ও নিজ পরিবারকে করোনার ভয়াবহ পরিণতি থেকে মুক্ত রাথি।

লেখকঃ সমাজকর্মী মোঃ মাজহারুল ইসলাম
চেয়ারম্যান ঃ এসো সচেতন হই সোসাইটি (এসই)
ই-মেইলঃ mazharulsust86@gmail.com

Leave a Reply