প্রবন্ধ: পরকীয়া । তারুণ্য বিডি ২৪ ডটকম

0
955

পরকীয়া
কবি: সুজাতা দাস (কোলকাতা)

ভালোবাসা শব্দটার মধ্যে একটা লুকানো কষ্ট আছে, যা খোলা চোখে তাকিয়ে দেখা যায় না; এটা একটা অনুভূতি।
ভালোবেসে কষ্ট পেয়েছিলেন শ্রী রাধিকা তার অন্তরে মাধব
ছিলেন সদা জাগ্রত,তবুও নিজের করে পাননি মধুসূদনকে;
মাধবকে না পাওয়ার কষ্ট তাকে পাগলিনি করেছিল,আসলে প্রেম মনে হয় একটা লুকানো অনুভূতি;কিন্তু লুকানো যায় না। বেরিয়ে আসে সর্ব সমক্ষে।
আমরা পরকীয়ার চর্চা করতে ভালোবাসি,আসলে অন্ধকার কে দেখতে ভালোবাসি আমরা;যে কারনে রুক্মিণী কৃষ্ণের কথা আমাদের আলোচনার বিষয়বস্তু হয় না;হয় রাধা-শ্যাম এর কথা।
আমরা এই পরকীয়া কে পূজার আসনে পর্যন্ত রেখেছি;রোজ পূজা ও করছি ,কেন?নিজেদের প্রেম ও ভালোবাসাকে মজবুত করবার জন্য?
আমার মতো অনেকের ই জানা নেই হয়তো।
ভালোবেসে কষ্ট পেয়েছিলেন মীরাও,তিনি নিজেকে লীন করতে পেরেছিলেন কৃষ্ণ অন্তরে;সামাজিক বিষ পান করতে পেরেছিলেন প্রেমাস্পদের নাম উচ্চারণ করতে করতে।
রাজনন্দিনী,রাজমহিষী হয়েও ভিখারিনি হতে পেরেছিলেন
কৃষ্ণ নাম কে সম্বল করে;জায়গা করতে পেরেছিলেন,লোক ভয়কে জয় করে মাধবের অন্তরে;যা আজও গাঁথা হয়ে আছে সেই মানবের অন্তরে মীরা বাই হয়ে।
এই পরকীয়াও আমরা শ্রদ্ধার সাথে উচ্চারণ করি কারণ
এখানে প্রেম বা ভালোবাসাই মূখ্য ছিল বাকি সব গৌন।
এতো গেল দ্বাপর যুগের কথা,এই যুগের একটু পিছনে গেলে দেখতে পাওয়া যাবে,জ্যোতিন্দ্রনাথ পত্নী কাদম্বরী আর কিশোর রবীন্দ্রনাথ কে,প্রায় সমবয়সী এই দ্বেবরটি কী ভাবে সমব্যথী ও বন্ধু হয়েছিলেন কীভাবে পরিপূরক হয়ে ছিলেন দুজনে দুজনার বলা মুশকিল;হয়তো ব্যবসার কাজে জ্যোতিন্দ্রনাথের বাইরে থাকার কারনে ।
রবীন্দ্রনাথ পেরেছিলেন এই সাখ্যতাকে পূরন করতে, কাদম্বরীর সাহচর্যে যে অমূল্য সাহিত্য সৃষ্টি হয়েছিল তা আজও অমূল্য সম্পদ হয়ে উজ্বল হয়ে আছে সারাবিশ্বে;
কাদম্বরীর করনেই মাত্র ১৬ বছর বয়সে রবি হতে পেরেছিলেন ভানুসিংহ;আর কাদম্বরী হয়েছিলেন আত্মঘাতী
রাবীন্দ্রিক চরিত্র কে হারাতে হয়েছিল বলে।
এই সখ্যতার অনেক বিতর্ক রয়ে গেছে সময়ের অতলে যার খোঁজ পাওয়া হয়তো সম্ভব হবেনা কখনও।
এমন ভূরি ভূরি প্রমাণ আছে পরকীয়ার যা আমাদের যানা,তাঁরা প্রত্যেকেই ভালোবেসে কষ্ট পেয়েছিলেন শুধু নিজের করে পাননি বলে।
স্ত্রী হিসেবেও না পাওয়ার কষ্টে ভুগেছেন রূক্মীনি,দ্রৌপদী আরও অনেকে কারন এদের পতিদের অন্তরে বাস করতেন তাঁদের প্রেমিকারা;এ যুগেও অনেক স্ত্রী আছেন যার স্বামীর অন্তরে বসবাস করেন অন্য নারী; আসলে পাওয়া কাকে বলে আমার জানা নেই;দুটো ভাগ বোধহয় আছে শারীরিক ও মানসিক।
কিন্তু যুগ যুগ ধরে আমরা নারীরা ঐকান্তিক ভাবেই পুরুষের সমস্তটাকেই কামনা করে এসেছি,যা বোধহয় দেওয়া কোনও পুরুষের ক্ষেত্রে সম্ভব হয়নি; না আগে না এখন।
আজও বোধহয় তাই পুরোপুরি না পাওয়ার আক্ষেপে পরকীয়ায় আশক্ত হয়ে পরছেন কিছু নারী পুরুষ না পাওয়াকে পাওয়ার খোঁজে;খুঁজে পেয়েও যান হয়তো কেউ কেউ,আবার সব হারিয়ে ফিরেও আসেন।
আসলে প্রেমটাকে নিষ্কাম রাখতে পারিনি নারীপুরুষ উভয়েই,শারীরবৃত্তীয় চাহিদা গুলোকেই পরিস্ফুট করে তুলেছি আমরা উভয়েই।
যা সমাজ সংসারকে অনেক নিচে নামিয়ে এনেছে আর আগে আরও নামবে;আসলে চাহিদা ,যেখানে লাগাম না দিতে পারলেই মুশকিল;সেটা শারীরিক ও মানসিক যাই হোক না কেন”তার কারনেই নামছি আমারা নিচে।
নামছে সমাজ সংসার,আমাদেরই মতো মায়েদের জন্ম দেওয়া কিছু পুরুষ হচ্ছে ধর্ষক আর নারী হচ্ছে ধর্ষিতা এটা চলতেই থাকবে আজীবন কাল ধরে।।
১৩/০৭/২০১৮ইং

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে