একবার খাবার দিলেই শেষ নয়, তাদের তিনবার খাবার প্রয়াজন-সমাজকর্মী মোঃ মাজহারুল ইসলাম

0
573

বাংলাদেশ মত উন্নয়নশীল দেশের মানুষগুলো যারা গ্রামে কোন কাজ পাচ্ছিল না, আবার তাদের স্থানীয় পর্যায়ে অন্যের কাছে হাত পাততেও লজ্জা পাচিছল তারাই ঢাকা শহরে এসো ভীড় করেছিল। করোনা ভাইরাসের মহামারি গোটা বিশ্বকে স্থবীর করে দিয়েছে। বাংলাদেশেও তার নেতিবাচক প্রভাব ভয়াবহ রুপ ধারণ করতে যাচ্ছে। যার প্রেক্ষিতে গ্রাম থেকে ঢাকায় ছুটে আসা ঐসকল ছিন্নমূল হয়ে পড়া মানুষগুলো অধিকাংশ সময় এখন না খেয়ে দিন পাড় করতে হচ্ছে। ঐসকল মানুষগুলো এখন শহরের রাস্তার বিভিন্ন মোড়ে তীর্থের কাকের মত প্রহরগুনতে থাকে কারো দেয়া খাবারের জন্য। আর যারা ফুটপাথে পলি টানিয়ে ঘর বানিয়ে বসবাস করে তারাও আজ না খেয়ে দিন পাড় করছে। এই সমস্ত মানুষগুলোর কথা চিন্তা করে ০৫-০৫-২০২০ রোজ মঙ্গলবার শিশুপার্ক, মৎসভবনের পাশে, মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলের পাশে আইডিয়াল জোন, মতিঝিল মডেল স্কুলের পাশ যারা পলি নাটিয়ে ঘর বেধে বসবাস করছে তাদেরকে এবং কাকরাইল, বিজয়নগর, জোনাকী হলের পাশে, ফকিরাপুল এবং আরামবাগ খাবারের জন্য বসে থাকা ঐসব মানুষগুলোর মাঝে ৩৫০ তেহারীর প্যাকেট বিতরণ করে সামাজিক সংঘটন ‘এসই’। এসই সরাসরি খাবার বিতরণের প্রতি গুরুত্ব দিয়ে যাচ্ছে। এসই এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান সমাজকর্মী মোঃ মাজহারুল ইসলাম বলেন, এইসব মানুষগুলো সহায় সম্বলহীন। ওরা এখন কারো না কারো খাবার দেয়ার জন্য অপেক্ষা থাকে। প্রতিদিনই কেউ না কেউ ওদের জন্য খাবার দেয়া পয়োজন। এটা ব্যক্তিগত উদ্যোগেও হতে পারে। এসই ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। তখন থেকই তিনি তার ব্যক্তিগত অর্থায়নে পরিচালনা করে আসছেন। দু’টি প্রোগ্রামসহ বিভিন্ন সচেতনতামূলক কাজ করে আসছেন। করেনা ভাইরাস উপলক্ষে ইতিমধ্যে বেশ অনেক কাজ করেছে ‘এসই’। তিনি আরো জানান, যেহেতু ব্যক্তিগত উদ্যোগে করে যাচ্ছেন, অর্থের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আজকের খাবার বিতরণের অর্থায়নের ক্ষেত্রে এসই ছাড়াও আরো একজন এগিয়ে আসেন। ‘এসই’ এর কার্যক্রম দেখে সমাজকর্মী মাজহারুল ইসলামকে বলেন, আপনি যেহেতু নিজের অর্থ দিয়ে মানুষের সেবা করে যাচ্ছেন, আপনার প্রতিষ্ঠান এসই এর মাধ্যমে আমাদেরকেও কিছুটা সেবা করতে দিন। তিনি আর না করিনি। তার নামটি উল্লেখ না করলেই নয়। কয়েকজন প্রাবাসী এবং ইঞ্জনিয়ার তারিক শাহরিয়ার তাঁর কয়েকজন বন্ধুবান্ধব। ইঞ্জনিয়ার তারিক শাহরিয়ার বা এসই এগিয়ে আসলেই হবে না। করোনা পরিস্থিতি একটি দীর্ঘ দিনের সমস্যা বলে মনে হচ্ছে। তাই সমাজের প্রত্যেকেরই এগিয়ে আসতে হবে। ব্যক্তিগত উদ্যোগেও কেউ কেউ এইসব অসহায় মানুষদের মাঝে খাবার বিতরণ করতে পারেন। খাবার তিরণের সময় সমাজকর্মী মোঃ মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘‘কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান একবার খাবার দিলেই শেষ নয়। যারা অসহায় তাদের তিনবার খাবার প্রয়োজন। সুতরাং সরকারের দীর্ঘমেয়াদী একটি সুনিদিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।”
করোনা ভাইরাস সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে ঐসব মানুষদেরকে একটি নির্ধারিত জায়গায় রেখে খাবার দেয়ার ব্যবস্থা করার জন্য সরকারের প্রতি আহŸান জানান সমাজকর্মী মোঃ মাজহারুল ইসলাম। তিনি আরো একটি মতামত প্রকাশ করে বলেন, ঐসব অসহায়দের মধ্যে যারা ছিন্নমূলক রয়েছে তাদেরকে সরকার কর্তৃক এমন ব্যবস্থা করা হউক যারা নির্দিষ্ট কয়েকটি রাস্তায় বা জায়গায় বসে থাকবে, তাতে যারা খাবার দিবেন তারা সহজেই খাবার বিতরণ করতে পারবেন এবং বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ভাগ করে খাবার দিতে পারবেন। তাতে সব অসহায় মানুষগুলো খাবার পাবে।
উল্লেখ্য, ক’দিন আগে কমলাপুর ঠোকাইদের মাঝেও খাবার বিতরণ করে এসই। এসই এর প্রতিষ্ঠাতা জানান, করোনা পরিস্থিতিতে ‘এসো সচেতন হই সোসাইটি (এসই)’ এর এইসব চলমান কার্যক্রম থাকবে। করোনা পরিস্থিতিতে সামনের দিনগুলোতে আরো কঠিন সময় পার করতে হবে এইসব অসহায় মানুষদের। ধনাট্য ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে ওদের জন্য এগিয়ে আসতে হবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে