রাণীশংকৈলে দোকান প্রতিষ্ঠান কর্মচারীদের ত্রাণ দিলেন মেয়র আলমগীর

0
91

মনসুর আহাম্মেদ ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি
ঠাকুরগাঁও রাণীশংকৈল পৌর মেয়র আলমগীর সরকারের বিরুদ্ধে কয়েকদিন আগে সংগঠনের দুই নেতাকে বাড়ীতে ডেকে মারপিট করার অভিযোগ তুলেন শ্রমিকরা ।
সেই অভিযোগকারী দোকান প্রতিষ্ঠান ও কর্মচারী শ্রমিক ইউনিয়নের ২৩৫ জন কর্মহীন শ্রমিকের মাঝে আজ খাদ্য সামগ্রী(ত্রাণ)বিতরণ করলেন পৌর মেয়র আলমগীর সরকার।
মডেল স্কুল প্রাঙ্গণে ৩ মে রোববার বিকালে সেলুন নাপিত ইউনিয়নের ৬৫জন কর্মহীন শ্রমিকসহ মোট তিনশ কর্মহীন শ্রমিকের মাঝে খাদ্য সামগ্রী চাল আলু ও করলা বিতরণ করেন তিনি।
ত্রান বিতরণকালে কাউন্সিলর ইসাহাক আলী, দোকান প্রতিষ্ঠান ও কর্মচারী শ্রমিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি সুমন বসাক, সাধারণ সম্পদক আনন্দ বসাক, কোষাধ্যক্ষ সাগর সাহা এবং সেলুন শ্রমিকের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। ত্রাণ পেয়ে সংগঠনের নেতা আনন্দ বসাক বলেন -আমার সব শ্রমিক ত্রাণ পেয়েছে আমরা অনেক খুশি। তাছাড়া সদ্য ঘটে যাওয়া মেয়রের সাথে ঘটনাটি অপ্রত্যাশিত। বিষয়টি আলোচনা করে সমাধান হয়ে যাবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
প্রসঙ্গতঃকরোনা পরিস্থিতিতে দোকান প্রতিষ্ঠান ও কর্মচারী শ্রমিক ইউনিয়নের শ্রমিকদের কর্মরত সকল দোকান বন্ধ থাকে। এতে শ্রমিকদের সংসার চালাতে কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়। তারা দোকান মালিকদের নিকট বেতনভাতার দাবী জানিয়ে আসছিলেন। তারই পরিপ্রেক্ষিতে দোকান মালিকরা দোকান কর্মচারীদের এক হাজার টাকা করে দিয়েছেন।
কিছুদিন যেতে না যেতেই পুনরায় শ্রমিকরা বেতন ভাতার দাবী জানিয়ে আসছিলেন। এই আন্দোলনে দাবী আদায়ে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন তাদের সংগঠনের সভাপতি প্রদীপ সম্পাদক আনন্দ বসাক ও কোষাধ্যক্ষ সাগর সাহা।
করোনা পরিস্হিতিতে বেতন ভাতার দাবীতে আন্দোলনে যেতে চাইলে পৌর মেয়র তাদের কাছে গত ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত সময় চেয়ে অনুরোধ করেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা প্রশাসনের কাছে ২১ এপ্রিল ত্রান নেন তারা।
এবং ২২ এপ্রিল মেয়রকে দেওয়া কথা অনুরোধ উপেক্ষা করে কর্মচারী শ্রমিকরা পৌরশহরের বন্দর চৌরাস্তা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন।
ঘন্টাব্যাপী সড়ক অবরোধ করার পর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা চেয়ারম্যানের আশ্বাসে তারা তাদের আন্দোলন স্থগিত করে সড়ক ছেড়ে দেন।
এর ধারাবাহিকতায় ২৪এপ্রিল পৌর মেয়র আলমগীর সরকার দোকান মালিকদের সাথে কর্মচারীদের দাবী নিয়ে শ্রমিকদের নিয়ে তার বাড়ীতে বৈঠকে বসেন।
সেই আলোচনা বৈঠক থেকেই কর্মচারী শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ও কোষাধ্যক্ষকে মারপিট করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয় মেয়র আলমগীর সরকারের বিরুদ্ধে।
এ নিয়ে শ্রমিকরা আন্দোলনে নামেন মানববন্ধনও করেন পৌর মেয়রের বিরুদ্ধে। শ্রমিকরা আন্দোলন করলেও মেয়র আলমগীর মারপিটের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। প্রশাসনের নিকট ঘটনাটি সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষী ব্যক্তির শাস্তির দাবী জানিয়েছিলেন।

Leave a Reply