‘বাবা-মায়ের ডিভোর্সে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় শিশুরা’ । তারুণ্য বিডি ২৪ ডটকম

0
731

তারুণ্য বিডি ২৪ ডটকম: প্রত্যেক ডিভোর্সে বাচ্চারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় জানিয়ে হাইকোর্ট জানিয়েছে, বিচ্ছেদ হওয়া মা-বাবাকে একসাথে কাছে পেতে ছোট্ট দুই শিশু ধ্রুব ও লুব্ধ আদালতে যে অনুভূতি প্রকাশ করেছে সেটা এই সমাজের প্রতি একটা বার্তা। আজ বুধবার বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলম সমন্বয়ে গঠিত একটি হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ এ কথা জানান।

২০০২ সালে রাজশাহীর মেয়ে কামরুন্নাহার মল্লিকা এবং মাগুরার ছেলে মেহেদী হাসানের বিয়ে হয়। মল্লিকা পেশায় স্কুল শিক্ষিকা আর মেহেদী বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা। তারা দুই সন্তানের বাবা-মা। তবে একপর্যায়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মনোমালিন্যের সৃষ্টি হয়। গত বছরের মে মাসে নোটিসের মাধ্যমে বিয়ে বিচ্ছেদের প্রক্রিয়া শুরু করেন তারা। তবে এর কিছুদিন আগে দুই সন্তানকে মাগুরায় গ্রামের বাড়ি পাঠিয়ে দেন মেহেদী। বড় ছেলের বয়স এখন ১২ বছর আর ছোট ছেলের ৯ বছর।

বোনের তত্ত্বাবধানে মাগুরা জেলা শহরের একটি স্কুলে সন্তানদের ভর্তি করিয়ে দেন মেহেদী। এর মধ্যে প্রায় এক বছরেরও বেশী সময় ধরে দুই সন্তানের দেখা পাননি মা মল্লিকা। শেষ পর্যন্ত সন্তানদের নিজ হেফাজতে নেয়ার জন্য হাইকোর্টে আবেদন করেন মল্লিকা। এ আবেদনের পর গত ২৯ মে শিশু দুটিকে হাইকোর্টে হাজির করতে সংশ্লিষ্ট পুলিশ ও বাবা মেহেদীকে নির্দেশ দেন আদালত।

গত ২৫ জুন তাদের হাজির করতে বলা হয়। ২৫ জুন হাজির হলে দীর্ঘদিন পর মুখোমুখি হওয়ায় সন্তান ও মায়ের কান্নায় আদালতে এক হৃদয় বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ওই দৃশ্যে বিচারপতি, আইনজীবী ও উপস্থিত সাংবাদিকরাও আবেগপ্রবণ হন। একপর্যায়ে আদালতের জিজ্ঞাসার জবাবে বড় ছেলে বললেন-‘আমরা আর কিছু চাই না। বাবা-মাকে একত্রে দেখতে চাই।’

বড় ছেলের এমন বক্তব্যের পর বাবা-মাকে নিয়ে খাস কামরায় কথা বলেন আদালত। পরে আদেশে আদালত বলেন, আজ ৪ জুলাই (বুধবার) পর্যন্ত শিশু সন্তান দুটি মায়ের হেফাজতে থাকবে। তবে এই সময়ে পিতা শিশু দুটির দেখাশোনা করার অবারিত সুযোগ পাবেন। আজ শিশু দুটিকে হাজির করার নির্দেশ দিয়ে বিষয়টি ওইদিন মুলতবি করা হয়।

আদালতে মেহেদী হাসানের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী তাপস কান্তি বল। আর মল্লিকার পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।

আইনজীবী রুহুল কুদ্দুস কাজল সাংবাদিকদের বলেন, আজ আদালতে বাবা-মাসহ বাচ্চা দুটি উপস্থিত ছিলেন। আদালত আমাদের কাছ থেকে জানতে চেয়েছেন উনাদের দুজনের পারিবারিক ও দাম্পত্য জীবন পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে অগ্রগতি কত দূর। আমরা বলেছি যে, আর একটু সময় লাগবে। সন্তানের মায়ের পক্ষ থেকে বলেছি, মা ওপেন আছেন। বাবার পক্ষ থেকে তার আইনজীবীও বলেছেন, সন্তানের ভালোর জন্য বাবাও মেনে নেবেন। আমাদের এ বক্তব্য আদালত শুনে আগামী ১ আগস্ট পরবর্তী তারিখ রেখেছেন।

বিডি প্রতিদিন

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে