বৃদ্ধাশ্রম

0
988

বৃদ্ধাশ্রম
এখনকার বহুল প্রচলিত একটা নাম,সত্যি ই কী প্রয়োজন আছে? বৃদ্ধাশ্রমের।

সুজাতা দাস (কোলকাতা)

বৃদ্ধাশ্রমের একটা ছোট্ট ঘর,বড়জোর আট/আট;
উদাস চাহুনি আর কিছু টুকিটাকি কাজ নিজের!!!
জীবনের ষাট বছর আনন্দে হাসি খেলায়—–
কাটানোর পর একদিন হঠাত্ পাল্টে যাওয়া।
যেদিন টুকটুকে লাল চেলিতে এসেছিলেম,স্বামীর
হাত ধরে নিজের সংসারে,আজো আছে সতেজ”
বুকের অন্তঃস্থলে,অনেক স্মৃতির ভীরে হয়নি”
এখনও মলিন—–
কখনও ছিলনা পাওয়া না পাওয়ার হিসেব,
ছিল” নিজে না খেয়ে অপরকে খাওয়ানো;
ছিল” অনেক আশা আকাঙ্ক্ষা, ছিল অনেক”
ভালোবাসার সন্তান—
ছিল অনেক স্বপ্ন পূরণের স্বপ্ন,ছিল অনেক উচ্চাশা;
নিজের খোকা একদিন হবে মানুষের মত মানুষ,
যার হবে পাহাড় প্রমান ডিগ্রি,আর হবে বিশাল মানুষ।
বিশাল মানুষ তো হলেন খোকা; কিন্তু মানবিকতা বোধ
হলনা তৈরি,হল অনেক নাম আর ডিগ্রি।
এরই মাঝে চলে গেলেন হাত ধরে নিয়ে আশা মানুষটি;
সমস্ত আশা সাথে নিয়ে,তারপরেই প্রয়োজন পরলো
আমাদের দক্ষিণের ঘরখানি,আর তো প্রয়োজন নেই।
একা মানুষ,ভাবলাম মনে কী আর প্রয়োজন;অনেক ছাড়ার মধ্যে এটাও একটা ছাড়া।
জায়গা হলো ছাদের চিলেকোঠায়,তারপর একদিন কোনও অছিলায় পুরানো আসবাবের সাথে বের করে ফেলে দেওয়া।
জায়গা হলো এই ঘরটিতে যেখানে চারিদিকে তাকালে নেই কোনও আমার হারানো স্মৃতি।
যেখানে শুধুই প্রতীক্ষা,তাকিয়ে থাকা কখন আসিবে ডাক
ওপারের—
যেখানে শুধুই চোখের জল আর বিষন্ন স্মৃতির আনাগোনা,
না আছে পাখিদের কলতান;না আছে ভালোবাসার গান।

সত্যিই কী প্রয়োজন আছে বৃদ্ধাশ্রমের?
একটু কী ভালোবাসা আর মর্দাযা পাওয়ার আশা
রাখতে পারেন না আমাদের পিতা মাতা;যারা কোনও
স্বার্থ ছাড়াই মানুষ করতে চেয়েছিলেন তাদের
ভালোবাসার সন্তান কে।

আমার এক ছোট্ট ভাই এর অনুরোধের জন্য এই লেখা,খুশি করতে পারলাম কিনা আমার জানা নেই।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে