অনুরণন (ধারাবাহিক গল্প) পর্ব – ৭ এবং শেষ পর্ব । তারুণ্য বিডি ২৪ ডটকম

0
926

অনুরণন
সুজাতা দাস (কোলকাতা)
(ধারাবাহিক গল্প) পর্ব –৭ এবং শেষ পর্ব

অনেক দিন অর্জুনের কোনও খবর নেই ,সেদিন সকালে চলে যাবার পরে আর আসেনি মোহরের কাছে।
এরই মধ্যে দমদমের কাছে একটা ছোট্ট Flat বুক করে ফেলল মোহর।
লোন সংক্রান্ত ব্যাপার আর অন্যান্য খোঁজখবর সব কিছুই অংশুমান দা মানে বর্ণালীদির Husband ব্যবস্থা করেছেন;
মোহরকে কোনও কষ্টই করতে হয়নি ফ্ল্যাট এর ব্যাপারে।
ফ্ল্যাট এর চাবিটা হাতে পাওয়ার পর একটা অন্য আনন্দ ছড়িয়ে পড়লো মোহরের মনে অনেক দিন পরে।
একদিন নতুন ফ্ল্যাট এর তালা খোলার সময় পরিচয় হয়ে গেল পাশের ফ্ল্যাট এর মেহুলির সাথে, খুব ভালো গল্প করতে পারে; মোহরের মতো কম কথা বলা মানুষের সাথেও সুন্দর ভাবে বন্ধুত্ব তৈরি করতে পারলো মেহুলি, আর মোহরের কষ্ট গুলোর সাথে একাত্ম।
নিজেকে পাল্টাতে শুরু করল মোহর একটু একটু করে অর্জুনের কাছ থেকে বেরিয়ে আসার জন্য,একটা অপ্রতিরোধ্য দেওয়াল গড়ে তুলতে পারলো নিজের চারিপাশে ; যেখানে অর্জুনের হাত আর পৌছাতে পারবে না।
তখনই মিতিনের কথা মনে পড়ল,এই চরিত্রটিকে ভীষণভাবে পছন্দ করে মোহর ।
অনেক দিন বাদে মাকে খুব মনে পড়লো মোহরের,চোখ ভরে জলও উছলে পড়লো গাল বেয়ে; মনে মনে ভাবলো মা বাবা কে অবমাননা করবার এটাই ফল,যা মোহরকে পোড়াচ্ছে প্রতিনিয়ত নিজেকে শুদ্ধ করবার জন্য—-
কিন্তু একবারও কী মোহরকে ক্ষমা করতে পারলেন না এই এক বছরের মধ্যে !! একবারের জন্যও মনে এলো না মোহরকে!! মোহরও আর কখনও ফিরবে না বাবার বাড়ির দিকে প্রতিজ্ঞা করলো মনে মনে।
ভেবে ছিল অর্জুনকে পালটে ফেলতে পারবে ভালোবাসা দিয়ে, পারলো না” নিজেরই হয়তো ভালোবাসার খামতি ছিল ভাবলো মোহর।
যাকে ভালোবেসে মা বাবা কে ছেড়ে ছিল সে শুধু মোহরের শরীর টাকেই দেখেছিল,এটা বোঝার পরেও মোহর অর্জুনের সাথে ঘর করতে এলো; এবার ফেরার পালা যাওয়ার আগে কিছু বোঝাপড়া।
প্রায় প্রতিদিনই কিছু না কিছু জিনিস ওই ফ্ল্যাটে নিয়ে গুছিয়ে ফেলল মোটামুটি ; অফিস থেকে ফেরার পথে, এখন শুধু ফেরার অপেক্ষা,কারণ একদিন এই ফ্ল্যাটে অর্জুনের সাথেই ঢুকেছিল মোহর; কেউ ছিল না বরণ করে নেবার জন্য আর আজ ও কেউ নেই আটকানোর জন্য ।
একটা খেলাঘর যেখানে মুখ্য চরিত্ররাই মানানসই নয়, তাই ভেঙে পড়াটাও কোনও ভাবে আটকানো গেল না।
এরই মধ্যে একদিন অর্জুন এলে কোনও রকম কথা কাটাকাটি ছাড়াই দুজনেই ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলো, হয়তো অর্জুনের ও আর দরকার ছিল না মোহর কে।
চলে এলো মোহর আবার মোহর চ্যাটার্জি হয়ে দমদমের এই ছোট্ট ফ্ল্যাটে এ যেখানে কোনও অসম্মানের ছোঁয়া রইলো না।
চার বছর হয়ে গেছে মোহর দমদমের এই Flat এ এসেছে, Divorce পেতে ও অসুবিধা হয়নি কারন অর্জুন ও তাই চেয়েছিল;মমতাদি আজও মোহরের সাথেই আছে ছেড়ে যায় নি।
সকালে আসে রাতে যায় মমতাদি,একাচলার অভ্যাস অর্জুন থাকতেই তৈরি হয়ে ছিল,তাই অসুবিধা হলো না মোহরের।
মাঝে মাঝেই ঐ স্বপ্ন টা দেখে মোহর ,ভয় পাওয়ার মুহুর্তে দুটো হাত শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বাঁচানোর জন্য মোহরকে; কিন্তু প্রথম ভালোবাসাকে এখনও ঠিকমতো কাটিয়ে উঠতে পারেনি বলে ঐ শক্ত হাত দুটোকে খোঁজার চেষ্টা করেও দেখেনি মোহর” হয়তো কোনও দিন খুঁজেও দেখবে না মোহর চ্যাটার্জি।
নিজের অনুভূতির অনুরণনের মধ্যে দিয়ে প্রতি রাতে নিঃসঙ্গ মোহর ,ঘুম কে কাছে পাবার জন্য এভাবেই মেলে ধরবে নিজেকে আমাদের কাছে বারে বারে……………….
সমাপ্ত ……….
এই গল্পটির নাম ও আমি (অনুরণন) ই রাখলাম কারন এটা মোহরের জীবন তারের মূর্ছনা বলেই আমার মনে হয়েছে;
ধন্যবাদ সকল বন্ধুকে যারা আমাকে তাদের অমূল্য সময়ের কিছুটা দিয়েছেন, ধন্যবাদ দেব সকলকে আমার সাথে সাথ দেবার জন্য ।। সুজাতা দাস (কোলকাতা)

অনুরণন আগের পর্ব গুলো পড়তে ক্লিক করুন নিচের লিঙ্কে

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে