অনুরণন (ধারাবাহিক গল্প) পর্ব – ৬ । তারুণ্য বিডি ২৪ ডটকম

0
999
কবি: সুজাতা দাস (কোলকাতা)

অনুরণন
সুজাতা দাস (কোলকাতা)
(ধারাবাহিক গল্প) পর্ব –৬

অন্ধকারের মধ্যে ই উঠে মোহর দরজা খুলে জিজ্ঞাসা করবার মুহূর্তে অনুভব করলো দুটো শক্ত হাত শক্ত করে জড়িয়ে আছে ওর শরীরটাকে।
সকালে অসহ্য যন্ত্রণা নিয়ে যখন ঘুম ভাঙল কান্নায় ভেঙে পরলো মোহর;একটা শ্নেহের পরশে চমকে উঠলো মোহর, চমকে উঠে তাকিয়ে দেখলো কাজ করতে চলে এসেছে মমতা দি।
মোহরের জিজ্ঞাস্যু চোখের দিকে তাকিয়ে বলল,অর্জুন দাদা বাবু এই বেড়িয়ে গেলেন।
মোহর তাড়াতাড়ি উঠে স্নানে চলে গেল,wash roomএর আয়নায় নিজের বিধ্বস্ত আর আচরের সুস্পষ্ট চিহ্ন গুলো মনে করিয়ে দিলো বিভীষিকাময় গত রাতের কথা।
শাওয়ারের জলের সাথে চোখের জল মিশে একটা অন্য স্বাদ এনে দিল মোহরের মুখের ভিতরে,যা শরীরের ভিতরের জ্বালাকে কিছুটা হলেও প্রশমিত করতে পারলো মোহরের।
কান্নাকে বইতে দিলো মোহর কিছুক্ষণ, স্নান সেরে বেরিয়ে দেখলো মমতাদি চা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে ।
মোহর কে wash room থেকে বেরিয়ে আসতে দেখে
ঘরে চা রেখে বেরিয়ে গেল ঘর থেকে মমতা।
চা খেয়ে রেডি হয়ে নিল মোহর, কলেজে যেতে হবে ;তৈরি  হয়ে টেবিলে চলে এলো ;এরই মধ্যে মমতাদি সব গুছিয়ে ফেলেছে।
সকালে দুধ কন্ফেলক্স খেতেই ভালোবাসে মোহর কিন্তু আজ কিছু খেতে পারলো না।
মমতা টিফিন কৌটোটা এগিয়ে দিতে দিতে বলল,কিছুই তো খেলে না দিদি!!তোমার কী শরীর খারাপ?
একটু, বলল মোহর তারপর বেড়িয়ে গেল কলেজের  জন্য।
একটা অন্যমনস্কতার মধ্যেই ক্লাস নিল মোহর;একটা অবসতা সারাদিন ঘিরে রইলো মোহর কে।
হঠাত্ Statistics Department এর বর্ণালীদি জিজ্ঞাসা করলো তোর কী শরীর খারাপ লাগছে মোহর?
একটু ,বলল মোহর তেমন কিছু নয়।
তোকে খুব বিধ্বস্ত লাগছে মোহর Principal কে বলে বাড়ি চলে যা বলল বর্ণালীদি।
দেখছি, বলে Teachers’room এ ঢুকে পড়লো তাড়াতাড়ি মোহর।
চেয়ারে বসে বসে ভাবলো সত্যিই আর এভাবে থাকা যাবে না,এবার নিজের জন্য একটা আলাদা ব্যবস্থা করতে হবে;এভাবে একটা মৃত সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কোনও মানে নেই যেটা শুধুই দেহসর্বস্ব।
উঠে principal এর কাছে গেল মোহর,10মিনিট বাদে সব গুছিয়ে Teachers’room থেকে বেরতেই দেখা হয়ে গেল নতুন join করা অমিতাভ চৌধুরীর সাথে।
একটু হেসে বললেন কী ম্যাডাম বাড়ি যাচ্ছেন?পাশ কাটিয়ে বেড়িয়ে এলো মোহর  একটু হেসে,একটু যেন গায়ে পড়া ভাবলো মোহর মনেমনে।
বাড়ি ফিরে দেখলো মমতাদি সব গুছিয়ে রেখে গেছে খাওয়ার টেবিলে,সব ফ্রিজে তুলে দিয়ে দুধ কন্ফেলক্স খেয়ে বিছানায় চলে গেল;কাল রাতের কোনও চিহ্ন পাওয়া গেল না বিছানায়,নিশ্চিন্তে শুয়ে ঘুমিয়ে পড়ল মোহর।
হঠাত্ প্রচন্ড জোরে এক ধাক্কায় গড়িয়ে পড়তে থাকলো মোহর, বাঁচার চেষ্টায় প্রানপনে দুহাতে অবলম্বন খুঁজতে থাকলো মোহর;কোনও অবলম্বন খুঁজে না পেয়ে যখন নিজেকে ছেড়ে দিল অতল খাদের মধ্যে ঠিক তখনই একটা শক্ত হাত মোহরের হাত দুটোকে ধরে নিল শক্ত হাতে —-
প্রচন্ড ভয়ে ঘামে ভিজে জবজবে অবস্থায় ঘুমটা ভেঙে  গেল মোহরের,একটা অদ্ভুত অনুভূতি শরীরের মধ্যে  ছড়িয়ে পরতে থাকলো মোহরের;এখনও সত্যি বলে মনে হচ্ছে মোহরের অদ্ভুত স্বপ্নটাকে।
এমন অদ্ভুত স্বপ্ন কেন দেখলো ভাবতে থাকলো মোহর,হাত দুটো কার?কে অতল খাদ থেকে মোহর কে বাঁচানোর চেষ্টা করছে?অনেক ভেবেও স্বপ্নের মানে উদ্ধার করে উঠতে পারলো না মোহর।
ঘড়িতে রাত 11টা বাজে,হাত বাড়িয়ে গল্পের বইটা নিল শেষ টুকু শেষ করবার জন্য, পরতে শুরু করলো মোহর;কারন আবার ঘুম কখন আসবে মোহর নিজেও যানে না………..
               ক্রমশ …………….চলবে..
অনুরণন আগের পর্ব গুলো পড়তে ক্লিক করুন নিচের লিঙ্কে

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে