মির্জাপুর নাসির গ্লাস ওয়্যার ফ্যাক্টরিতে অগ্নিকান্ড; ৬০০ কোটি টাকার ক্ষতি !

0
589

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায় অবস্থিত নাসির গ্লাস ওয়্যার ফ্যাক্টরিতে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় ৬০০ কোটি টাকার ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির জেনারেল ম্যানেজার ফজলুর রহমান।

মঙ্গলবার সময় আনুমানিক ১টা ১০মিনিট। হঠাৎ করেই আগুনের ধোয়া দেখা যায় ফ্যাক্টরির ভেতরে। তখন দ্রুত উক্তস্থানে গিয়ে দেখা যায় প্রচন্ড আগুন। প্রতিষ্ঠানটি থেকে দুর্যোগ বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত কয়েকজন কর্মী আগুন নেভানোর চেষ্টা চালায়। কিন্তু সময় যতো পার হয় আগুনের ভয়াবহতা আরও বৃদ্ধি পেতে থাকে। এ বিষয়টি লক্ষ করে মির্জাপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যদের খবর দেয়া হয়। খবরটি শুনতে পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুইটি ইউনিট আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। আগুন বৃদ্ধি পাওয়াতে কালিয়াকৈর, বাসাইল, টাঙ্গাইল থেকে আরও চারটি ইউনিট এসে এ আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। প্রায় ১ঘন্টা কাজ করার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা।

এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির জেনারেল ম্যানেজার মোঃ ফজলুর রহগমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের জানান, দূর্ঘটনাটি ঘটার সঙ্গে সঙ্গেই আগুন নেভানোর কাজ শুরু করা হয়। তাৎক্ষণিক ফায়ার সার্ভিসকেও খবর দেয়া হয়। মূলত গ্লাস তৈরি করার জন্য যে মেল্ডিং হয় সেটিকে ফারনেস বলা হয়। আর ফারনেস থেকেই আগুনের সুত্রপাত ঘটে।সুত্রমতে, ফারনেসের ভেতরে গলিত গ্লাস লিকুইড আকারে থাকে। লিকুইড আকারে গলিত গ্লাসগুলো ফারনেসের ভেতর থেকে আলাদা হওয়ার ফলেই এ দূর্ঘটনাটি ঘটে বলে জানা গেছে। ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ফ্যাক্টরির অধিকাংশ ইউনিটের যন্ত্রাদি পুড়ে যাওয়ার ফলে উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। ফ্যাক্টরি থেকে প্রায় ৬মাস উৎপাদন করা সম্ভব হবে না বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারি পরিচালন মোঃ মনির হোসেন বলেন, দূর্ঘটনার খবর পেয়েই আমাদের দুইটি ইউনিট কাজ করতে থাকে। এ ক পর্যায়ে যখন আগুন ভয়াবহতা বৃদ্ধি পেতে থাকে তাৎক্ষণিক আরও চারটি ইউনিট আনা হয়। ছয়টি ইউনিট কাজ করে প্রায় এক ঘন্টা কাজ করার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। আগুন নেভানোর পরও আগুনের তীব্রতা বেশি থাকার কারণে দুইটি ইউনিট আরও বেশ কয়েক ঘন্টা পানি দেয়ার কাজ করে বলে জানান এই কর্মকর্তা।

জুয়েল হিমু
ভিন্নবার্তা, টাঙ্গাইল

Leave a Reply