এখনও দেশে ২ কোটি মানুষ অভুক্ত থাকে: মেনন । তারুণ্য বিডি ২৪ ডটকম

0
689

তারুণ্য বিডি ২৪ ডটকম: ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেছেন, দেশে হত দারিদ্রের হার ১২-৯ শতাংশে নেমে আসার পরও বাংলাদেশে ৪ কোটি লোক দরিদ্র। ২ কোটি লোক অভুক্ত থাকে। পুষ্টি ঠিকভাবে পায় না। তার চেয়ে বড় কথা দেশে আয় বৈষম্য বেড়েছে বিপুলভাবে।

জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে সোমবার ২০১৮-১৯ অর্থ বছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন তিনি। এসময় অধিবেশন সভাপতিত্ব করেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।

রাশেদ খান মেনন বলেন, ২০০৯-১০ সালের বাজেট বক্তৃতায় আমি সেই বাজেটকে ‘প্রো-পুত্তর’ প্রো পিপল বলেছিলাম। কিন্তু তারপর প্রতিবছরই বাজেট বড়লোকদের দিকে হেলে পড়েছে। এবার আরও বেশি। তাদের জন্য বড় বড় ছাড় দেয়া হয়েছে। গরিব-মধ্যবিত্তের সঞ্চয়কে টান দেয়ার চেষ্টা হয়েছে। এবারের বাজেটে সঞ্চয় সার্টিফিকেটের সুদের হার হ্রাস করার কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। তবে ভবিষ্যতে কমানো হবে না সে নিশ্চয়তাও দেয়া হয়নি। অর্থমন্ত্রী করপোরেট ট্যাক্স কমানোয় বাজেটে সবচেয়ে সুবিধা পেয়েছেন ব্যাংক মালিকরা। অথচ এই ব্যাংক সেক্টরে চলছে অবাধ লুটপাট। ঋণ খেলাপ ও অর্থপাচারের মহোৎসব। আর এই লুটপাটের খেসারত দিতে হচ্ছে দেশের মানুষের। করের টাকা থেকে ব্যাংক ঘাটতি মূলধন পূরণ করা হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানের ২২ পরিবারের কাছে আত্মসমর্পণ করেননি। আর এখন ব্যাংকার্স এসোসিয়েশন ঠিক করে দিচ্ছে সিআরআর কত হবে, ঋণের সুদ কত হবে, আমানতের সুদ কত হবে। অর্থ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক এখন ঠুঁটো জগন্নাথ। তিনি বলেন, নির্মূল করতে হবে দুর্নীতি। চুনোপুটিতে থামলে চলবে না, রাঘব রোয়ালদের জালে আটকাতে হবে। তাদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করতে হবে।

ওয়াকার্স পার্টির সভাপতি বলেন, বিএনপি নির্বাচনে আসবে। বেগম জিয়ার মুক্তির আন্দোলন দূরে থাক, বিএনপির আহ্বানে কোন আন্দোলনেই জনগণ মাঠে নামবে না। তাই বলে আমাদের নিজের অন্যায়গুলোর বিষয়ে আমরা যেন চোখ বুঝে না থাকি। বাড়ি-জমি-প্রতিষ্ঠান দখল, মানুষের সাথে অন্যায় আচরণ, টেন্ডারবাজি, চাকরি বাণিজ্য, ঘুষ দুর্নীতি মানুষকে তিতবিরক্ত করে ফেলেছে। অসৎ ব্যবসায়ী, অসৎ আমলা, অসৎ রাজনীতিবিদের চক্র সব জায়গায় তৎপর। সুবচন ক্রমাগত নির্বাসনে। উন্নয়ন যেমন জনগণকে আস্থাশীল করে, তেমনি এ ধরণের আচরণ মানুষকে দূরে সরিয়ে দেয়। আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় প্রধানমন্ত্রী সবাইকে হুশিয়ারি করেছেন এব্যাপারে।

এসময় তিনি মাদকের গড়ফাদারদের বিচারের আওতায় এনে তাদের মৃত্যুদণ্ডের দাবি জানান। তিনি বলেন, জঙ্গিবাদের পর মাদকবিরোধী অভিযান চলছে। বন্দুকযুদ্ধ এর সমাধান নয়। সমজা কল্যাণমন্ত্রী বেকারদের কর্মসংস্থানের দাবি জানান। তিনি সরকারি চাকরিতে তাদের বয়স ৩৫ বছর ও অবসরের বয়স ৬২ বছর করারও প্রস্তাব করেন।

বাজেট আলোচনায় আরো অংশ নেন, সরকারি দলের আ ফ ম বাহাউদ্দিন (নাছিম), সাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সাহারা খাতুন, আবুল কালাম আজাদ, মুহা: ইমাজ উদ্দিন প্রামাণিক প্রমুখ।

বিডি প্রতিদিন

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে