ভাঙ্গুড়ায় নজরদারির অভাবে চলছে সিন্ডিকেটে রমরমা নিষিদ্ধ ঘোষিত গাইড বাণিজ্য।

0
676

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় নজরদারির অভাবে চলছে সিন্ডিকেটে রমরমা নিষিদ্ধ ঘোষিত গাইড বাণিজ্য। এ উপজেলার প্রাথমিক, নিম্ন মাধ্যমিক,মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের নোট গাইড বই বাজারের বই বিক্রেতা দোকান গুলিতে খোলা বাজারে সাজিয়ে তা অবাধে বিক্রি চলছে ।

এ নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের নেই কোন মাথা ব্যাথ্যা ও বিশেষ কোনো নজর দারি। ফলে গাইড ব্যাবসায়ীরা অতিরিক্ত মূল্য দরে বিক্রি করেছ নিষিদ্ধ ঘোষিত গাইড বই।বিপাকে পড়েছে মেধাবি শিক্ষার্থী ও নিম্ন আয়ের অভিভাবক বৃন্দ।তারা এর কোনো প্রতিকার পচ্ছেন না। ফলে তারা স্থানীয়ভাবে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছে ।

খোঁজ খবর নিয়ে জানা গেছে, এ উপজেলায় প্রাথমিক,নিম্ন মাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক মিলে প্রায় দেড় শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।এসকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এক শ্রেণির অসাধু শিক্ষক ও শিক্ষক সমিতির মাধ্যমে গাইড প্রকাশনির বিক্রয় প্রতিনিধির মাধ্যমে গাইড বিক্রেতা দোকান মালিকদের সহযোগিতায় গড়ে তুলেছে একটি বড় ধরনের সিন্ডিকেট।

আর বছরের শুরুর দিকে গাইড প্রকাশনীর বিক্রয় প্রতিনিধিরা বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অসাধূ শিক্ষক বা কখনো শিক্ষক সমিতির মাধ্যমে প্রতি শিক্ষার্থী হিসাব করে প্রতিষ্ঠানের ছাত্র বুঝে পাঁচ হাজার থেকে লাখ টাকা পর্যন্ত অগ্রিম দিয়ে থাকেন। এসময় তাদের হাতে ঔই সকল প্রকাশনীর গাইড বইয়ের তালিকাও দিয়ে দেন। আর এই সুযোগ হাত ছাড়া করতে চান না এক শ্রেণির অসাধু শিক্ষকরা। তাই ক্লাস শুরু হওয়ার সাথে সাথে তারা শিক্ষার্থীদের হাতে গাইড বইয়ের তালিকা ধরিয়ে দেন এবং তাদেরকে গাইড বই কিনতে চাপ প্রয়োগ করতে থাকে।

এদিকে গাইড বই কেনার ক্ষেত্রে শিক্ষর্থীরা অবাধ্য হলেই তাদের উপর চলে বিভিন্ন মানষিক নির্যাতন।
এসময় তাদেরকে ব্যবহারিকে নম্বর কম দেওয়া ও নির্ধারিত গাইড থেকে প্রশ্ন তৈরি করে মডেল টেস্ট পরীক্ষা নেওয়াসহ শিক্ষার্থীদের উপর বিভিন্ন ঝামেলার সৃষ্টি করে সংশ্লিষ্ঠ অসাধু শিক্ষকরা। তাই শিক্ষার্থীদেরকে অনেকটা বাধ্য হয়েই চড়া দামে গাইড বই কিনতে হয়।

এদিকে গাইড ব্যবসায়ীরা দোকানের মালিক সমিতির নামের এই সংগঠন করে কেহই গাইড বইয়ের দাম কম নেয় না। ফলে সবকিছু মিলে শিক্ষার্থীরা সিন্ডিকেটের শিকারে পড়েছে।
অথচ প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের নতুন বছরের শুরুতে সরকার বিনা মূলে পাঠ্য বই দিয়ে থাকেন। সেই সাথে তাদেরকে বাংলা ব্যাকরণ ও ইংরেজি গ্রামার বইও বিনা মূল্যে দেন। যার ফলে খোলা বাজার থেকে অতিরিক্ত গাইড বাই কেনার কোনো প্রয়োজন হয় না।

কিন্তু এক শ্রেণির অসাধু শিক্ষক সরকার প্রদত্ত বই না পড়িয়ে গাইড বাই পড়ানোর প্রতি বেশী ঝুঁকে পড়েছেন। এতে সৃজনশীল মেধা বিকাশে বাধাগ্রস্থ হচ্ছে বলে মনে করেন সচেতন মহল।
সরেজমিন, ভাঙ্গুড়া বাজারের মাস্টার লাইব্রেরী,ইসলামিয়া লাইব্রেরী ও শরৎনগর বাজারের মাহমুদ লাইব্রেরীতে গিয়ে দেখা যায়, আলফা,পাঞ্জেরী,অক্ষরপত্র, লেকচার, নবদূত, সিস্টেমেটিক , নতুন কুঁড়িসহ বিভিন্ন প্রকাশনীর গাইড বই বিক্রি হচ্ছে।

গাইড বাই কিনতে আসা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক বলেন, অনেকটা বাধ্য হয়েই মোটা অঙ্কের টাকায় গাইড কিনতে হচ্ছে। কারণ গাইড ছাড়া ছেলে স্কুলে যাবে না।
এবিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ সাইফুল আলম বলেন, শিক্ষার্থীদের গাইড বই পড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। সরকার প্রদত্ত বিনা মূল্যে পাঠ্য বই ঠিকমতো পড়াতে হবে এর ব্যতিক্রম করা যাবে না।

মোঃ রাজিবুল করিম রোমিও, ভাংগুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে