ধর্মপাশার আমানীপুর গ্রামে আশ্রয়ণ -২ প্রকল্পের আওতায় ব্যরাক নির্মাণকাজ দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে মানববন্ধন-

0
640

লিপু মজুমদার,ধর্মপাশা প্রতিনিধিঃ
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার বংশীকুণ্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের হাওর এলাকার আমানীপুর গ্রামে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ণ ২ প্রকল্পের আওতায় ব্যারাক নির্মাণ কাজ দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বুধবার (৫ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে আমানীপুর গ্রামের সামনের সড়কে বংশীকুণ্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নবাসীর ব্যানারে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে দেড় শতাধিক নারী পুরুষ অংশ নেয়। মানববন্ধনে বক্তব্য দেন বংশীকুণ্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের ১নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও রংচী গ্রামের বাসিন্দা আবদুস সালাম,২নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য ও দাতিয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা হোসেন আলী, ক্ষিদিরপুর গ্রামের বাসিন্দা আবদুল হক,আমানীপুর গ্রামের বাসিন্দা লালবানু,মোক্তার আলী, হারুন মিয়া প্রমুখ। বক্তারা বলেন, এই ইউনিয়নের আমানীপুর গ্রামে এখানকার ভূমিহীন, গৃহহীন, দুস্থ ও অসহায় মানুষদের জন্য বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ণ ২ প্রকল্পের আতওায় ব্যরাক (ভবন) নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কাজকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য স্থানীয় একটি কুচক্রী মহল এটি যাতে এই গ্রামে না হয় এ নিয়ে তাঁরা বিভিন্ন ফন্দি করে আসছে। এই গ্রামে এটি নির্মাণ হলে এলাকার মানুষজন খুবই উপকৃত হবে।ব্যারাক নির্মাণ বাস্তবায়ন কাজ দ্রুত শুরু করা উচিত।
উপজেলা প্রশাসন ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে,উপজেলার বংশীকুণ্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের আমানীপুর গ্রামের উত্তর পূর্ব পাশে সরকারি খাস ভূমি রয়েছে। এর মধ্যে দুই একর ৫০শতক জায়গায় বংশীকুণ্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের ভূমিহীন, গৃহহীন,ছিন্নমূল,দরিদ্র দুস্থ ও অসহায় এমন ৫০টি পরিবার বসবাসের উপযোগী করার জন্য ৫টি ব্যারাক (প্রতি ব্যারাকে ১০টি পরিবার) নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই জন্য উপজেলা প্রশাসন থেকে গত বছরের আগস্ট মাসের প্রথম দিকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন পাঠানো হয় এবং সেখানে মাটি ভরাটের জন্য বরাদ্দ চাওয়া হয়। প্রতিবেদন পাঠানোর পর ওই বছরের সেপ্টেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময়ে প্রধান মন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ণ ২ প্রকল্পের লোকজন এসে সেখানে ব্যারাক নির্মাণের জায়গাটি পরিদর্শন করে জায়গার পরিমাপ করে যান। এ অবস্থায় গত বছরের ১৮ডিসেম্বর ওই স্থানে মাটি ভরাট করার জন্য প্রধান মন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ণ ২ প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৩২২টন গম বরাদ্দ পাওয়া যায়। আশ্রয়ণ প্রকল্পে ব্যারাক নির্মাণের প্রস্তাবিত স্থানটিতে স্থানীয় ৭-৮জন ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে সরকারি জায়গা দখল করে অবৈধভাবে বোরো আবাদ করে আসছিল। এ অবস্থায় স্থানীয় একটি স্বার্থান্বেষী মহলের প্ররোচনায় আমানীপুর গ্রাম থেকে তা অন্যত্র স্থানান্তরের দাবিতে কতিপয় লোকজন গত ২ফেব্রুয়ারি মানববন্ধন করেন। গত ২ফেব্রুয়ারি মানববন্ধনে অংশ নেওয়া আমানীপুর গ্রামের গৃহিনী পারভীন আক্তার বলেন, আমরা গরীব মানুষ। যেন সরহারি ঘর অইবো হেনর সরহারি জায়গায় আমার স্বামী চাই বেশ কিছু জায়গায় ধান চাষ করছিল। না বুইজ্জা হেইদিন মানববন্ধনও আইছি। আমরার একটি ঘরের ব্যবস্থা অইলে স্বামী সন্তান লইয়া থাকতাম হারবাম।
বংশীকুণ্ডা দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান আজিম মাহমুদ বলেন,আমাদের ইউনিয়নের কোনো গুচ্ছ গ্রাম নির্মাণ করা হচ্ছে না। এই ইউনিয়নের আমানীপুর গ্রামে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ণ ২ প্রকল্পের মাধ্যমে ৫০টি পরিবারের জন্য ৫টি ব্যরাক( সেমি পাকা ভবন) নির্মাণ করা হবে। উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে স্থানীয় একটি স্বার্থান্বেষী মহল নানাভাবে এই কাজটি বাতিলের পায়তারা করে আসছিল। তারা এখন ব্যর্থ হয়েছে। আমরা সেখানে ভিট নির্মাণের কাজ শুরু করেছি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আবু তালেব বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ণ প্রকল্প ২ এর মাধ্যমে এই দুই একর ৫০শতক ভূমিতে ৫টি ব্যারাক (সেমি পাকাভবন) নির্মাণ করা হবে। ব্যারাক নির্মাণের জন্য নির্ধারিত হওয়া স্থানটিতে বেশ কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি অবৈধভাবে সরকারি খাস জায়গা দখলে ছিল। কেউ যদি সরকারি এই উন্নয়ন মূলক কাজে বাধা দান করে তাহলে যারা এটি করবে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ব্যারাক নির্মাণ শেষে বাইকে নিয়ে প্রকৃত গৃহহীন,ভূমিহীন,ছিন্নমুল,দরিদ্র ও দুস্থ পরিবারদের চিহ্নিত করে এই ব্যারাকের উপকারভোগী নির্বাচিত করা হবে। ##
লিপু মজুমদার
০৬.০২-২০২০

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে