ধর্মপাশায় হাওর রক্ষা বাঁধ ৭২ টি প্রকল্পে কাজ শুরু হয়নি

0
662

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোড (বাপাউবো) এর আওতাধীন সুনামগঞ্জের ধর্মপাশায় হাওরে ১৫৯টি পিআইসি রয়েছে। এ পিআইসি’র মাধ্যমে ১৫৯টি প্রকল্পের মধ্যে ৭২টি প্রকল্পে বাঁধেরকাজ এখনো শুরু হয়নি। নীতিমালা অনুযায়ী গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর থেকে ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ শুরু করে তা চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারীর মধ্যে শেষ করার কথা রয়েছে। এছাড়াও ৯৩টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) সদস্যদের এখনো পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে বরাদ্দের প্রথম কিস্তির টাকা দেওয়া হয়নি বলে জানাগেছে। এখনো ৭২টি প্রকল্পে কাজ শুরু না হওয়ায় নিদ্রিষ্ট সময়ে বাঁধের কাজ বাস্তবায়ন পিছিয়ে পড়েছে। এতে কৃষকদের দিন কাটছে ফসলডুবির শঙ্কায়। এ নিয়ে পিআইসি সদস্যদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার চন্দ্র সোনার থাল, সোনামড়ল, ধানকুনিয়া, জয়ধনা, কাইলানী, ঘোড়াডোবা, গুরমা ও গুরমার বর্ধিতাংশ এই আটটি হাওর সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে রয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী নিদ্রিষ্ট সময়ে কাজ শুরু করার কথা থাকলেও হাওর থেকে পানি নামছেনা ও বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে ফসলরক্ষা বাঁধের প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজ শুরু করা হয় ১৭ ডিসেম্বর। এ উপজেলার আটটি হাওরে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) সংখ্যা ১৫৯টি। বরাদ্দ ধরা হয়েছে ৩০ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। এর মধ্যে চন্দ্রসোনার থাল হাওরে ৫১টি, গুরমা ৩০টি, গুরমার বর্ধিতাংশ হাওরে তিনটি, ঘোড়াডোবা ১১টি, কাইলানী ১৭টি, ধানকুনিয়া সাতটি, জয়ধনা ১০টি, সোনামড়ল হাওরে ৩০টি প্রকল্প রয়েছে। গত শুক্রবার পর্যন্ত চন্দ্রসোনার থাল হাওরে ৪০টি, কাইলানী হাওরে ১২টি, গুরমার হাওরে ১০টি ও সোনামড়ল হাওরে ১০টি প্রকল্পে কাজ এখনো শুরই হয়নি।
এ দিকে বরাদ্দের প্রথম কিস্তি বাবদ ২ কোটি ৮১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে ছাড় দেওয়া হলে তা স্থানীয় সোনালী ব্যাংকে এসে জমা হয়। এই টাকা থেকে গত ২৩ জানুয়ারি পর্যন্ত এখানকার ১৫৯টি পিআইসির মধ্যে ৬৬টি পিআইসিকে বরাদ্দের প্রথম কিস্তির চেক বিতরণ করা হয়েছে। টাকার অভাবে অবশিষ্ট ৯৩টি পিআইসিকে এখনো প্রথম কিস্তির টাকা দেওয়া হয়নি। এ অবস্থায় পিআইসিদের প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজ অনেকটাই পিছিয়ে পড়ছে।
এ বিষয়ে হাওর বাঁচাও আন্দোলনের ধর্মপাশা উপজেলা কমিটির যুগ্ম-আহ্বায়ক আলা উদ্দিন জানান, উপজেলার আটটি হাওরের ১৫৯টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজের মধ্যে ৭২টি প্রকল্পে এখনো কাজ শুরু না হওয়াটা অত্যন্ত হতাশাজনক। দ্রুত ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ শুরু করা উচিত।
ধর্মপাশা উপজেলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবু তালেব জানান, বরাদ্দের প্রথম কিস্তির চেক পাননি এমন সব পিআইসিদের হাতে রোববার থেকে চেক তুলে দেওয়া হবে। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারীর মধ্যে এ উপজেলার হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ শেষ করার জন্য আমাদের সবরকম চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী ও ধর্মপাশা উপজেলা কাবিটার প্রকল্প বাস্তবায়ন ও মনিটরিং কমিটির সদস্য সচিব মাহমুদুল ইসলাম জানান, হাওর থেকে দেরিতে পানি নামার কারণে ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ কাজ শুরু করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে অবশিষ্ট পিআইসিরদের মধ্যে দ্রুত বরাদ্দের প্রথম কিস্তির চেক তুলে দেওয়া হবে।

ফসল রক্ষা বাঁধ পরিদর্শন করেন-বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমান
শামীম আহমদ তালুকদার, সুনামগঞ্জ থেকে
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা ও জামালগঞ্জ উপজেলায় বাস্তবায়নাধীন বিভিন্ন হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ পরিদর্শন করেছেন সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মশিউর রহমান। আজ বুধবার দিনব্যাপী ধর্মপাশা ও জামালগঞ্জ উপজেলাধীন বিভিন্ন উপজেলাধী হাওরে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক কাবিটা নীতিমালা-২০১৭ (সংশোধিত) অনুযায়ী বাস্তবায়িত বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ সরজমিনে পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড সুনামগঞ্জ এর নির্বাহী প্রকৌশলী বিভাগ- ১ সাবিবুল ইসলাম ,জামালগঞ্জ উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, প্রিয়াংকা পাল, ধর্মপাশা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আবু তালেব, সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানগণ, ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য, সংশ্লিষ্ট পিআইসি সভাপতি ও সদস্যগণ, স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

সুনামগঞ্জ সংবাদদাতা

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে