ধর্মপাশায় আমানীপুর গ্রামে বিদ্যালয়ের ভবন ও ছাত্র ছাত্রী নেই, ভূয়া তথ্যাদি দাখিল করে স্কুলটিকে সরকারিকরণের পায়তারা —

0
787

লিপু মজুমদার,ধর্মপাশা (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের হাওর এলাকার একটি গ্রাম আমানীপুর। এই গ্রামে নেই কোনো সরকারি বা বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। নেই কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবন ও ছাত্র ছাত্রী। বাস্তবে সেখানে বিদ্যালয়ের অস্তিত্ব না থাকলেও কাগজে কলমে আমানীপুর বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নামে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দেখানো হয়েছে। সেই বিদ্যালয়টিতে দেখানো হয়েছে একতলা পাকা ভবন, চারজন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও প্রয়োজনীয় উপকরণ। ভূয়া তথ্যাদি দাখিল করে এই প্রতিষ্ঠানটিকে সরকারি করণের জন্য পায়তারা করা হচ্ছে। এমন অভিযোগ এনে প্রতারণাকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে আজ রোববার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন উপজেলার বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো.আবদুল হেলিম।
এলাকাবাসী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,উপজেলার বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের আমানীপুর গ্রামে তিন চার বছর আগে একটি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয় এলাকাবাসী। ভবন নির্মাণ করার জন্য গ্রামবাসীরা মিলে সভাও করেছিল। পরে গ্রামবাসীরা স্কুল প্রতিষ্ঠা নিয়ে দুই দলে বিভক্ত হওয়ার সেখানে আর প্রতিষ্ঠানের ভবন নির্মাণ করা হয়নি। ভেস্তে যায় স্কুল প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম।ওই গ্রামে বিদ্যালয়ের নামে ভবন নেই। কাগুজে কলমে ওই বিদ্যালয়টিতে একজন প্রধান শিক্ষক, তিনজন সহকারী শিক্ষক, চারকক্ষের একতলার পাকাভবন, আটটি চেয়ার, পাঁচটি টেবিল, হাইবেঞ্চ ৩০টি ,লো বেঞ্চ ৩০টি.আলমীরা চক বোর্ড তিনটিসহ নানা ভূয়া তথ্য উপস্থাপন করে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি বিদ্যালয়টি দীর্ঘদিন ধরে সরকারিকরণের পায়তারা করে আসছেন।
বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের ১নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো.আবদুল হেলিম বলেন, আমাদরে গ্রামে ওই সরকারি বা বেসরকারি কোনো স্কুল নেই। নেই স্কুলের কোনো ভবন ও ছাত্র ছাত্রী। অথচ গত দুই বছর ধরে আমাদের ইউনিয়নের নোয়াগাও গ্রামের বাসিন্দা মো.আবদুল গণি নিজেকে আমানীপুর বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দাবি করে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে সরকারি বই উত্তোলন করে আসছে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কর্যালয়ের সহায়তায় ভূয়া তথ্যাদি উপস্থাপন করে ওই বিদ্যালয়টি সরকারিকরণের জন্য তিনি নানাভাবে ফন্দি ফিকির চালিয়ে আসছেন। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এসব বিষয় তদন্ত করে প্রতারণার সঙ্গে জড়িতদের বিরু্েদ্ধ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহরে দাবি জানাচ্ছি।
মো.আবদুল গণি বলেন, আমি কোনো প্রতারণা করছি না। আমাদের বিদ্যালয়টির ইমেসকোড রয়েছে। ১৯৯৮সালে এই বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আমাদের বিদ্যালয়ের ভবন ও অন্যান্য উপকরণ ছিল কিন্তু ঘূর্ণি ঝড়ে বিদ্যালয়টির ভবনসহ সবকিছু লন্ডবন্ড হয়ে গেছে। বেশ কয়েকমাস ধরে আমাদের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নাসির উদ্দিনের বাড়িতে ওই বিদ্যালয়ের নামে নির্মাণ করা একটি টিনের চেলা ঘরে বিদ্যালয়টির সার্বিক কার্যক্রম চালিয়ে আসছি। দুইবছর ধরে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে বই তুলে আসছি। এখন ৫০জন ছাত্র ছাত্রী আছে। তবে ছাত্র ছাত্রীদের তুলনায় কিছু বই অতিরিক্ত তোলা হয়েছে।
বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি নাসির উদ্দিন বলেন,আমার স্ত্রী ওই বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক। সে নিয়মিত স্কুল করছে। ছাত্র ছাত্রীও রয়েছে। এই গ্রামে স্কুল প্রতিষ্ঠা করা নিয়ে স্থানীয় এলাকাবাসী দুইভাগে বিভক্ত রয়েছেন। তাই একটি পক্ষ নানা গুজব রটাচ্ছে।
বংশীকুণ্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের ১নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আবদুস সালাম বলেন, আমানীপুর গ্রামে আমানীপুর বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নামে কোনো ভবন নেই, সেখানে কোনো ছাত্র ছাত্রীও নেই। তদন্ত করলে এর সত্যতা পাওয়া যাবে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আবদুল আউয়াল মিয়া বলেন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে কাউকে অনৈতিকভাবে কোনো সহায়তা করা হয়নি। আমানীপুর বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নামে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ছাত্র ছাত্রী ওই গ্রামে না থাকলে সরকারি এসব বই গুলো নিয়ে কী করা হচ্ছে তা খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেব।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আবু তালেব বলেন,এ সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ আমি পেয়েছি। তদন্ত করে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।##
লিপু মজুমদার

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে