কবিতা: জীবন দর্পণে। তারুণ্য বিডি ২৪ ডটকম

0
848

জীবন দর্পণে
মোঃ সুমন আফ্রিদি।

উৎসর্গঃ সমাজের অপসংস্কৃতির কবলে আসক্ত সেই সম্ভাবনাময় মেধাবী ছাত্র ছাত্রীদের প্রতি।

(সাহিত্য কথা পরিষদ এর ২৭শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, গ্রীষ্মকাল। ১০ ই জুন ২০১৮ ইং সেরা কবিতা )

আয়নার সামনে বসে বসে,
শুধু চেহারাটা দেখলাম।
জীবনের নক্ষত্র দিন গুলো কাটিয়ে দিলাম,
একি ভুল করিলাম!
একি ভুল করিলাম!
শৈশবে মায়ের কোলে
কত‌ই না ভাল ছিলাম,
ছিলাম লেখা পড়ায় মনোযোগী।
পড়ার টেবিল আর ডাইনিং টেবিল ছাড়া,
ছিলনা সুযোগ অন্য কোথাও পা বাড়াবার।
বিকেলের কিঞ্চিত অবসরে খেলার মাঠে ও
ছিলনা বন্ধু বান্ধব কেউ,
তখনো সঙ্গ দিত শুধু জ্ঞানের আলো।
সেই আলোয় আলোকিত হয়ে,
জ্বলে ওঠে ছিলাম সমাজের মাঝে।
মা বাবার গর্ব হয়ে,
কত‌ই না ভাল ছিলাম গুণী জনের দু’নয়নে।

হঠাৎ শুরু হল,বৈশাখী ঝড়।
ভেঙ্গে চুরমার করে দিল,
একে একে মোর গর্বের সমস্ত দেয়াল গুলো।
আধার চরিত্রের কিছু বখাটে ছেলে এসে,
জুটল আমার পাশে।
ঘটতে শুরু হল,
সমস্ত ধ্যান ধারণার পরিবর্তন।

ওরা রাম সাম বুঝাল-
কি লাভ হবে জ্ঞানের আলো দিয়ে?
দেখনা চেয়ে আমাদের দিকে,
আছি কত‌ই না সুখে,
খাচ্ছি বাবার হোটেলে,
ভোগ করছি যা ইচ্ছে।
বন্ধ কর তোর জ্ঞানের গ্রন্থ,
মাথায় তুলে নে এই মন্ত্র।
যদি চাস বাঁচতে,
চলে আয় আস্তে।
হাতে হাত রেখে,
চলবি বীরের বেশে,
দিব্বি আরাম করে স্বাধীন এই স্বপ্নের দেশে।

ওদের কথা শুনে চঞ্চল এই হৃদয়ে,
ভিড় করে বিভৎস অন্ধকারের ঢেউ।
ধ্বসে গেলাম আলোর জগত থেকে।
আজ আর খুঁজিনা মায়ের আদর,
আত্বভোলার মত কেটে যায় প্রতিটি প্রহর।
তবু ভাল‌ই লাগে,
ক্লাবের আড্ডা খানা আর নেশার জগত।
কিন্তু আজ,
ফিরতে পারিনা সেই নক্ষত্রের দিন গুলোতে।
হাতছানি দিয়ে আর ডাকে না আমার সোনালী ভবিষ্যৎ।

চেয়ে দেখি!
সেই মাস‌উদ আবীর যে আমার পাশের আসনে বসে,
ধ্যান মগ্ন হয়ে থাকত গুরুজনের লেকচারে,
আজ সে উর্ধ্বাকাশে প্রজ্বলিত ধ্রুবতারা মত জ্বলছে,
কোন এক শীতাতপনিয়ন্ত্রিত অফিস কক্ষ থেকে
বের হয়ে কাল স্মার্ট গাড়িতে চলছে।
মাস‌উদ আবীর সহ আরো কিছু বন্ধুদের সফলতা দেখে,
নিজেকে মেলে ধরি আয়নার সামনে,
মোর বিভৎস প্রতিচ্ছবি আয়নাকে করে দেয় কলঙ্কিত।
আফসোসের করুণ প্রতিধ্বনি ধ্বনিত হয় মোর ধ্যানে,
হায়! নিজেকে কি করিলাম জীবনের মাঝ পথে।
জীবনটা ছিল সুরভীত পুষ্পের মত,
এ পুষ্প প্রস্ফুটিত হত কোন এক পুষ্প কাননে,
সুরভী ছড়াত সমাজের চারিদিকে।
যদি রক্তমাখা কাল বর্ণ গুলো থাকিত,
নয়নে, শয়নে, স্বপনে।

সমাজের মেধাবী ছাত্র ছাত্রীদের প্রতি চিত্তাকর্ষণ,
মাঝ পথে থমকে যেইওনা আমার মতন।
আজ নিজেকে করিলেম আত্মনিবেদন,
দোআ করি ও,
যেন আবার গুণী জনের দু’নয়নে হতে পারি প্রিয়জন।
যেন ফিরে পায় সেই সোনালী ক্ষণ।
উত্তাপ মরুভূমির হাহাকার হয় যেন নিভারণ।
সমস্ত অপসংস্কৃতি থেকে,পায় যেন মুক্তি পণ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে