ব্রক্ষপুত্র চরে শত শত ভারতীয় মরা গরু, পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি

0
637

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে গরুর প্রতি অমানবিক আচরণ কোন ভাবেই কমছে না। দু’দেশের সীমান্তে নজরদারী বাড়ায় চোরাকারবারীরা গরু পাচারে বেছে নিয়েছেন ভিন্ন কৌশল। তারা রাতের অন্ধকার আর ঘন কুয়াশাকে কাজে লাগিয়ে কলা গাছ অথবা কাশ খড়ের ভেলার সাথে ৮/১০ টি করে গরুর পা বেঁধে একত্রে ভাসিয়ে দিচ্ছেন ব্রহ্মপুত্রের পানির স্রোতে। এতে করে গত এক মাস ধরে সীমান্তের ওপার থেকে ভেসে আসা গরুর মধ্যে শত শত গরু মৃত্যু বরণ করে পড়ে আছে কুড়িগ্রামের ব্রক্ষপুত্র নদের চরে। দুষিত হয়ে পড়েছে নদের পানিসহ পরিবেশ। এ অবস্থায় পরিবেশ রক্ষাসহ গরুর প্রতি এমন নির্মমতা বন্ধের দাবী জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এই অমানবিক দৃশ্য কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রারপুর ইউনিয়ের উপর দিয়ে প্রবাহিত ব্রহ্মপুত্র নদের ডুবো চরের। শুধু একটি দুটি চর নয়, নদের বুকে জেগে ওঠা ১০ থেকে ১২ টি ডুবো চরে পড়ে আছে শত শত মৃত গরু। বেশি লাভের আশায় ভারতীয় চোরাকারবারীরা ব্রহ্মপুত্র নদের প্রবেশ মুখ ভারতের কালাইয়ের চর উজান থেকে বাংলাদেশী চোরাকারবারীদের কাছে ¯্রােতে ভাসিয়ে দেয় এসব গরু। রাতের অন্ধকার এবং ঘন কুয়াশায় দু’দেশের সীমান্তরক্ষীদের চোখ ফাঁকি দিয়ে এসব গরু প্রবেশ করছে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে। কিছু গরু এদেশের চোরাকারবারীরা উদ্ধার করলেও দুষ্টির আড়ালে চলে যাওয়া গরুগুলো অতিরিক্ত ঠান্ডায় মারা পড়ছে। এসব মৃত গরু আটকা পড়ছে ব্রহ্মপুত্রর বিভিন্ন ডুবো চরে।

সরেজমিনে কুড়িগ্রাম সদরের যাত্রাপুর ইউনিয়নের চর যাত্রাপুর, চিরা খাওয়া, ঝুনকার চর, অষ্টআশির চর, রলাকাটার চরসহ বেশকিছু চরে ঘরে দেখা গেছে নদের দুই পাড়ের এসব ডুবো চরের কোনটিতে ৪০টি, কোনটিতে ২০টি, কোনটিতে ১০টি কোনটিতে ১৫টি এভাবে অগণিত মৃত গরু পড়ে আছে। এসব গরুর কোন কোনটির চামড়া সিলিয়ে নিয়ে গেছে স্থানীয় মুছিরা।

চর যাত্রাপুরের নৌকার মাঝি মো: কোবাদ মোল্লা জানান, চর যাত্রাপুরের ডুবো চরে গত চার/পাঁচ দিনে মৃত ৯টি গরু আটকা পড়েছে। উজানের চরগুলোতে আরো অসংখ্য মৃত গরু আটকে আছে।

একই এলাকার নৌকার আরেক মাঝি মো: শাহ্ আলম মিয়া জানান, আগে কাটাতারের উপর দিয়ে চাঙ্গে করে গরু পাচার হয়ে আসতো। এখন কড়া পাহারা ও বিএসএফ গুলির ভয়ে তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভারতের উজান থেকে গরুর পা বেঁধে কাশিয়ার বোঝার মধ্যে বেঁধে রাতে কুয়াশার মধ্যে নদের পানির ¯্রােতে ছেড়ে দিয়ে গরু পাচার করছে চোরাকারবারীরা। এসব গরুর যেগুলো বাংলাদেশের চোরাকারবারীরা ধরতে পারছে সেগুলো বেচে যাচ্ছে। আর যেগুলো ধরতে পারছে না সেগুলো পানিতে ডুবে ঠান্ডায় মারা যাচ্ছে। এই মৃত গরু গুলো ¯্রােতে ভেসে এসে ডুবো চরে আটকা পড়ছে।

চর ভগবতী পুরের জলিল মোল্লা জানান, তার বাড়ির পাশের দুইটি ডুবো চরে শতাধিক মৃত গরু পড়ে আছে। প্রতিদিনই এর সংখ্যা আরো বৃদ্ধি পাচ্ছে। এসব মরা গরু পচে পানি যেমন দুষিত হচ্ছে তেমনি মারাত্ম দুর্গন্ধে বাড়িতে থাকা যাচ্ছে না। আগে নদীর পানিতে গোসলসহ বিভিন্ন কাজ সারলেও এখন নদের পাড়েই আসা যাচ্ছে না।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো: আইয়ুব আলী সরকার জানান, যাত্রাপুর ইউনিয়নের অন্তত: ১০/১২টি ডুবো চরে অসংখ্য মৃত গরু আটকা পড়ে আছে। এতে করে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। এমন অমানবিকভাবে গরুর পা বেঁধে নদীর স্রোতে ভাসিয়ে গরু পাচার রোধে ব্যবস্থা নেয়ার পাশাপাশি মৃত গরুগুলো অপসারন করে পরিবেশ রক্ষারও দাবী জানান তিনি।
এব্যাপারে কুড়িগ্রাম ২২ বিজিবি’র পরিচালক মোহাম্মদ জামাল হোসেন বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, দু’দেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর কড়া নজর দারীর মাঝেও নদী পথে ভিন্ন কৌশলে দু’দেশের চোরাকারবারীরা গরু পাচার করায় অনেক গরু মারা যাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা সচেতন রয়েছি।

কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক মোছা: সুলতানা পারভীন জানান, এমন নির্দয় ভাবে গরু পাচার এবং গরুর মৃত্যুর ঘটনাটি শুনেছি। এব্যাপারে গরু পাচার রোধের পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া হবে।

এমন নির্দয়ভাবে গরু পাচার রোধসহ ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় পড়ে থাকা অসংখ্য মৃত গরু দ্রুত অপসারণ করে পরিবেশ রক্ষা এগিয়ে আসবে সংশিষ্ট কর্তৃপক্ষ এমনটাই দাবী এলাকাবাসীর।

এজি লাভলু/কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে