মেলান্দহে ইটভাটা ডেকে আনছে প্রাকৃতিক বিপর্যয়

0
619

জামালপুরের মেলান্দহে দেদার গড়ে ওঠেছে ইটভাটা।
নিয়মের তোয়াক্কা না করে হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি দপ্তর ও ঘনবসতি
এলাকায় ইটভাটাগুলো থাকায় পরিবেশ বিপর্যয়ের মুখে পুরো উপজেলা।
প্রভাবশালীদের মাধ্যমে ৩০টি ভাটা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, মেলান্দহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এলাকায় একটি,
সরকারি কলেজ ও মৎস্য খামার সংলগ্ন একটি, উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন একটি,
জালালপুর প্রাইমারি স্কুল সংলগ্ন একটি এবং কৃষিজমি ও বসতি এলাকায়
চারটি ইটভাটা গড়ে ওঠেছে।

অধিকাংশ ইটভাটা ফসলি জমি, বসতি এলাকা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও স্বাস্থ্যসেবা
এলাকায় হওয়ায় জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে। পরিবেশ বিপর্যয় দেখা দিচ্ছে।
ক্ষতিগ্রস্থ এসব এলাকায় ফসল উৎপন্ন বাধাসহ গাছের ফলনও কম হচ্ছে। মানুষের
চর্ম, চোখ ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা বাড়ছে। বিশেষ করে শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছে
বেশি। এদিকে ইটভাটার মালিকরা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কৃষকদের ফাঁদে ফেলে
ফসলি জমির টপসয়েল কেটে নিচ্ছে। ফলে উঁচু জমি পরিণত হচ্ছে জলাশয়ে।
ইটভাটার মালিকরা প্রভাবশালী ও রাজনীতি মদদপুষ্ট হওয়ায় প্রকাশ্যেই পরিবেশ
আইন লঙ্ঘন করলেও স্থানীয় প্রশাসনসহ পরিবেশ অধিদপ্তর কোনো ব্যবস্থাই
নিচ্ছে না।
বজরদ্দিপাড়া, উদনাপাড়া ও বুরুঙ্গা গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, নিয়মনীতির
তোয়াক্কা না করে বসতি ও ফসলি জমিতে কাছাকাছি আটটি ইটভাটা গড়ে
ওঠেছে। আশেপাশে জমিগুলোর টপসয়েল কেটে সারি সারি পুকুরে পরিণত করা
হয়েছে। কালো ধোয়ায় কমে গেছে ক্ষেতের ফসল। সুপারি ও নারিকেলসহ
বিভিন্ন মওসুমি ফলের উৎপন্ন নাই বললেই চলে, যা-ও হয় তার অধিকাংশই নষ্টÑ
এমনই অভিযোগ করলেন বজরদ্দিপাড়া গ্রামের কৃষক বাবুল মন্ডল।
উদনাপাড়া গ্রামের কৃষক আব্দুর রহিম জানান, তার বাড়ি ও ক্ষেতের মাঝখানে
ইটভাটা। এতে কমেছে ধান উৎপাদন। সারি সারি নারিকেল গাছ দাঁড়িয়ে
আছে, কোনো ফল ধরছে না। ডাবের ভেতরে কোনো পানি থাকে না। কালো
ধোয়ায় চরম সমস্যায় বাস করছি।
ওই গ্রামের ভেতরে ঢুকতেই দেখা যায় ভয়াবহ চিত্র। বজরদ্দিপাড়া ও বুরুঙ্গাপাড়ার
ইটভাটার জন্য মাটি কেটে নেয়া উদনাপাড়া থেকে। মাটি কাটার জন্য বসানো
হয়েছে বৃহৎ কাটার মেশিন। দিনরাত চলছে ফসলি জমির টপসয়েল ডাকাতি। স্তুপ
করে রাখা মাটি সারি সারি ট্রাক্টরে যাচ্ছে ইটভাটাগুলোতে। এ যেন দিনে-
দুপুরে ফসলি জমি উজারের মহোৎসব।

কৃষক গুনু মিয়ার অভিযোগ, তার জমির মাটি বিক্রি করা ছাড়া উপায় ছিল না।
কারণ পাশের ক্ষেতের মালিক মাটি দেওয়ায় তার ক্ষেতে পানি দেওয়া যায় না। ধানের
ক্ষেতের পানি সব নেমে যায়। বারবার ক্ষেতের আইল ভেঙে সীমানা হেরফের হয়ে
যায়। তাই জমি বাঁচাতে ক্ষেত নষ্ট করে পুকুর করতে তিনি বাধ্য হন। একই
ফাঁদে পড়েন বলে গ্রামের কৃষক জহুরুল হক, আব্দুল ওয়াদুদ, আব্দুল্লাহসহ
অনেকেই জানান। কৃষক আব্দুল্লাহ জানান, ইটভাটার মালিকরা পানির দামে
টপসয়েল নিচ্ছে। এক হাজার সেপটি মাটি মাত্র ১৫ হাজার টাকা।
জামালপুর উন্নয়ন সংঘের পরিচালক ও পরিবেশকর্মী জাহাঙ্গীর সেলিম বলেন,
ইটভাটায় এভাবে মাটি সাবাড় হতে থাকলে আবাদযোগ্য ১০ শতাংশ জমিও
থাকবে না। এতে পরিবেশ বিপর্যয়সহ খাদ্য সঙ্কট দেখা দেবে। জনস্বাস্থ্য রক্ষায়
ইটভাটার নিয়ম রক্ষা জরুরি।

এ ব্যাপারে মেলান্দহ উপজেলা নির্বাহী অফিসার তামিম আল ইয়ামীন বলেন,
মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে পল্লী উন্নয়ন একাডেমি ও জালালপুর স্কুল সংলগ্ন
ইটভাটা নির্মাণ স্থগিত করতে বলা হয়েছে। তবে চলমান অন্যান্য ইটভাটার
বিষয়ে তিনি সদুত্তর দেননি।

মেহেদী হাসান/জামালপুর

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে